১
ইসলামে নারী বনাম ইয়াহূদী-খৃষ্টান ধর্মে নারী
লেখকঃ ড. শরীফ আব্দুল আযীম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
হাওয়া আলাইহিস সালামের অপরাধ
তিনটি ধর্ম একটি সত্যের ওপর একমত, তা হলো, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পুরুষ ও নারীকে সৃষ্টি করেছেন আর তিনিই সমস্ত পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। ধর্মগুলোর মধ্যে যত সব বৈপরিত্য হয়েছে সবই প্রথম মানুষ আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালামের সৃষ্টির পর। ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের বিশ্বাস হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলা আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালামকে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু সাপ হাওয়া আলাইহাস সালামকে নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ায় প্ররোচনা দিয়েছে। আর হাওয়া আদম আলাইহিস সালামকে তা খেতে প্ররোচনা দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা যখন আদম আলাইহিস সালামকে অপরাধের জন্য দোষারোপ করেছেন, তখন আদম আলাইহিস সালাম তার সব দোষ হাওয়াকে দিয়ে বলেছেন: “অতঃপর আদম আলাইহিস সালাম বললেন: ঐ মহিলা আমাকে দিয়েছে তাই আমি তা খেয়েছি।” (জেনেসিস: ৩/১২)
স্রষ্টা মহিলাদের সম্পর্কে বললেন: “আমি তোমাদেরকে অনেক কষ্টের সন্মুখীন করব। সন্তান প্রসবের সময় ব্যাথা পাবে, আর তোমার সমস্ত মনোনিবেশ হবে তোমার স্বামীর দিকে। যে তোমার ওপর কর্তৃত্ব করবে। আর তিনি আদম আলাইহিস সালামকে বললেন: তুমি তোমার স্ত্রীর কথা শুনে আমার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছ। যার সম্বন্ধে আমি বলেছিলাম, পৃথিবীর এ অভিশপ্ত গাছ থেকে ভক্ষণ করো না। এর কারণে দুঃখ-কষ্ট তোমার জীবনের দিনগুলোকে খেয়ে ফেলবে। (জেনেসিস: ৩/১৬-১৭)
অপর দিকে সৃষ্টির শুরুর ঘটনাবলী নিয়ে আল-কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আলোচিত হয়েছে।
যেমন, আল্লাহ বলেন,
﴿وَيَٰٓـَٔادَمُ ٱسۡكُنۡ أَنتَ وَزَوۡجُكَ ٱلۡجَنَّةَ فَكُلَا مِنۡ حَيۡثُ شِئۡتُمَا وَلَا تَقۡرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٩ فَوَسۡوَسَ لَهُمَا ٱلشَّيۡطَٰنُ لِيُبۡدِيَ لَهُمَا مَا وُۥرِيَ عَنۡهُمَا مِن سَوۡءَٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَىٰكُمَا رَبُّكُمَا عَنۡ هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةِ إِلَّآ أَن تَكُونَا مَلَكَيۡنِ أَوۡ تَكُونَا مِنَ ٱلۡخَٰلِدِينَ ٢٠ وَقَاسَمَهُمَآ إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ ٱلنَّٰصِحِينَ ٢١ فَدَلَّىٰهُمَا بِغُرُورٖۚ فَلَمَّا ذَاقَا ٱلشَّجَرَةَ بَدَتۡ لَهُمَا سَوۡءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخۡصِفَانِ عَلَيۡهِمَا مِن وَرَقِ ٱلۡجَنَّةِۖ وَنَادَىٰهُمَا رَبُّهُمَآ أَلَمۡ أَنۡهَكُمَا عَن تِلۡكُمَا ٱلشَّجَرَةِ وَأَقُل لَّكُمَآ إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لَكُمَا عَدُوّٞ مُّبِينٞ ٢٢ قَالَا رَبَّنَا ظَلَمۡنَآ أَنفُسَنَا وَإِن لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَنَا وَتَرۡحَمۡنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٢٣﴾ [ الاعراف : ١٩، ٢٣ ]
“হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে প্রবেশ কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও, তবে ঐ বৃক্ষের পাশে যেয়ো না। তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে। অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের গোপন অঙ্গসমূহ প্রকাশিত হয়। সে বলল: তোমরা উভয়ে ফিরিশতা কিংবা চিরকাল জান্নাতে বসবাসকারী হয়ে যাবে। এ জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে এ গাছের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন। সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বলল: অবশ্যই আমি তোমাদের হিতাকাংখী। অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা ঐ গাছ থেকে আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থানসমূহ খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢাকতে শুরু করলেন। তাদের পালনকর্তা তাদেরকে ডেকে বললেন: আমি কি তোমাদেরকে ঐ গাছের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করি নি? আর আমি কি তোমাদেরকে বলে দেই নি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? তারা উভয়ে বলল: হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহ না করেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব”। [সুরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৯-২৩]
উপরোক্ত দু‘টি ঘটনার দিকে যদি আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি তাহলে আমরা অনেক মৌলিক পার্থক্য দেখতে পাব। আল-কুরআন বাইবেলের বিপরীত যেখানে দোষারোপ করা হয়েছে আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালাম উভয়কেই। কুরআনের কোথাও বলা হয় নি যে, হাওয়া আদম-কে গাছ থেকে খেতে প্রতারিত করেছেন বা তিনি আদম আলাইহিস সালামের আগেই তা খেয়েছেন।
