hadith book logo

সূফীবাদ কুরআন ও সুন্নাহ-এর মানদণ্ডে

লেখকঃ মুহাম্মাদ জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

সূফীদের করামতসমূহ

সূফীরা ধারণা করে যে, তাদের কিছু ওলী আউলিয়া আছেন যাদের অনেক কারামত আছে। এক্ষণে তাদের আউলিয়া কর্তৃক প্রকাশিত কিছু কারামত আমি সম্মানিত পাঠকদের খিদমতে পেশ করব। তাতে দেখা যাবে যে, এগুলো সবই উদ্ভব, ভ্রষ্টতা ও কুফুরী। শা‘রানী প্রণীত ‘আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা’-এর বর্ণনা মতে সূফী আউলিয়াদের কারামতসমূহ:

১- আর তিনি (জনৈক সূফী সাধক) খৃস্টানদের পাগড়ীর ন্যায় নক্‌শা করা একটি হালকা পাগড়ী পরিধান করতেন। আর তার দোকানটি দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা ছিল। যত মরা কুকুর ও দুম্বা পেতেন তা তিনি দোকানের ভিতরে রেখে দিতেন। সে জন্য কেউ তার নিকট বসতে পারত না। আর তিনি মসজিদের দিকে রওয়ানা হয়ে রাস্তায় কুকুরের পানি পান করার পাত্র থেকে পবিত্রতা অর্জন (অযু) করতেন। অতঃপর গাধার প্রস্রাবের স্থান দিয়ে অতিক্রম করতেন।

২- আর তিনি যখন কোনো মহিলা অথবা দাঁড়ি গজাবার পূর্বেকার কোনো কিশোরকে দেখতে পেতেন, তখন তিনি তার প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে পড়তেন। আর তার নিতম্ব স্পর্শ করতেন। চাহে সে আমীর অথবা মন্ত্রীর ছেলে হোক। এমনকি যদিও তার পিতা অথবা অন্য যে কারোর উপস্থিতিতে হোক। এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো মানুষের প্রতি তাকাতেন না।

৩- শা‘রাণী তার সূফী গুরু আলী উহাইশ সম্পর্কে বলেন, তিনি যখন শহরের কোনো প্রধান বা অন্য কাউকে দেখতে পেতেন, তখন তাকে গাধার উপর থেকে নামিয়ে দিতেন। আর তাকে বলতেন, গাধাটির মাথা ধরো, যাতে এটির সাথে মিলন করি। যদি শহরের প্রধান এতে অস্বীকার করতেন তাহলে তিনি তাকে জমিতে (পেরেগ মেরে আটকানোর ন্যায়) আটকিয়ে রাখতেন। ফলে, তিনি এক কদমও চলতে পারতেন না।

৪- শা‘রাণী তার সূফী গুরু মুহাম্মাদ আল-খুজারী সম্পর্কে বলেন, শাইখ আবুল ফাযল আস-সারসী জানান যে, একদা কোনো এক জুমু‘আয় তিনি তাদের মাঝে আগমন করলেন। অতঃপর তারা তার নিকট খুতবা দানের আহ্বান জানালো। তিনি মিম্বরে আরোহন করে আল্লাহর একক প্রশংসা ও গুণগানের পর বললেন:

أشهد أن لا إله لكم إلا إبليس عليه الصلاة والسلام

“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ইবলিস ‘আলাইহিস সালাম ব্যতীত তোমাদের কোনো ইলাহ নেই।” (নাউযুবিল্লাহ) অতঃপর জনগণ বলে উঠল : লোকটি কুফুরী করেছে। তখন তিনি তরবারী উচিয়ে মিম্বর থেকে নেমে পড়লেন। আর সকল জনগণ জামে মসজিদ থেকে (ভয়ে) পালিয়ে গেল।

অতঃপর তিনি আসরের আযান পর্যন্ত মিম্বরে বসে থাকলেন। কারো সাহস হলো না জামে মসজিদে প্রবেশের। এরপর পার্শ্ববর্তী শহরের কিছু লোক আসল। প্রত্যেক শহরের লোকেরা বলল, তিনি তাদের নিকট খুতবা দিয়েছেন ও তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করেছেন। আমরা গুণে দেখলাম সেদিনও তার প্রদত্ত খুতবা ছিল ৩০টি। অথচ দেখছি তিনি আমাদের এখানে খুতবায় বসা [চিন্তা করে দেখুন, এ হচ্ছে সুফীদের তথাকথিত কারামত। যা তাদের লোক দ্বারাই বর্ণিত। কোনো সাধারণ মুসলিম যে কাজ করলে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় তা তাদের তথাকথিত ওলী দ্বারা সংঘটিত করে কারামাত বানানো হলো। আমরা বলব, এসব ওলী নিঃসন্দেহ শয়তানের দোসর। তারা কখনো আল্লাহর ওলী হতে পারেন না। সেসব তথাকথিত ওলী যা যা অস্বাভাবিক কাজ করত তা কেবল শয়তানের সহযোগিতায় করতে সমর্থ হতো। [সম্পাদক]]।