১
কতিপয় দীনী বিষয় যা একজন মুসলিমের জানা প্রয়োজন
লেখকঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইবন আব্দুল আযীয আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
অযু ভঙ্গের কারণসমূহ
অযু করার পর নিম্নোক্ত কারণগুলোর কোনো একটি কারণ সংঘটিত হলে অযু বিনষ্ট হয়ে যাবে। কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. মল-মূত্রদ্বার দিয়ে কোনো কিছু বের হলে:
বায়ু, বীর্য, মযী, ওদী, ঋতুস্রাব, নিফাস ইত্যাদি এরই অন্তর্ভুক্ত। এ সকল বস্তু মল বা মূত্রদ্বার দিয়ে বের হলে অযু বিনষ্ট হয়ে যায়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَوۡ جَآءَ أَحَدٞ مِّنكُم مِّنَ ٱلۡغَآئِطِ أَوۡ لَٰمَسۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُواْ مَآءٗ فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدٗا طَيِّبٗا﴾ [ المائدة : ٦ ]
“তোমাদের কেউ বাথরুম থেকে মলমূত্র ত্যাগ করে আসলে অথবা স্ত্রী সহবাস করলে (পানি পেলে অযু বা গোসল করে নিবে) অতঃপর পানি না পেলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে”। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৬]
সাফওয়ান ইবন আসাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«كَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفْراً أَنْ لاَ نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيْهِنَّ إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ ؛ وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে রওয়ানা করলে তিনি আমাদেরকে তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত মলমূত্র ত্যাগ বা ঘুম যাওয়ার কারণে মোজা না খুলতে আদেশ করতেন, বরং মোজার উপর মাসাহ করতে বলতেন, তবে শুধু জানাবাতের গোসলের জন্য মোজা খুলতে বলতেন”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৯৬ ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৮৩।]
আব্বাদ ইবন তামীম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করলেন যে, কারো কারোর ধারণা হয় সালাতের মধ্যে অযু নষ্ট হয়েছে বলে। তখন তাকে কী করতে হবে? তিনি বললেন:
«لاَ يَنْصَرِفُ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتاً أَوْ يَجِدَ رِيْحاً»
“সে সালাত ছেড়ে দিবে না যতক্ষণ না সে বায়ু নির্গমনধ্বনি বা দুর্গন্ধ পায়”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৬১ ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৫১৯।]
২. ঘুম বা অন্য যে কোনো কারণে অবচেতন হলে।
’আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«وِكَاءُ السَّهِ الْعَيْنَانِ، فَمَنْ نَامَ فَلْيَتَوَضَّأْ»
“চক্ষুদ্বয় গুহ্যদ্বারের পাহারাদার। অতএব, যে ব্যক্তি ঘুমাবে তাকে অবশ্যই অযু করতে হবে”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৩; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৮২।]
এ ছাড়া উন্মাদনা, সংজ্ঞাহীনতা ও মাদকতা ইত্যাদির কারণে চেতনাশূন্যতা দেখা দিলেও সকল আলেমের ঐকমত্যে অযু ভেঙ্গে যাবে।
৩. কোনো আবরণ ছাড়াই হাত দিয়ে লিঙ্গ বা গুহ্যদ্বার স্পর্শ করলে।
উম্মে হাবিবা ও আবু আইয়ূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তারা বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«مَنْ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ»
“যে ব্যক্তি নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করল সে যেন অযু করে নেয়”। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৮৬, ৪৮৭ ইবন হিববান, হাদীস নং ১১১৪, ১১১৫, ১১১৭।]
৪. উটের গোশত খেলে।
বারা ইবন আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ عَنِ الْوُضُوْءِ مِنْ لُحُـوْمِ الإِبِلِ؟ فَقَالَ : تَوَضَّؤُوْا مِنْهَا، وَسُئِلَ عَنْ لُحُوْمِ الْغَنَمِ؟ فَقَالَ : لاَ تَوَضَّؤُوْا مِنْهَا»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উটের গোস্ত খেয়ে অযু করতে হবে কিনা এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, উটের গোশত খেলে অযু করতে হবে। তেমনিভাবে তাঁকে ছাগলের গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ছাগলের গোশত খেলে অযু করতে হবে না”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ১৮৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৯৯।]
৫. মুরতাদ (দীন ইসলাম পরিত্যাগ করেছে যে) হয়ে গেলে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُهُۥ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ﴾ [ المائدة : ٥ ]
“যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর কুফুরী করবে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং সে পরকালে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে”। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৫]
১. মল-মূত্রদ্বার দিয়ে কোনো কিছু বের হলে:
বায়ু, বীর্য, মযী, ওদী, ঋতুস্রাব, নিফাস ইত্যাদি এরই অন্তর্ভুক্ত। এ সকল বস্তু মল বা মূত্রদ্বার দিয়ে বের হলে অযু বিনষ্ট হয়ে যায়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَوۡ جَآءَ أَحَدٞ مِّنكُم مِّنَ ٱلۡغَآئِطِ أَوۡ لَٰمَسۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُواْ مَآءٗ فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدٗا طَيِّبٗا﴾ [ المائدة : ٦ ]
“তোমাদের কেউ বাথরুম থেকে মলমূত্র ত্যাগ করে আসলে অথবা স্ত্রী সহবাস করলে (পানি পেলে অযু বা গোসল করে নিবে) অতঃপর পানি না পেলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে”। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৬]
সাফওয়ান ইবন আসাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«كَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفْراً أَنْ لاَ نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيْهِنَّ إِلاَّ مِنْ جَنَابَةٍ ؛ وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে রওয়ানা করলে তিনি আমাদেরকে তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত মলমূত্র ত্যাগ বা ঘুম যাওয়ার কারণে মোজা না খুলতে আদেশ করতেন, বরং মোজার উপর মাসাহ করতে বলতেন, তবে শুধু জানাবাতের গোসলের জন্য মোজা খুলতে বলতেন”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৯৬ ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৮৩।]
আব্বাদ ইবন তামীম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করলেন যে, কারো কারোর ধারণা হয় সালাতের মধ্যে অযু নষ্ট হয়েছে বলে। তখন তাকে কী করতে হবে? তিনি বললেন:
«لاَ يَنْصَرِفُ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتاً أَوْ يَجِدَ رِيْحاً»
“সে সালাত ছেড়ে দিবে না যতক্ষণ না সে বায়ু নির্গমনধ্বনি বা দুর্গন্ধ পায়”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৬১ ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৫১৯।]
২. ঘুম বা অন্য যে কোনো কারণে অবচেতন হলে।
’আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«وِكَاءُ السَّهِ الْعَيْنَانِ، فَمَنْ نَامَ فَلْيَتَوَضَّأْ»
“চক্ষুদ্বয় গুহ্যদ্বারের পাহারাদার। অতএব, যে ব্যক্তি ঘুমাবে তাকে অবশ্যই অযু করতে হবে”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২০৩; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৮২।]
এ ছাড়া উন্মাদনা, সংজ্ঞাহীনতা ও মাদকতা ইত্যাদির কারণে চেতনাশূন্যতা দেখা দিলেও সকল আলেমের ঐকমত্যে অযু ভেঙ্গে যাবে।
৩. কোনো আবরণ ছাড়াই হাত দিয়ে লিঙ্গ বা গুহ্যদ্বার স্পর্শ করলে।
উম্মে হাবিবা ও আবু আইয়ূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তারা বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«مَنْ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ»
“যে ব্যক্তি নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করল সে যেন অযু করে নেয়”। [ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৮৬, ৪৮৭ ইবন হিববান, হাদীস নং ১১১৪, ১১১৫, ১১১৭।]
৪. উটের গোশত খেলে।
বারা ইবন আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ عَنِ الْوُضُوْءِ مِنْ لُحُـوْمِ الإِبِلِ؟ فَقَالَ : تَوَضَّؤُوْا مِنْهَا، وَسُئِلَ عَنْ لُحُوْمِ الْغَنَمِ؟ فَقَالَ : لاَ تَوَضَّؤُوْا مِنْهَا»
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উটের গোস্ত খেয়ে অযু করতে হবে কিনা এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, উটের গোশত খেলে অযু করতে হবে। তেমনিভাবে তাঁকে ছাগলের গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ছাগলের গোশত খেলে অযু করতে হবে না”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ১৮৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৯৯।]
৫. মুরতাদ (দীন ইসলাম পরিত্যাগ করেছে যে) হয়ে গেলে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُهُۥ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ﴾ [ المائدة : ٥ ]
“যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর কুফুরী করবে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং সে পরকালে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে”। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৫]