১
হিল্লা বিয়ে
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
তাফসির ইব্ন আবু জামানিন আল-উন্দুলুসি :
الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (229) فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ (230) سورة البقرة .
الطَّلاقُ مَرَّتَانِ {তালাক দু’বার।} অর্থাৎ যে তালাকের পর স্বামী স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে, তার সংখ্যা দুইটি। وَلا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ {আর তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ, তা থেকে কিছু নিয়ে নেবে। তবে উভয়ে যদি আশঙ্কা করে যে, আল্লাহর সীমারেখায় তারা অবস্থান করতে পারবে না।} আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রী উভয়কে নির্দেশ দিয়েছেন, নারীর ব্যাপারে যদি এরূপ ধারণা করা হয় যে, স্বামীর প্রতি তার অনীহা রয়েছে, হয়তো সে স্বামীর অধিকারের ব্যাপারে আল্লাহর নাফরমানি করবে, অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক সে স্বামীর অধিকার আদায় করবে না, অথবা স্বামীর পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হয় যে, সে যদি স্ত্রীকে তালাক না দেয়, হয়তো স্ত্রীর উপর সে সীমালঙ্ঘন করবে, অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক সে স্ত্রীকে রাখবে না।
فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ {সুতরাং তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা কায়েম রাখতে পারবে না তাহলে স্ত্রী যা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেবে তাতে কোন সমস্যা নেই।} কাতাদা রহিমাহুল্লাহ বলেন : এখানে কর্তাব্যক্তিদের সম্মোধন করা হয়েছে। تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ {এটা আল্লাহর সীমারেখা।} তালাকের ব্যাপারে এটাই আল্লাহর নীতি ও নির্দেশ। فَلا تَعْتَدُوهَا {সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না।}
وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ {আর যে আল্লাহর সীমারেখাসমূহ লঙ্ঘন করে, বস্তুত তারাই যালিম।} তারা নিজেদের উপর নিজেরাই অত্যাচারী।
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا {অতঃপর সে (দ্বিতীয় স্বামী) যদি তাকে তালাক দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের অপরাধ হবে না যে, তারা একে অপরের নিকট ফিরে আসবে} কেউ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন : যদি দ্বিতীয় স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় অথবা মারা যায়, তাহলে স্ত্রী ও প্রথম স্বামীর পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াতে কোন পাপ নেই, যদি তারা উভয়ে পছন্দ করে।
“তাফসিরুল কুরআনির আজিজ” লেখক : ইব্ন আবি জামনিন আল উন্দুলুসি, (মৃ.৩৯৯হি.), প্রকাশক : আল-ফারুকুল হাদিসিয়াহ, দেশ : মিসর, প্রকাশকাল : ১৪২৩হি. মোতাবিক ২০০২ই. প্রথম প্রকাশ}
الطَّلاقُ مَرَّتَانِ {তালাক দু’বার।} অর্থাৎ যে তালাকের পর স্বামী স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে, তার সংখ্যা দুইটি। وَلا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ {আর তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ, তা থেকে কিছু নিয়ে নেবে। তবে উভয়ে যদি আশঙ্কা করে যে, আল্লাহর সীমারেখায় তারা অবস্থান করতে পারবে না।} আল্লাহ তাআলা স্বামী-স্ত্রী উভয়কে নির্দেশ দিয়েছেন, নারীর ব্যাপারে যদি এরূপ ধারণা করা হয় যে, স্বামীর প্রতি তার অনীহা রয়েছে, হয়তো সে স্বামীর অধিকারের ব্যাপারে আল্লাহর নাফরমানি করবে, অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক সে স্বামীর অধিকার আদায় করবে না, অথবা স্বামীর পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হয় যে, সে যদি স্ত্রীকে তালাক না দেয়, হয়তো স্ত্রীর উপর সে সীমালঙ্ঘন করবে, অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক সে স্ত্রীকে রাখবে না।
فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ {সুতরাং তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা কায়েম রাখতে পারবে না তাহলে স্ত্রী যা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেবে তাতে কোন সমস্যা নেই।} কাতাদা রহিমাহুল্লাহ বলেন : এখানে কর্তাব্যক্তিদের সম্মোধন করা হয়েছে। تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ {এটা আল্লাহর সীমারেখা।} তালাকের ব্যাপারে এটাই আল্লাহর নীতি ও নির্দেশ। فَلا تَعْتَدُوهَا {সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না।}
وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ {আর যে আল্লাহর সীমারেখাসমূহ লঙ্ঘন করে, বস্তুত তারাই যালিম।} তারা নিজেদের উপর নিজেরাই অত্যাচারী।
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا {অতঃপর সে (দ্বিতীয় স্বামী) যদি তাকে তালাক দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের অপরাধ হবে না যে, তারা একে অপরের নিকট ফিরে আসবে} কেউ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন : যদি দ্বিতীয় স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয় অথবা মারা যায়, তাহলে স্ত্রী ও প্রথম স্বামীর পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াতে কোন পাপ নেই, যদি তারা উভয়ে পছন্দ করে।
“তাফসিরুল কুরআনির আজিজ” লেখক : ইব্ন আবি জামনিন আল উন্দুলুসি, (মৃ.৩৯৯হি.), প্রকাশক : আল-ফারুকুল হাদিসিয়াহ, দেশ : মিসর, প্রকাশকাল : ১৪২৩হি. মোতাবিক ২০০২ই. প্রথম প্রকাশ}