hadith book logo

মসজিদে গমন শিষ্টাচার ও প্রভাব

লেখকঃ সালেহ ইবন হামেদ আর-রিফা‘ঈ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

মসজিদসমূহের গুরুত্বের বিষয়ে ভূমিকা

মসজিদসমূহের গুরুত্ব ও তার উত্তম মর্যাদা আমার মুসলিম ভাইদের কাছে অস্পষ্ট নয়। যেহেতু তা আল্লাহর ঘর। যে ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন:

﴿فِي بُيُوتٍ أَذِنَ ٱللَّهُ أَن تُرۡفَعَ وَيُذۡكَرَ فِيهَا ٱسۡمُهُۥ يُسَبِّحُ لَهُۥ فِيهَا بِٱلۡغُدُوِّ وَٱلۡأٓصَالِ ٣٦ رِجَالٞ لَّا تُلۡهِيهِمۡ تِجَٰرَةٞ وَلَا بَيۡعٌ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَإِقَامِ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِيتَآءِ ٱلزَّكَوٰةِ يَخَافُونَ يَوۡمٗا تَتَقَلَّبُ فِيهِ ٱلۡقُلُوبُ وَٱلۡأَبۡصَٰرُ ٣٧ لِيَجۡزِيَهُمُ ٱللَّهُ أَحۡسَنَ مَا عَمِلُواْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضۡلِهِۦۗ وَٱللَّهُ يَرۡزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيۡرِ حِسَابٖ ٣٨﴾ [ النور : ٣٦، ٣٨ ]

“সেসব ঘরে যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সকাল- সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বানিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় কোনোটিই আল্লাহর স্মরণ থেকে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সে দিনকে যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। যাতে তারা যে উত্তম কাজ করে তার জন্য আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কার দেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রাপ্যের বেশি দেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অপরিমিত জীবিকা দান করেন। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩৬-৩৮]

আল্লাহ আরো বলেন:

﴿وَأَنَّ ٱلۡمَسَٰجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدۡعُواْ مَعَ ٱللَّهِ أَحَدٗا ١٨﴾ [ الجن : ١٨ ]

“আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহ্‌র সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।” [সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ১৮]

আরো অন্যান্য আয়াতসমূহ যা মসজিদসমূহের মর্যাদা নির্দেশ করে এবং ইসলামে তার সুউচ্চ অবস্থান নির্ধারণ করে।

আরও যা তার গুরুত্ব বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা আগমণ করেন মুহাজির হিসেবে তখন তার সর্বপ্রথম কাজ যা তিনি করেছেন তা হলো মসজিদ নির্মাণ। আর এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদীসে মসজিদসমূহের গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণিত আছে। এ স্থানে সেসব বর্ণনা করলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«أَحَبُّ الْبِلَادِ إِلَى اللهِ مَسَاجِدُهَا »

‘‘আল্লাহর নিকট সর্বোকৃষ্ট স্থান হলো মসজিদসমূহ”। [সহীহ মুসলিম (১/৪৬৪), হাদীস নং নং ৬৭১।]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,

«مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ تَعَالَى - قَالَ بُكَيْرٌ : حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ : يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللهِ - بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ»

“যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ী নির্মাণ করেন।” [সহীহ মুসলিম (১/৩৭৮), হাদীস নং নং ৫৩৩।]

অতঃপর, হে আমার মুসলিম ভাই, তোমার উচিৎ হলো, মসজিদসমূহের মর্যাদা সম্পর্কে জানা, আর সেটাকে যথার্থ সম্মান করা। আর এটা এভাবে যে, তার আবাদ করা আল্লাহ তা‘আলার স্মরণের মাধ্যমে এবং সেখানে প্রশংসনীয় শিষ্টাচার প্রদর্শন করা, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য প্রবর্তন করেছেন। আর আমাদেরকে সার্বিকভাবে মসজিদসমূহে তা ধারণ করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন এবং সেখানে সর্বাগ্রে থাকবে দু’টি দু’টি পবিত্র মর্যাদাবান মসজিদ: মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববী। যেগুলোকে মহান আল্লাহ মার্যাদাবান করেছেন এবং এ উভয়টির মধ্যে অনেক মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন যা অন্য মসজিদসমূহে পাওয়া যায় না।

সুতরাং হে আমার মুসলিম ভাই, আপনার কর্তব্য হলো: যে ব্যক্তির জন্য মহান আল্লাহ উক্ত দু’টি মসজিদে পৌঁছা সহজ করেছেন এবং সেখানে সালাত আদায়ের তাওফীক দিয়েছেন সে যেন এ দু’টি মসজিদের অধিকার সম্পর্কে জানে এবং তার আঙিনায় উত্তম শিষ্টাচার অবলম্বন করে।

﴿ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ٣٢﴾ [ الحج : ٣٢ ]

“এটাই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এ তো তার হৃদয়ের তাকওয়া প্রসূত।” [সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৩২]

আর এসব শিষ্টাচারসমূহের কিছু অংশ এমন রয়েছে যা গৃহে করণীয়, কিছু অংশ মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার প্রস্তুতির সাথে সংশ্লিষ্ট, কিছু অংশ মসজিদে গমনের রাস্তার সাথে সম্পৃক্ত এবং কিছু অংশ মসজিদে প্রবেশ ও সেখানে অবস্থানের সাথে সংযুক্ত। যার বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরূপ: