১
হিল্লা বিয়ে
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
তিন. ইমাম আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন :
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ ".
আলি রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “হিল্লাকারী এবং যার জন্য হিল্লা করা হয় উভয়কে আল্লাহ তাআলা লানত করেছেন”। আবু দাউদ : (পৃ.৫৭২), হাদিস নং : (১৭৮১), আহমদ : (৬৩৫), তিরমিজি : (১১১৯), ইব্ন মাজাহ : (১৯৩৫) ও ইব্নুল জাওযি ফিল ইলালিল মুতানাহিয়া : (২/৬৪৭), এ হাদিসের সনদ দুর্বল।
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ‘আউনুল মাবুদ’ এর লেখক বলেন : হিল্লাকারী (অর্থাৎ অপরের তিন তালাক প্রাপ্তা নারীকে এ নিয়তে বিবাহকারী যে, সহবাসের পর তাকে তালাক দিবে, যেন তিন তালাকদাতা তথা পূর্বের স্বামী তাকে পুনরায় বিয়ের মাধ্যমে হালাল করে নেয়) সম্পর্কে কেউ বলেছেন, যেহেতু সে হালাল করার ইচ্ছা করেছে, তাই তাকে হিল্লাকারী বলা হয়। হাফেজ ইব্ন হাজার রাহিমাহুল্লাহ তার ‘তালখিস’ নামক গ্রন্থে বলেন : হাদিস বিশরাদগণ এর ভিত্তিতে দলিল দেন যে, যদি প্রথম স্বামী দ্বিতীয় স্বামীকে শর্ত করে বিয়ের পরই সে তার থেকে আলাদা হয়ে যাবে, অথবা শর্ত করে সে তাকে তালাক দেবে, অথবা এরকম অন্য কোন শর্ত করে, তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। এ হাদিস থেকে এ অর্থই হাদিস বিশারদগণ গ্রহণ করেছেন। ইমাম হাকেম রহ. ও ইমাম তাবরানি রহ. তার ‘আওসাত’ গ্রন্থে ওমর ইব্ন নাফে থেকে বর্ণনা করেন, সে তার পিতা নাফে সূত্রে বলেন :
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابن عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، فَسَأَلَهُ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاثًا، فَتَزَوَّجَهَا أَخٌ لَهُ، مِنْ غَيْرِ مُؤَامَرَةٍ مِنْهُ، لِيُحِلَّهَا لأَخِيهِ، هَلْ تَحِلُّ لِلأَوَّلِ؟ قَالَ : " لا، إلا نْكَاحُ رَغْبَةٌ، كُنَّا نَعُدُّ هَذَا سِفَاحًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ ". هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ
জনৈক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইব্ন ওমর রাদিআল্লাহু আনহুর নিকট আগমন করে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে, অতঃপর তার এক ভাই কোন পরামর্শ ছাড়াই তালাক প্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করে তার ভাইয়ের জন্য হালাল করার নিয়তে, এভাবে কি প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রী হালাল হবে ? তিনি বললেন : না, পছন্দ ও আগ্রহের বিয়ে ব্যতীত হালাল হবে না, আমরা এটাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যেনা বিবেচনা করতাম। আল-মুসতাদরাক লিল হাকেম : হাদিস নং : (২৭৩১) ইমাম খাত্তাবি রাহিমাহুল্লাহ ‘মাআলেম’ গ্রন্থে বলেন : {যদি এ বিয়ে সম্পাদিত হয় উভয়ের শর্ত মোতাবেক, তাহলে এ বিয়েই বাতিল, কারণ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এ চুক্তি শেষ হয়ে যাবে ‘মুতআ’ বিয়ের ন্যায়, আর যদি শর্ত না হয়, বরং নিয়ত ও বিশ্বাস থাকে অনুরূপ, তাহলে এটা মাকরুহ, যদি দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সহবাস করে অতঃপর তালাক দেয় এবং ইদ্দত শেষ হয়, তাহলে সে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হল। তবে উভয়ের হিল্লার ইচ্ছা গোপন রাখা অথবা হিল্লার নিয়ত করা অথবা কোন একজনের হিল্লার ইচ্ছা করা অনেক আলেমই হারাম বলেছেন, যদিও উভয়ে এর কোন শর্ত না করে। ইবরাহিম নখয়ি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন : ‘পছন্দ ও আগ্রহের বিয়ে ব্যতীত প্রথম স্বামীর জন্য তিন তালাক প্রাপ্তা নারী হালাল হবে না, যদি তিন ব্যক্তির কেউ প্রথম স্বামী অথবা দ্বিতীয় স্বামী অথবা নারী হিল্লার নিয়ত করে, তাহলে বিয়ে বাতিল, প্রথম স্বামীর জন্য নারী হালাল হবে না’। সুফিয়ান সাউরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন : ‘যদি কোন ব্যক্তি হিল্লার নিয়তে বিয়ে করে, অতঃপর তাকে রাখার ইচ্ছা করে, তাহলে এটা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়, যতক্ষণ না তাকে নতুনভাবে বিয়ে করে’। ইমাম আহমদ ইব্ন হাম্বলও অনুরূপ বলেছেন। মালেক ইব্ন আনাস রাহিমাহুল্লাহ বলেন : যে কোন অবস্থায় হোক উভয়ের মাঝে পৃথক করে দেয়া হবে।} খাত্তাবির কথা এখানেই শেষ। উভয়ে অভিশপ্ত এ জন্য যে, হিল্লাতে রুচি বোধ ও সম্মানের বিলুপ্তি ঘটে, আত্মমর্যাদা বিনষ্ট হয় এবং নিকৃষ্ট প্রকৃতি ও ইতর স্বভাব স্পষ্ট হয়, যার জন্য হিল্লা করা হয়, তার ব্যাপারে তো এসব স্পষ্ট, আর হিল্লাকারী এ জন্য যে, সে অপরের উদ্দেশ্য নিজেকে সহবাসের জন্য ভাড়া দেয়, কারণ যার জন্য হিল্লা করা হচ্ছে, তার সহবাসের উপযুক্ত করার জন্যই সে নারীর সাথে সহবাস করে। এ জন্যই তাকে ভাড়া করা পাঠার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কাদি আয়াদ সূত্রে মিরাকাতের লেখক এ উক্তি বর্ণনা করেছেন। ‘আউনুল মাবুদ’ হাদিস নং : (১৭৩৬), সংক্ষিপ্ত অনুবাদ।
আলি রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “হিল্লাকারী এবং যার জন্য হিল্লা করা হয় উভয়কে আল্লাহ তাআলা লানত করেছেন”। আবু দাউদ : (পৃ.৫৭২), হাদিস নং : (১৭৮১), আহমদ : (৬৩৫), তিরমিজি : (১১১৯), ইব্ন মাজাহ : (১৯৩৫) ও ইব্নুল জাওযি ফিল ইলালিল মুতানাহিয়া : (২/৬৪৭), এ হাদিসের সনদ দুর্বল।
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ‘আউনুল মাবুদ’ এর লেখক বলেন : হিল্লাকারী (অর্থাৎ অপরের তিন তালাক প্রাপ্তা নারীকে এ নিয়তে বিবাহকারী যে, সহবাসের পর তাকে তালাক দিবে, যেন তিন তালাকদাতা তথা পূর্বের স্বামী তাকে পুনরায় বিয়ের মাধ্যমে হালাল করে নেয়) সম্পর্কে কেউ বলেছেন, যেহেতু সে হালাল করার ইচ্ছা করেছে, তাই তাকে হিল্লাকারী বলা হয়। হাফেজ ইব্ন হাজার রাহিমাহুল্লাহ তার ‘তালখিস’ নামক গ্রন্থে বলেন : হাদিস বিশরাদগণ এর ভিত্তিতে দলিল দেন যে, যদি প্রথম স্বামী দ্বিতীয় স্বামীকে শর্ত করে বিয়ের পরই সে তার থেকে আলাদা হয়ে যাবে, অথবা শর্ত করে সে তাকে তালাক দেবে, অথবা এরকম অন্য কোন শর্ত করে, তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না। এ হাদিস থেকে এ অর্থই হাদিস বিশারদগণ গ্রহণ করেছেন। ইমাম হাকেম রহ. ও ইমাম তাবরানি রহ. তার ‘আওসাত’ গ্রন্থে ওমর ইব্ন নাফে থেকে বর্ণনা করেন, সে তার পিতা নাফে সূত্রে বলেন :
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابن عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، فَسَأَلَهُ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاثًا، فَتَزَوَّجَهَا أَخٌ لَهُ، مِنْ غَيْرِ مُؤَامَرَةٍ مِنْهُ، لِيُحِلَّهَا لأَخِيهِ، هَلْ تَحِلُّ لِلأَوَّلِ؟ قَالَ : " لا، إلا نْكَاحُ رَغْبَةٌ، كُنَّا نَعُدُّ هَذَا سِفَاحًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ ". هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ
জনৈক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইব্ন ওমর রাদিআল্লাহু আনহুর নিকট আগমন করে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে, অতঃপর তার এক ভাই কোন পরামর্শ ছাড়াই তালাক প্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করে তার ভাইয়ের জন্য হালাল করার নিয়তে, এভাবে কি প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রী হালাল হবে ? তিনি বললেন : না, পছন্দ ও আগ্রহের বিয়ে ব্যতীত হালাল হবে না, আমরা এটাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যেনা বিবেচনা করতাম। আল-মুসতাদরাক লিল হাকেম : হাদিস নং : (২৭৩১) ইমাম খাত্তাবি রাহিমাহুল্লাহ ‘মাআলেম’ গ্রন্থে বলেন : {যদি এ বিয়ে সম্পাদিত হয় উভয়ের শর্ত মোতাবেক, তাহলে এ বিয়েই বাতিল, কারণ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এ চুক্তি শেষ হয়ে যাবে ‘মুতআ’ বিয়ের ন্যায়, আর যদি শর্ত না হয়, বরং নিয়ত ও বিশ্বাস থাকে অনুরূপ, তাহলে এটা মাকরুহ, যদি দ্বিতীয় স্বামী তার সাথে সহবাস করে অতঃপর তালাক দেয় এবং ইদ্দত শেষ হয়, তাহলে সে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হল। তবে উভয়ের হিল্লার ইচ্ছা গোপন রাখা অথবা হিল্লার নিয়ত করা অথবা কোন একজনের হিল্লার ইচ্ছা করা অনেক আলেমই হারাম বলেছেন, যদিও উভয়ে এর কোন শর্ত না করে। ইবরাহিম নখয়ি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন : ‘পছন্দ ও আগ্রহের বিয়ে ব্যতীত প্রথম স্বামীর জন্য তিন তালাক প্রাপ্তা নারী হালাল হবে না, যদি তিন ব্যক্তির কেউ প্রথম স্বামী অথবা দ্বিতীয় স্বামী অথবা নারী হিল্লার নিয়ত করে, তাহলে বিয়ে বাতিল, প্রথম স্বামীর জন্য নারী হালাল হবে না’। সুফিয়ান সাউরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন : ‘যদি কোন ব্যক্তি হিল্লার নিয়তে বিয়ে করে, অতঃপর তাকে রাখার ইচ্ছা করে, তাহলে এটা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়, যতক্ষণ না তাকে নতুনভাবে বিয়ে করে’। ইমাম আহমদ ইব্ন হাম্বলও অনুরূপ বলেছেন। মালেক ইব্ন আনাস রাহিমাহুল্লাহ বলেন : যে কোন অবস্থায় হোক উভয়ের মাঝে পৃথক করে দেয়া হবে।} খাত্তাবির কথা এখানেই শেষ। উভয়ে অভিশপ্ত এ জন্য যে, হিল্লাতে রুচি বোধ ও সম্মানের বিলুপ্তি ঘটে, আত্মমর্যাদা বিনষ্ট হয় এবং নিকৃষ্ট প্রকৃতি ও ইতর স্বভাব স্পষ্ট হয়, যার জন্য হিল্লা করা হয়, তার ব্যাপারে তো এসব স্পষ্ট, আর হিল্লাকারী এ জন্য যে, সে অপরের উদ্দেশ্য নিজেকে সহবাসের জন্য ভাড়া দেয়, কারণ যার জন্য হিল্লা করা হচ্ছে, তার সহবাসের উপযুক্ত করার জন্যই সে নারীর সাথে সহবাস করে। এ জন্যই তাকে ভাড়া করা পাঠার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কাদি আয়াদ সূত্রে মিরাকাতের লেখক এ উক্তি বর্ণনা করেছেন। ‘আউনুল মাবুদ’ হাদিস নং : (১৭৩৬), সংক্ষিপ্ত অনুবাদ।