hadith book logo

বিরুদ্ধবাদীদের সাথে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ

লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

(ত) রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ব্যবহারের প্রচেষ্টা

মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করে থাকে। আর সমাজকে নিয়ন্ত্রন করে রাষ্ট্র। সমাজ জীবনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সমাজে আদল ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন রকমের যুলুম প্রতিরোধ, সমাজ সদস্যদের মতবিরোধ নিরসন, সামাজিক সমস্যা সমাধান ও কল্যাণই তার মূল লক্ষ্য । আল্লাহ তা‘আলা সকল নবী-রাসূলকে এ পরিকল্পনা দিয়েই পাঠিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে,

﴿ لَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَأَنزَلۡنَا مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡمِيزَانَ لِيَقُومَ ٱلنَّاسُ بِٱلۡقِسۡطِۖ وَأَنزَلۡنَا ٱلۡحَدِيدَ فِيهِ بَأۡسٞ شَدِيدٞ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ ﴾ [ الحديد : ٢٥ ]

‘‘নিশ্চয়ই আমি রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমানসহ এবং তাদের সংগে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায়দন্ড, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। আমি লৌহও দিয়েছি যাতে রয়েছে প্রচন্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-হাদীদ : ২৫।]

আলোচ্য আয়াতে ন্যায়দন্ড ও লৌহদন্ডকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। আর কিতাবকে সংবিধান বলা হয়েছে। এ সবের সমন্বয়ে সমাজে ইসলামী আইন চালু করে সব রকমের যুলুম অত্যাচার ও অন্যায়ের মূলোৎপাটন করা যায়। রাষ্ট্রীয় প্রভাবে সমাজে খুব সহজেই শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। কিন্তু রাষ্ট্র যদি তার বিপরীত হয়, তাহলে সে সমাজ অন্যায়, যুলুম, অত্যাচার, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনায় ভরে ওঠে। এ রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য নবী-রাসূল তাদের সমকালীন রাজা-বাদশাহাদের শত্রুতে পরিণত হন।

আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেলায়ও তার ব্যতিক্রম হয় নি। তিনি বিরুদ্ধবাদীদের চুড়ান্ত মোকাবিলা করেছেন ইসলামী কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। মাত্র দশ বছরের শাসনামলে তিনি মদীনা ও পার্শবর্তী এলাকাসহ বহিঃর্বিশ্বে ইসলামের জাগরণ সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানদের নিকট লোক মারফত চিঠির মাধ্যমে দা‘ওয়াত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। বহিঃর্বিশ্বে বিভিন্ন প্রতিনিধি প্রেরণ করলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ও গোত্রপতিদের দা‘ওয়াত দানের টার্গেট নির্ধারণ করেন। কারণ কোনো জাতির রাষ্ট্রপ্রধান যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে সে জাতির লোকের খুব সহজেই ইসলামের ছায়াতলে ভীড় জমাবে।’’ কেননা, প্রজাগণ তাদের রাজাদের অনুসারী হয়ে থাকে। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের আসনে সমাসীন হওয়ার কারণেই সূদুর বহিঃর্বিশ্ব পর্যন্ত ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল।