১
সুন্নাহের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
পবিত্র কুরআনে সুন্নাতের গুরুত্ব:
১- আল্লাহ তা’আলা বলেন:
﴿ وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ ٣ إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ ٤ ﴾ [ النجم : ٣، ٤ ]
“আর তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না বরং শুধুমাত্র তাকে যা ওহী করা হয় তাই বলেন”। [[সূরা আন্-নাজম: ৩-৪]]
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনী কথা, কাজ ও সম্মতি সব কিছুই ওহী ভিত্তিক। এ জন্যই আল্লাহর নির্দেশকে যেমন কোন ঈমানদার নর-নারীর উপেক্ষা করে চলার সুযোগ নেই। তেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশেরও কোন অবস্থাতেই উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নাই।
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
﴿ وَمَا كَانَ لِمُؤۡمِنٖ وَلَا مُؤۡمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمۡرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلۡخِيَرَةُ مِنۡ أَمۡرِهِمۡۗ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلٗا مُّبِينٗا ٣٦ ﴾ [ الاحزاب : ٣٦ ]
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন কাজের নির্দেশ দিলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে কোন এখতিয়ার থাকে না, আর যে আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টটায় পতিত হয়”। [সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৬]
এ আয়াত ইসলামী শরীয়তে সুন্নাহর গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আল্লাহ বা কুরআনের নির্দেশের অবস্থান এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সুন্নাহর নির্দেশের অবস্থান পাশাপাশি। অনুরূপভাবে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে যেমন পথভ্রষ্ট হয়ে যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ অমান্যের পরিণতিও একই; কোন অংশে তা কম নয়। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিদ্ধান্ত ও সমাধানকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাথা পেতে মেনে নেয়া ছাড়া ঈমানদার হওয়া কখনই সম্ভব নয়।
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
﴿ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا ٦٥ ﴾ [ النساء : ٦٥ ]
“অতঃপর তোমার রবের কসম তারা কখনও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ফায়সালা কারী হিসাবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফায়সালার ব্যাপারে তারা তাদের অন্তরে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নিবে”। [সূরা নিসা: ৬৫]
সুন্নাতের অনুসরণ ছাড়া যেমন ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়, ঈমানদার হওয়ার পর তেমনি আবার সুন্নাতের অনুসরণ ছাড়া পূর্ণ ইসলাম মানাও সম্ভব নয়। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হাসান বাসরী [রাহিমাহুল্লাহ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা সাহাবী ঈমারান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু কিছু ব্যক্তিসহ শিক্ষার আসরে বসেছিলেন। তাদের মধ্য হতে একজন বলে ফেললেন, আপনি আমাদেরকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু শোনাবেন না। তিনি [সাহাবী] বললেন: নিকটে আস, অতঃপর বললেন, তুমি কি মনে কর, যদি তোমাদেরকে শুধু কুরআনের উপরই ছেড়ে দেয়া হয়? তুমি কি যোহরের সালাত চার রাকাত, আসর চার রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত, প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পাঠ করতে হয় ইত্যাদি সব কুরআনে খুঁজে পাবে? অনুরূপভাবে কাবার তাওয়াফ সাত চক্কর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ ইত্যাদি কি কুরআনে খুঁজে পাবে? অতঃপর বললেন: হে মানব সকল! তোমরা আমাদের [সাহাবীদের] নিকট হতে সুন্নাহর আলোকে ঐ সব বিস্তারিত বিধি-বিধান জেনে নাও। আল্লাহর কসম করে বলছি, তোমরা যদি সুন্নাহ্ মেনে না চল, তাহলে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।
শুধু কুরআনুল করীমকে আঁকড়িয়ে ধরে পূর্ণ ইসলাম মানা কখনও সম্ভব নয় বরং এ নীতি মানুষকে পথভ্রষ্ট করে ইসলাম হতে বের করে দিবে এবং পরকালে জান্নাত পাওয়াও অসম্ভব হয়ে যাবে। সুতরাং পরকালে জান্নাত পেতে হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়ে আসা আল্লাহর বাণী আল-কুরআনুল করীম এবং তাঁর হাদিস বা সুন্নাহ্ উভয়েরই একনিষ্ঠ অনুসারী হতে হবে। হাদিসে এসেছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ قَالَ كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلاَّ مَنْ أَبَى قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَنْ يَأْبَى قَالَ مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার সকল উম্মতই জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে যারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে তারা ব্যতীত। জিজ্ঞাসা করা হল, কারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে? তিনি বললেন: যে আমার অনুসরণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমাকে অমান্য করে সেই অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। [বুখারি, হাদিস: ৭২৮০]
এ হাদিস স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ্ অনুসরণের কোন বিকল্প পথ নেই।
অতএব ইসলামী শরীয়তে সুন্নাহর গুরুত্ব ও তাৎপর্য কতটুকু তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। ইহা ছাড়াও সুন্নাহর গুরুত্ব সম্পর্কে আরও কতগুলি বিষয় তৃতীয় পরিচ্ছেদে তুলে ধরা হল।
