hadith book logo

খাদ্য ও পণ্য-দ্রব্যে ভেজাল ইসলামের দৃষ্টিতে এর প্রতিকার

লেখকঃ ড. মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

প্রস্তাবনা

ভেজাল একটি প্রতারণামূলক ও ত্রুটিযুক্ত পদ্ধতি যা পণ্য দ্রব্যের গুণগত-মান ধ্বংসের প্রয়াস চালায়। শুধু তাই নয়, অনেক সময় এটি মানুষের জীবন নাশের হুমকিতেও পরিণত হয়। আজ আমাদের দেশের সর্বত্রই ভেজালের ছড়াছড়ি চলছে। ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ইসলামী নৈতিকতার লালনের মাধ্যমে এর প্রতিবিধান সম্ভব। তদুপরি, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা নিশ্চিত করতে পারলে ভেজাল প্রতিরোধ সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস।

ক. ভেজাল বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান দান ও উপলব্ধিতে নিয়ে এসে তাদেরকে সচেতন করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তাদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কটের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

من رأى منكم منكرا فليغيره بيده فإن لم يستطع فبلسانه ومن لم يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان

“তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোন খারাপ কাজ হতে দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে (শাস্তি প্রয়োগ) বাধা দেয়। এ ক্ষমতা যদি তার না থাকে তাহলে বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে (জনমত গঠন করে) তা বন্ধের প্রয়াস চালাবে। আর এ ক্ষমতাও যদি না থাকে, তবে সে অন্তরে এ কর্মকে ঘৃণা করবে আর এটা হচ্ছে সবচেয়ে দুর্বল ইমানদারের পরিচয়।” [৬১. . ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৪৯।]

খ. ব্যবসায়ীদের মাঝে ইসলামী নৈতিকতা-বোধ জাগ্রত করা। এজন্য সরকারীভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মাধ্যমে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সভা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। এছাড়া মসজিদের ইমাম সাহেবগণকে এ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দান।

গ. ব্যবসায়ী লাইসেন্স প্রদানে সর্তকতা অবলম্বন করা। কোন অসাধু ব্যবসায়ী যেন লাইসেন্স না পায় সে দিকে দৃষ্টি দেয়া অর্থাৎ অসাধু প্রমাণিত হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা।

ঘ. পণ্য দ্রব্যের গুণগত মান নিরীক্ষার নিমিত্তে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মনিটরিং সেল গঠন করা। এবং সরকারের কাছে তাদের জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

ঙ. ভেজাল নিরূপণের জন্য সহজ পদ্ধতি আবিষ্কার করা। উন্নত বিশ্বে সহজ পদ্ধতিতে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যে ভেজাল নিরূপণের যে নিত্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে তা আমদানি করত আমাদের দেশে চালু করা।

চ. ভেজাল প্রমাণে শাস্তিস্বরূপ ইসলামী দণ্ডবিধির প্রয়োগ নিশ্চিত করা। সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশে বিশুদ্ধ খাদ্য সংশোধন বিল-২০০৫ এর সাথে ইসলামী শরী‘আহ নীতির সংযোজন একান্ত আবশ্যক।

ছ. স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য তদারক ও পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ও খাদ্য দ্রব্যের গুদামজাত রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা।

জ. যেহেতু ভেজাল একটি বড় ধরনের প্রতারণা, যাতে খরিদদারকে ধোঁকায় ফেলে বেশি মুনাফা লাভ হয়। সেহেতু এ ধরনের অপরাধীকে প্রতারণা মামলার আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

উপরোক্ত প্রস্তাবনা ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবায়ন ঘটলে এবং ইসলামী শরী‘আহ নীতি অনুসৃত হলে ভেজাল নামক এ অভিশাপ থেকে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই রক্ষা পাবে।