১
সুন্নাহের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
সুন্নাহর পারিভাষিক অর্থ:
আল্লামা ইবনুল আসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেনে, ইসলামি শরীয়তে যখন সাধারণভাবে সুন্নাহ [ سنة ] শব্দটি ব্যবহার করা হবে, তখন এর অর্থ দাঁড়াবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ, নিষেধ কথা, কাজ ও সম্মতি ইত্যাদি; যে সব বিষয় সম্পর্কে আল্লাহর কিতাব কোন প্রকার বর্ণনা দেয়নি; শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। এ জন্যই শরীয়তের দলীল সমূহের ক্ষেত্রে বলা হয় যে, কিতাব ও সুন্নাহের দলীল, অর্থাৎ কুরআন ও হাদিসের দলীল। তবে পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শাস্ত্রের বিদ্বানগণ স্বীয় উদ্দেশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ভঙ্গিতে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তাতে সূন্নাহের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হলেও সূন্নাহের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে মৌলিক কোন পার্থক্য নাই।
আল্লামা শাতবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বিশেষ করে যে সব বিষয়গুলো কুরআনে বর্ণিত নয়, কেবল মাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, শরীয়তের সে সব বিষয়গুলোকে সুন্নাত বলে।
কেউ কেউ বলেন, শরীয়তের পরিভাষায় সুন্নাত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত নফল ইবাদাত। আবার কখনো সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত এমন সব দলীলকে সুন্নাত বলা হয়, যার তিলাওয়াত করা হয় না, যা কুরআনের মত মুজিযার অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা, কর্ম ও সম্মতি এরই অন্তর্ভুক্ত।
এতে প্রমাণিত হয়, যখন সুন্নাত শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন তার দ্বারা তিনটির যে কোন একটি অর্থ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
১- কুরআনের মোকাবেলায় সুন্নাত, তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা, কর্ম ও তার সম্মতি।
২- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব কাজ করেছেন এবং তা তিনি সর্বদা করেছেন, রাসূলের অনুকরণে সে সব কর্ম করার উপর সাওয়াব দেয়া হবে এবং ছেড়ে দেয়ার উপর শাস্তি দেয়া হবে না, তাকে সুন্নাত বলে।
৩- বিদআতের বিপরীতে সুন্নাত শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে সব কথা, কর্ম ও সম্মতি কুরআন ও সুন্নাহ- রাসূলের কথা, কর্ম ও সম্মতির- সাথে সাংঘর্সিক হবে না, বরং কুরআন সুন্নাহের মুয়াফেক হবে, তাকে সুন্নাত বলে। চাই বিষয়টির উপর কুরআন ও হাদিসের সরাসরি দলীল থাকুক বা কুরআন ও হাদিসের মূলনীতি হতে দলীলটি গ্রহণ করা হোক। পক্ষান্তরে যে সব কথা, কর্ম ও সম্মতি কুরআন ও সুন্নাহের পরিপন্থী হবে, তাকে বিদআত বলে।
মুহাদ্দিস তথা হাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কথা, কাজ, সম্মতি এবং সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক গুণাবলী যাহাই প্রমাণিত হয় সবই সুন্নাহ বলে পরিচিত। এই দৃষ্টিকোণ হতে অনেক মুহাদ্দিসের নিকট সুন্নাহ ও হাদিস একই বিষয়। উভয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।
ফিকাহ শাস্ত্রের নীতিমালা তথা ওসূল শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কুরআন ছাড়া ইসলামের দলীল যোগ্য কথা, কাজ ও সম্মতি যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। ফিকাহ্ শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফরয ও ওয়াজিব ছাড়া যে সমস্ত বিধান সাব্যস্ত হয়েছে তা সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। আবার বলা হয় যা করলে ছাওয়াব হবে কিন্তু ছুটে গেলে শাস্তি হবে না তাহাই সুন্নাহ।
বিদ্বানগণের উদ্দেশ্য ভিন্নতার কারণে সংজ্ঞার ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। উপরোক্ত সংজ্ঞা সমূহের মধ্যে মুহাদ্দিসদের সংজ্ঞাটি ব্যাপক অর্থ সম্বলিত, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত কথা, কাজ, সম্মতি এবং সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক গুণাবলী সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত।
অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সৃষ্টিগত ও স্বভাবগত গুণাবলী সুন্নাহ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কিনা সে ব্যাপারে কিছু একাধিক মতামত পরিলক্ষিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী [রাহিমাহুল্লাহ]-এর সুন্নাহর সংজ্ঞাটি যথার্থ বলে মনে হয়। তিনি বলেন:
السنة في الإصطلاح : هى ما صدرعن النبي من قول أو فعل أو تقرير مما يراد به التشريع للأمة، فيخرج بذلك ما صدر عنه من الأمور الدنيوية والجبلية التى لا دخل لها بالأمور الدينية، ولاصلة لها بالوحى .
