১
খাদ্য ও পণ্য-দ্রব্যে ভেজাল ইসলামের দৃষ্টিতে এর প্রতিকার
লেখকঃ ড. মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
ভেজালের স্বরূপ
ভেজাল একটি বহুল প্রচলিত বাংলা শব্দ। এর অর্থ হলো: নিকৃষ্ট, খাঁটি নয় এমন নিকৃষ্ট দ্রব্য মিশ্রণ, গণ্ডগোল, ঝামেলা, বিশৃঙ্খলা। [২. মোসলেম উদ্দিন, আধুনিক বাংলা অভিধান, (ঢাকা: ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, ১ জুন, ১৯৮৫), পৃ. ৬৩৯।] নিকৃষ্ট পদার্থ মিশ্রিত, কৃত্রিম মেকি। [৩. শৈলেন্দ্র বিশ্বাস, সংসদ বাঙ্গালা অভিধান, (কলকাতা: সাহিত্য সংসদ, একবিংশতম মুদ্রণ, মে ১৯৯৭), পৃ. ৫৪৯।] এর আরবি প্রতিশব্দ: مزيف، مغشوش এবং غاشة [৪. ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, বাংলা-ইংরেজী-আরবী ব্যবহারিক অভিধান, (ঢাকা: রিয়াদ প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ, ২০০২), পৃ. ৪১৩।] ইংরেজিতে একে adulterant, contaminant, impurity, trouble, tangle, hitch, snag, spurious, corrupt [৫. Editorial board, Bangali English dictionary (Dhaka: Bangla Academy, Tenth reprint, April 1999) P. ৬২১.।] প্রভৃতি শব্দে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। নিকৃষ্ট পদার্থ যা উৎকৃষ্ট পদার্থের সাথে মিশানো হয়। কিংবা নিকৃষ্ট পদার্থ মিশ্রিত খাঁটি বা বিশুদ্ধ নয় এমন যে কোন বস্তুকে ভেজাল বলে। [৬. শৈলেন্দ্র বিশ্বাস, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৪৯।]পবিত্র কুরআনে ভেজালের প্রতিশব্দ خبائث এবং এর বিপরীত শব্দ হিসেবে طيبات এর উল্লেখ রয়েছে। অতএব ভেজাল মানে অপবিত্র, নিকৃষ্ট খাবার-পানীয় যা অকল্যাণকর ও অস্বাস্থ্যকর। [৭. মহান আল্লাহর বাণী: ﴿وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ﴾ অর্থাৎ, “তিনি তাদের জন্য যাবতীয় তাইয়্যেবাত বা পবিত্র ও উৎকৃষ্টকে বৈধ করেন এবং খাবাইস তথা নাপাক-নিকৃষ্ট বস্তুসমূহ নিষিদ্ধ করেন”। (সূরা: আরাফ: ১৫৭)] এ ভেজালের মহাসমারোহ চলছে বিশ্বব্যাপী নানা কৌশলে, মুখরোচক ও দৃষ্টিনন্দন পদ্ধতিতে, তবে বস্তুর তারতম্য ও স্থান, কাল, পাত্রের ব্যবধানে ভেজালেরও বিভিন্ন রূপ লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশে পরিচালিত ভেজাল বিরোধী অভিযানে ভেজালের যে বীভৎস চিত্র ধরা পড়েছে, তা দেশবাসীকে একদিকে হতবাক করেছে, অন্যদিকে তাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত হাজারো অজানা শঙ্কা। এ সব ভেজালের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে :