hadith book logo

মসজিদে গমন শিষ্টাচার ও প্রভাব

লেখকঃ সালেহ ইবন হামেদ আর-রিফা‘ঈ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

২. প্রথম কাতারে সালাত আদায়ে উৎসাহ দান

অতঃপর সম্মুখভাগের কাতারের দিকে অগ্রসর হবে এবং প্রথম কাতারে ইমামের পেছেনে ডান পাশে অবস্থান করতে যত্নবান হবে। [ইবন হাজার, ফাতহুল বারী (২/২১৩)।] কেননা এ জন্য মহান আল্লাহর নিকট বিরাট প্রতিদান রয়েছে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন,

«لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الاوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاسْتَهَمُوا»

‘‘যদি মানুষ জানত আযান ও প্রথম কাতারে কী আছে তা সম্পর্কে, তারপর লটারী ব্যতীত তা নির্ধারণ করা সম্ভব না হতো, তবে তারা তা অর্জনের জন্য লটারী করতো”। ।ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। [সহীহ বুখারী (২/১৩৯), হাদীস নং ৬৫২; সহীহ মুসলিম (১/৩২৫), হাদীস নং ১৩৭।]

আশ্চর্য হলো, কিছু মানুষ আছে যারা এ বিরাট প্রতিদানকে অবহেলা করে চলেছে। তুমি তাদেরকে দেখবে যে তারা খুব আগেই মসজিদে আসে কিন্তু তারা মসজিদের মাঝখানে অথবা শেষে বসে পড়ে। প্রথম কাতারে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করা ছেড়ে দেয়। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا»

“পুরুষদের উত্তম সারি হলো প্রথম সারি এবং সর্বনিকৃষ্ট সারি হলো শেষ সারি । আর মহিলাদের উত্তম সারি হলো শেষটি এবং নিকৃষ্ট হলো প্রথমটি”। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। [সহীহ মুসলিম (১/৩২৬), হাদীস নং ৪৪০).]

অনুরূপভাবে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم قوماً في مؤخر المسجد فقال لهم تقدموا فأئتموا بي وليأتم بكم من بعدكم ولا يزال قومٌ يتأخرون حتى يؤخرهم الله»

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একদল লোককে মাসজিদের পিছনে অবস্থান করতে দেখে বললেন, বললেন: তোমরা এগিয়ে আস এবং আমার অনুকরণ করো। আর তোমাদের পরে যারা আছে তারা তোমাদের অনুকরণ করবে। কোনো গোষ্ঠী যখন পিছনে অবস্থান করতে থাকলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পিছনেই রেখে দিবেন”। ইমাম মুসলিম হাদীস টি বর্ণনা করেছেন। [সহীহ মুসলিম (১/৩২৫), হাদীস নং ৪৩৮।]

আশংকা করা হয় যে, ঐসব লোকদের ব্যপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত বক্তব্য প্রযোজ্য হয়ে যাবে, তিনি বলেন,

«لايَزَالُ قَوْمٌ يَتَاخَّرُونَ عَنِ الصَّفِّ الاوَّلِ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ الله فِي النَّارِ»

‘‘কোনো সম্প্রদায় যখন প্রথম কাতারে প্রবেশ করা থেকে বিলম্ব করবে তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বের করতে বিলম্ব করবেন”।[ইমাম আবু দাউদ (রহ.) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন।] [সুনানু আবী দাউদ (১/৪৩৮), হাদীস নং ৬৭৯); আর এটা সহীহ সুনান আবী দাউদ (১/১৩২), হাদীস নং ৬৩০।]

আর অধিক অবহেলাকারী হচ্ছে ঐসব লোক, যারা সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর ভেতরে প্রশস্ত শূন্য জায়গা থাকা সত্বেও বাইরের প্রশস্ত স্থানে বসে থাকে। এভাবে তারা নিজেদেরকে বিরাট প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করে; বরং কতিপয় আলেম ব্যক্তির মতে তাদের দ্বারা ইমামের ইকতেদা বা অনুসরণ-অনুকরণ করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। তাদের কারণেই মসজিদে প্রবেশের স্থান সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং অনেকের মনে এ ধারণা হয়ে যায় যে, মসজিদ পূর্ণ হয়ে গেছে।