সুতরাং কুরআন অনুযায়ী হাওয়া আদম আলাইহিস সালামকে প্রতারণা কিংবা বিপথে পরিচালিত করেন নি। আর গর্ভধারণের যন্ত্রণা মায়েদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি নয়। কুরআনে উল্লিখিত বর্ণনানুযায়ী আল্লাহ তা‘আলা কারো অপরাধের কারণে অন্যকে শাস্তি দেন না। অতএব, আদম ও হাওয়া উভয়েই সমান অপরাধ করে আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন আর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
স্রষ্টা মহিলাদের সম্পর্কে বললেন: “আমি তোমাদেরকে অনেক কষ্টের সন্মুখীন করব। সন্তান প্রসবের সময় ব্যাথা পাবে, আর তোমার সমস্ত মনোনিবেশ হবে তোমার স্বামীর দিকে। যে তোমার ওপর কর্তৃত্ব করবে। আর তিনি আদম আলাইহিস সালামকে বললেন: তুমি তোমার স্ত্রীর কথা শুনে আমার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছ। যার সম্বন্ধে আমি বলেছিলাম, পৃথিবীর এ অভিশপ্ত গাছ থেকে ভক্ষণ করো না। এর কারণে দুঃখ-কষ্ট তোমার জীবনের দিনগুলোকে খেয়ে ফেলবে। (জেনেসিস: ৩/১৬-১৭)
অপর দিকে সৃষ্টির শুরুর ঘটনাবলী নিয়ে আল-কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আলোচিত হয়েছে।
যেমন, আল্লাহ বলেন,
﴿وَيَٰٓـَٔادَمُ ٱسۡكُنۡ أَنتَ وَزَوۡجُكَ ٱلۡجَنَّةَ فَكُلَا مِنۡ حَيۡثُ شِئۡتُمَا وَلَا تَقۡرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٩ فَوَسۡوَسَ لَهُمَا ٱلشَّيۡطَٰنُ لِيُبۡدِيَ لَهُمَا مَا وُۥرِيَ عَنۡهُمَا مِن سَوۡءَٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَىٰكُمَا رَبُّكُمَا عَنۡ هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةِ إِلَّآ أَن تَكُونَا مَلَكَيۡنِ أَوۡ تَكُونَا مِنَ ٱلۡخَٰلِدِينَ ٢٠ وَقَاسَمَهُمَآ إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ ٱلنَّٰصِحِينَ ٢١ فَدَلَّىٰهُمَا بِغُرُورٖۚ فَلَمَّا ذَاقَا ٱلشَّجَرَةَ بَدَتۡ لَهُمَا سَوۡءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخۡصِفَانِ عَلَيۡهِمَا مِن وَرَقِ ٱلۡجَنَّةِۖ وَنَادَىٰهُمَا رَبُّهُمَآ أَلَمۡ أَنۡهَكُمَا عَن تِلۡكُمَا ٱلشَّجَرَةِ وَأَقُل لَّكُمَآ إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لَكُمَا عَدُوّٞ مُّبِينٞ ٢٢ قَالَا رَبَّنَا ظَلَمۡنَآ أَنفُسَنَا وَإِن لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَنَا وَتَرۡحَمۡنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٢٣﴾ [ الاعراف : ١٩، ٢٣ ]
“হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে প্রবেশ কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও, তবে ঐ বৃক্ষের পাশে যেয়ো না। তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে। অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের গোপন অঙ্গসমূহ প্রকাশিত হয়। সে বলল: তোমরা উভয়ে ফিরিশতা কিংবা চিরকাল জান্নাতে বসবাসকারী হয়ে যাবে। এ জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে এ গাছের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন। সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বলল: অবশ্যই আমি তোমাদের হিতাকাংখী। অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা ঐ গাছ থেকে আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থানসমূহ খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান ঢাকতে শুরু করলেন। তাদের পালনকর্তা তাদেরকে ডেকে বললেন: আমি কি তোমাদেরকে ঐ গাছের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করি নি? আর আমি কি তোমাদেরকে বলে দেই নি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? তারা উভয়ে বলল: হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহ না করেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব”। [সুরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৯-২৩]
উপরোক্ত দু‘টি ঘটনার দিকে যদি আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি তাহলে আমরা অনেক মৌলিক পার্থক্য দেখতে পাব। আল-কুরআন বাইবেলের বিপরীত যেখানে দোষারোপ করা হয়েছে আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালাম উভয়কেই। কুরআনের কোথাও বলা হয় নি যে, হাওয়া আদম-কে গাছ থেকে খেতে প্রতারিত করেছেন বা তিনি আদম আলাইহিস সালামের আগেই তা খেয়েছেন।
সুতরাং কুরআন অনুযায়ী হাওয়া আদম আলাইহিস সালামকে প্রতারণা কিংবা বিপথে পরিচালিত করেন নি। আর গর্ভধারণের যন্ত্রণা মায়েদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি নয়। কুরআনে উল্লিখিত বর্ণনানুযায়ী আল্লাহ তা‘আলা কারো অপরাধের কারণে অন্যকে শাস্তি দেন না। অতএব, আদম ও হাওয়া উভয়েই সমান অপরাধ করে আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন আর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।