১
সূফীবাদ কুরআন ও সুন্নাহ-এর মানদণ্ডে
লেখকঃ মুহাম্মাদ জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্খা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَٱدۡعُوهُ خَوۡفٗا وَطَمَعًا﴾ [ الاعراف : ٥٦ ]
“আর তোমরা তাঁকে (আল্লাহ) ডাকো ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্খা সহকারে।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৫৬]
মহান পবিত্রময় আল্লাহ তাঁর জাহান্নামের আযাবের ভয়ে এবং জান্নাত ও নি‘আমতের আশায় তাঁর বান্দাদেরকে তাদের স্রষ্টা ও মা‘বূদকে ডাকার (ইবাদতের) জন্য আদেশ করেন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা সূরা হিজর-এর মধ্যে বলেন,
﴿نَبِّئۡ عِبَادِيٓ أَنِّيٓ أَنَا ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٤٩ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ ٱلۡعَذَابُ ٱلۡأَلِيمُ ٥٠ ﴾ [ الحجر : ٤٩، ٥٠ ]
“আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন, নিঃসন্দেহে আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আর আমার শাস্তিই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৪৯-৫০]
কেননা আল্লাহর ভয় বান্দাকে তাঁর নাফরমানী ও নিষিদ্ধ বিষয়াদি থেকে দূরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। আর তাঁর জান্নাত রহমত লাভের আশা বান্দাকে নেক আমল সম্পাদন ও যেসব কাজ তার রবকে সন্তুষ্ট করে, তা আদায় করতে অধিক আগ্রহান্বিত করে।
এই আয়াত যা যা নির্দেশ করে :
১- বান্দা তার রবকেই ডাকবে, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তার ডাক শুনেন ও তার ডাকে সাড়া দেন।
২- আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে না ডাকা। যদিও তিনি নবী, ওলী অথবা ফিরিশতা হোন। কেননা সালাত যেমন ইবাদত; তেমনি দো‘আও একটি ইবাদত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কারোর জন্য (সম্পাদন করা) জায়েয নয়।
৩- বান্দা তার রবকে তাঁর জাহান্নামের ভয়ে ও জান্নাতের আশায় ডাকবে।
৪- অত্র আয়াতটিতে সূফীদের ভ্রান্ত উক্তির খণ্ডন করা হয়েছে। কেননা তারা আল্লাহর ভয়ে কিংবা তাঁর নিকট যে সমস্ত (নি‘আমত) রয়েছে তার আশায় তাঁর ইবাদত করে না। অথচ ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্খা ইবাদতের শ্রেণিসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ এ ভয়-ভীতি ও আশা আকাঙ্খা নিয়ে ইবাদত করার কারণে তার নবীদের প্রশংসা করেন, যারা শ্রেষ্ঠ মানুষ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّهُمۡ كَانُواْ يُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِ وَيَدۡعُونَنَا رَغَبٗا وَرَهَبٗاۖ وَكَانُواْ لَنَا خَٰشِعِينَ﴾ [ الانبياء : ٩٠ ]
“নিশ্চয় তারা সৎ কর্মসমূহে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারা আশা ও ভীতসহ আমাকে ডাকতেন এবং তারা ছিলেন আমার কাছে বিনীত।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৯০]
৫- অত্র আয়াতটির শিক্ষা দ্বারা ‘আল-আরবাইন আল-নব্বীয়া কিতাবের একটি হাদীসের ব্যাখ্যায় প্রদত্ত একজন ইমামের কথারও প্রতিবাদ রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:
إنما الأعمال بالنيات হাদীসখানার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ইমাম নববী বলেন, যদি কোনো আমল পাওয়া যায় এবং তার সাথে নিয়তযুক্ত হয়, তাহলে তা ৩টি অবস্থা হয়ে যায়। যথা:
প্রথমত: আমলটি সে সম্পাদন করবে আল্লাহর ভয়ে। আর এটিই একজন দাসের ইবাদত।
দ্বিতীয়ত: আমলটি সে সম্পাদন করবে জান্নাত ও সাওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে। আর এটিই একজন ব্যবসায়ীর ইবাদত।
তৃতীয়ত: সে আমলটি সম্পাদন করবে আল্লাহ থেকে লজ্জা করে এবং যথার্থ বন্দেগী ও শুকরিয়া আদায়ের নিমিত্তে। আর এটি একজন স্বাধীন বান্দার ইবাদত।
উপরোক্ত বক্তব্যের প্রতি টিকা নির্দেশ করতঃ সায়্যিদ মুহাম্মাদ রশীদ রিদা স্বীয় ‘মাজমুআতুল হাদীস আন-নাজদিয়ায়’ বলেন, এ বিভক্তিটি হাদীসের সূক্ষ্ম জ্ঞান সম্পন্ন বিদ্বানদের কথার চেয়ে সূফীদের কথার সাথে অধিকতর সাদৃশ্যশীল। বিশুদ্ধ কথা এই যে, পরিপূর্ণ বন্দেগী হলো ভয়-ভীতি ও আশা-আকাংঙ্খার মাঝে সমন্বয় করা। ভয় সহকারে আমল করা। যাকে তিনি গোলামের ইবাদত বলে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ আমরা সবই আল্লাহর গোলাম। আর আল্লাহর সাওয়াব ও অনুগ্রহের আশায় আমল করা যাকে তিনি ব্যবসায়ীদের ইবাদত বলে নামকরণ করেছেন।
আমি বলি! সূফী শাইখ মুতাওয়াল্লী আশ-শা‘রাণী তার পুস্তিকায় এ আকীদার কথাই বিধৃত করেছেন। এমন কি তিনি তাতে আরো অতিরঞ্জন করেছেন। আর টেলিভিশনে আল্লাহর বাণী ( ولا يشرك بعبادة ربه أحدا ) আয়াতাংশের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, আর তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক করো না। এখানে ‘কাউকে’ বলতে জান্নাত উদ্দেশ্য। অর্থাৎ জান্নাত লাভের আশায় ইবাদত করা শির্ক। [নাউযুবিল্লাহ। কিভাবে তার কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কথা বলে সেটাকে তাওহীদ বলছে, আর কুরআন ও সুন্নায় যা এসেছে সেটাকে শির্ক বলছে। [সম্পাদক]]
﴿وَٱدۡعُوهُ خَوۡفٗا وَطَمَعًا﴾ [ الاعراف : ٥٦ ]
“আর তোমরা তাঁকে (আল্লাহ) ডাকো ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্খা সহকারে।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৫৬]
মহান পবিত্রময় আল্লাহ তাঁর জাহান্নামের আযাবের ভয়ে এবং জান্নাত ও নি‘আমতের আশায় তাঁর বান্দাদেরকে তাদের স্রষ্টা ও মা‘বূদকে ডাকার (ইবাদতের) জন্য আদেশ করেন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা সূরা হিজর-এর মধ্যে বলেন,
﴿نَبِّئۡ عِبَادِيٓ أَنِّيٓ أَنَا ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ ٤٩ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ ٱلۡعَذَابُ ٱلۡأَلِيمُ ٥٠ ﴾ [ الحجر : ٤٩، ٥٠ ]
“আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন, নিঃসন্দেহে আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আর আমার শাস্তিই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৪৯-৫০]
কেননা আল্লাহর ভয় বান্দাকে তাঁর নাফরমানী ও নিষিদ্ধ বিষয়াদি থেকে দূরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। আর তাঁর জান্নাত রহমত লাভের আশা বান্দাকে নেক আমল সম্পাদন ও যেসব কাজ তার রবকে সন্তুষ্ট করে, তা আদায় করতে অধিক আগ্রহান্বিত করে।
এই আয়াত যা যা নির্দেশ করে :
১- বান্দা তার রবকেই ডাকবে, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তার ডাক শুনেন ও তার ডাকে সাড়া দেন।
২- আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে না ডাকা। যদিও তিনি নবী, ওলী অথবা ফিরিশতা হোন। কেননা সালাত যেমন ইবাদত; তেমনি দো‘আও একটি ইবাদত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কারোর জন্য (সম্পাদন করা) জায়েয নয়।
৩- বান্দা তার রবকে তাঁর জাহান্নামের ভয়ে ও জান্নাতের আশায় ডাকবে।
৪- অত্র আয়াতটিতে সূফীদের ভ্রান্ত উক্তির খণ্ডন করা হয়েছে। কেননা তারা আল্লাহর ভয়ে কিংবা তাঁর নিকট যে সমস্ত (নি‘আমত) রয়েছে তার আশায় তাঁর ইবাদত করে না। অথচ ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্খা ইবাদতের শ্রেণিসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ এ ভয়-ভীতি ও আশা আকাঙ্খা নিয়ে ইবাদত করার কারণে তার নবীদের প্রশংসা করেন, যারা শ্রেষ্ঠ মানুষ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّهُمۡ كَانُواْ يُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِ وَيَدۡعُونَنَا رَغَبٗا وَرَهَبٗاۖ وَكَانُواْ لَنَا خَٰشِعِينَ﴾ [ الانبياء : ٩٠ ]
“নিশ্চয় তারা সৎ কর্মসমূহে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারা আশা ও ভীতসহ আমাকে ডাকতেন এবং তারা ছিলেন আমার কাছে বিনীত।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৯০]
৫- অত্র আয়াতটির শিক্ষা দ্বারা ‘আল-আরবাইন আল-নব্বীয়া কিতাবের একটি হাদীসের ব্যাখ্যায় প্রদত্ত একজন ইমামের কথারও প্রতিবাদ রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:
إنما الأعمال بالنيات হাদীসখানার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ইমাম নববী বলেন, যদি কোনো আমল পাওয়া যায় এবং তার সাথে নিয়তযুক্ত হয়, তাহলে তা ৩টি অবস্থা হয়ে যায়। যথা:
প্রথমত: আমলটি সে সম্পাদন করবে আল্লাহর ভয়ে। আর এটিই একজন দাসের ইবাদত।
দ্বিতীয়ত: আমলটি সে সম্পাদন করবে জান্নাত ও সাওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে। আর এটিই একজন ব্যবসায়ীর ইবাদত।
তৃতীয়ত: সে আমলটি সম্পাদন করবে আল্লাহ থেকে লজ্জা করে এবং যথার্থ বন্দেগী ও শুকরিয়া আদায়ের নিমিত্তে। আর এটি একজন স্বাধীন বান্দার ইবাদত।
উপরোক্ত বক্তব্যের প্রতি টিকা নির্দেশ করতঃ সায়্যিদ মুহাম্মাদ রশীদ রিদা স্বীয় ‘মাজমুআতুল হাদীস আন-নাজদিয়ায়’ বলেন, এ বিভক্তিটি হাদীসের সূক্ষ্ম জ্ঞান সম্পন্ন বিদ্বানদের কথার চেয়ে সূফীদের কথার সাথে অধিকতর সাদৃশ্যশীল। বিশুদ্ধ কথা এই যে, পরিপূর্ণ বন্দেগী হলো ভয়-ভীতি ও আশা-আকাংঙ্খার মাঝে সমন্বয় করা। ভয় সহকারে আমল করা। যাকে তিনি গোলামের ইবাদত বলে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ আমরা সবই আল্লাহর গোলাম। আর আল্লাহর সাওয়াব ও অনুগ্রহের আশায় আমল করা যাকে তিনি ব্যবসায়ীদের ইবাদত বলে নামকরণ করেছেন।
আমি বলি! সূফী শাইখ মুতাওয়াল্লী আশ-শা‘রাণী তার পুস্তিকায় এ আকীদার কথাই বিধৃত করেছেন। এমন কি তিনি তাতে আরো অতিরঞ্জন করেছেন। আর টেলিভিশনে আল্লাহর বাণী ( ولا يشرك بعبادة ربه أحدا ) আয়াতাংশের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, আর তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক করো না। এখানে ‘কাউকে’ বলতে জান্নাত উদ্দেশ্য। অর্থাৎ জান্নাত লাভের আশায় ইবাদত করা শির্ক। [নাউযুবিল্লাহ। কিভাবে তার কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কথা বলে সেটাকে তাওহীদ বলছে, আর কুরআন ও সুন্নায় যা এসেছে সেটাকে শির্ক বলছে। [সম্পাদক]]