﴿ وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ ٣ إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ ٤ ﴾ [ النجم : ٣، ٤ ]
“আর তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না বরং শুধুমাত্র তাকে যা ওহী করা হয় তাই বলেন”। [[সূরা আন্-নাজম: ৩-৪]]
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনী কথা, কাজ ও সম্মতি সব কিছুই ওহী ভিত্তিক। এ জন্যই আল্লাহর নির্দেশকে যেমন কোন ঈমানদার নর-নারীর উপেক্ষা করে চলার সুযোগ নেই। তেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশেরও কোন অবস্থাতেই উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নাই।
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
﴿ وَمَا كَانَ لِمُؤۡمِنٖ وَلَا مُؤۡمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمۡرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلۡخِيَرَةُ مِنۡ أَمۡرِهِمۡۗ وَمَن يَعۡصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلٗا مُّبِينٗا ٣٦ ﴾ [ الاحزاب : ٣٦ ]
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন কাজের নির্দেশ দিলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে কোন এখতিয়ার থাকে না, আর যে আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টটায় পতিত হয়”। [সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৬]
এ আয়াত ইসলামী শরীয়তে সুন্নাহর গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আল্লাহ বা কুরআনের নির্দেশের অবস্থান এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা সুন্নাহর নির্দেশের অবস্থান পাশাপাশি। অনুরূপভাবে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে যেমন পথভ্রষ্ট হয়ে যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ অমান্যের পরিণতিও একই; কোন অংশে তা কম নয়। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিদ্ধান্ত ও সমাধানকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাথা পেতে মেনে নেয়া ছাড়া ঈমানদার হওয়া কখনই সম্ভব নয়।
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
﴿ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا ٦٥ ﴾ [ النساء : ٦٥ ]
“অতঃপর তোমার রবের কসম তারা কখনও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ফায়সালা কারী হিসাবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফায়সালার ব্যাপারে তারা তাদের অন্তরে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নিবে”। [সূরা নিসা: ৬৫]
সুন্নাতের অনুসরণ ছাড়া যেমন ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়, ঈমানদার হওয়ার পর তেমনি আবার সুন্নাতের অনুসরণ ছাড়া পূর্ণ ইসলাম মানাও সম্ভব নয়। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হাসান বাসরী [রাহিমাহুল্লাহ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা সাহাবী ঈমারান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু কিছু ব্যক্তিসহ শিক্ষার আসরে বসেছিলেন। তাদের মধ্য হতে একজন বলে ফেললেন, আপনি আমাদেরকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু শোনাবেন না। তিনি [সাহাবী] বললেন: নিকটে আস, অতঃপর বললেন, তুমি কি মনে কর, যদি তোমাদেরকে শুধু কুরআনের উপরই ছেড়ে দেয়া হয়? তুমি কি যোহরের সালাত চার রাকাত, আসর চার রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত, প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পাঠ করতে হয় ইত্যাদি সব কুরআনে খুঁজে পাবে? অনুরূপভাবে কাবার তাওয়াফ সাত চক্কর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ ইত্যাদি কি কুরআনে খুঁজে পাবে? অতঃপর বললেন: হে মানব সকল! তোমরা আমাদের [সাহাবীদের] নিকট হতে সুন্নাহর আলোকে ঐ সব বিস্তারিত বিধি-বিধান জেনে নাও। আল্লাহর কসম করে বলছি, তোমরা যদি সুন্নাহ্ মেনে না চল, তাহলে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।
শুধু কুরআনুল করীমকে আঁকড়িয়ে ধরে পূর্ণ ইসলাম মানা কখনও সম্ভব নয় বরং এ নীতি মানুষকে পথভ্রষ্ট করে ইসলাম হতে বের করে দিবে এবং পরকালে জান্নাত পাওয়াও অসম্ভব হয়ে যাবে। সুতরাং পরকালে জান্নাত পেতে হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়ে আসা আল্লাহর বাণী আল-কুরআনুল করীম এবং তাঁর হাদিস বা সুন্নাহ্ উভয়েরই একনিষ্ঠ অনুসারী হতে হবে। হাদিসে এসেছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ قَالَ كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلاَّ مَنْ أَبَى قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَنْ يَأْبَى قَالَ مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى
সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমার সকল উম্মতই জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে যারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে তারা ব্যতীত। জিজ্ঞাসা করা হল, কারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে? তিনি বললেন: যে আমার অনুসরণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমাকে অমান্য করে সেই অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। [বুখারি, হাদিস: ৭২৮০]
এ হাদিস স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ্ অনুসরণের কোন বিকল্প পথ নেই।
অতএব ইসলামী শরীয়তে সুন্নাহর গুরুত্ব ও তাৎপর্য কতটুকু তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। ইহা ছাড়াও সুন্নাহর গুরুত্ব সম্পর্কে আরও কতগুলি বিষয় তৃতীয় পরিচ্ছেদে তুলে ধরা হল।