আল্লামা শাতবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বিশেষ করে যে সব বিষয়গুলো কুরআনে বর্ণিত নয়, কেবল মাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, শরীয়তের সে সব বিষয়গুলোকে সুন্নাত বলে।
কেউ কেউ বলেন, শরীয়তের পরিভাষায় সুন্নাত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত নফল ইবাদাত। আবার কখনো সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত এমন সব দলীলকে সুন্নাত বলা হয়, যার তিলাওয়াত করা হয় না, যা কুরআনের মত মুজিযার অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা, কর্ম ও সম্মতি এরই অন্তর্ভুক্ত।
এতে প্রমাণিত হয়, যখন সুন্নাত শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন তার দ্বারা তিনটির যে কোন একটি অর্থ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
১- কুরআনের মোকাবেলায় সুন্নাত, তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা, কর্ম ও তার সম্মতি।
২- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব কাজ করেছেন এবং তা তিনি সর্বদা করেছেন, রাসূলের অনুকরণে সে সব কর্ম করার উপর সাওয়াব দেয়া হবে এবং ছেড়ে দেয়ার উপর শাস্তি দেয়া হবে না, তাকে সুন্নাত বলে।
৩- বিদআতের বিপরীতে সুন্নাত শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে সব কথা, কর্ম ও সম্মতি কুরআন ও সুন্নাহ- রাসূলের কথা, কর্ম ও সম্মতির- সাথে সাংঘর্সিক হবে না, বরং কুরআন সুন্নাহের মুয়াফেক হবে, তাকে সুন্নাত বলে। চাই বিষয়টির উপর কুরআন ও হাদিসের সরাসরি দলীল থাকুক বা কুরআন ও হাদিসের মূলনীতি হতে দলীলটি গ্রহণ করা হোক। পক্ষান্তরে যে সব কথা, কর্ম ও সম্মতি কুরআন ও সুন্নাহের পরিপন্থী হবে, তাকে বিদআত বলে।
মুহাদ্দিস তথা হাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কথা, কাজ, সম্মতি এবং সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক গুণাবলী যাহাই প্রমাণিত হয় সবই সুন্নাহ বলে পরিচিত। এই দৃষ্টিকোণ হতে অনেক মুহাদ্দিসের নিকট সুন্নাহ ও হাদিস একই বিষয়। উভয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।
ফিকাহ শাস্ত্রের নীতিমালা তথা ওসূল শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কুরআন ছাড়া ইসলামের দলীল যোগ্য কথা, কাজ ও সম্মতি যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। ফিকাহ্ শাস্ত্রবিদদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফরয ও ওয়াজিব ছাড়া যে সমস্ত বিধান সাব্যস্ত হয়েছে তা সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। আবার বলা হয় যা করলে ছাওয়াব হবে কিন্তু ছুটে গেলে শাস্তি হবে না তাহাই সুন্নাহ।
বিদ্বানগণের উদ্দেশ্য ভিন্নতার কারণে সংজ্ঞার ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। উপরোক্ত সংজ্ঞা সমূহের মধ্যে মুহাদ্দিসদের সংজ্ঞাটি ব্যাপক অর্থ সম্বলিত, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত কথা, কাজ, সম্মতি এবং সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক গুণাবলী সবই সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত।
অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সৃষ্টিগত ও স্বভাবগত গুণাবলী সুন্নাহ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কিনা সে ব্যাপারে কিছু একাধিক মতামত পরিলক্ষিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী [রাহিমাহুল্লাহ]-এর সুন্নাহর সংজ্ঞাটি যথার্থ বলে মনে হয়। তিনি বলেন:
السنة في الإصطلاح : هى ما صدرعن النبي من قول أو فعل أو تقرير مما يراد به التشريع للأمة، فيخرج بذلك ما صدر عنه من الأمور الدنيوية والجبلية التى لا دخل لها بالأمور الدينية، ولاصلة لها بالوحى .