১
বিরুদ্ধবাদীদের সাথে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
(গ) মন্দের জবাব ভাল ও উত্তমভাবে দেয়া
উত্তম ব্যবহার মানুষের উন্নত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। মন্দ আচরণের বিপরীতে ভাল আচরণ করলে মানুষ সে দা‘ঈর প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে এটি সর্বাধিক প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ছিলেন অনুগ্রহ ও কোমলতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর সাথে যে বাড়াবাড়ি করতো, তাকে তিনি ক্ষমা করে দিতেন। যারা তার রক্ত ঝরিয়েছে তাদের জন্য তিনি দো‘আ করেছেন। তায়েফের যমীনে আঘাতপ্রাপ্ত হবার পরও তিনি তাদের ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছিলেন। [ইমাম বুখারী, প্রাগুক্ত, ১ম খন্ড, কিতাবু কাইফা বাদউল খালক, পৃ. ৪৫৮।] যে তাঁর সাথে নিকৃষ্ট আচরণ করতো তিনি তার সাথে উৎকৃষ্ট আচরণ করতেন। এদিক থেকে তাঁর সীরাত ছিল কুরআনের বাস্তব নমুনা। আল্লাহ বলেন ‘‘হে নবী ! নম্রতা ও ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন করুন।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-আ‘রাফ : ১৯৯।] ভাল আচরণ দ্বারা শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করা যায়। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেনঃ
﴿ وَلَا تَسۡتَوِي ٱلۡحَسَنَةُ وَلَا ٱلسَّيِّئَةُۚ ٱدۡفَعۡ بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ فَإِذَا ٱلَّذِي بَيۡنَكَ وَبَيۡنَهُۥ عَدَٰوَةٞ كَأَنَّهُۥ وَلِيٌّ حَمِيمٞ ٣٤ ﴾ [ فصلت : ٣٤ ]
‘‘ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দের ব্যাপারে যা উৎকৃষ্ট তাই বলুন, তখন দেখবেন আপনার সাথে যে ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।’’ [আল-কুরআন, সূরা ফুচ্ছিলাত : ৩৪।]
দা‘ঈর পক্ষ থেকে মন্দ আচরণ মাদ‘উ ও দা‘ঈর মাঝে দুরত্ব বাড়িয়ে দেয়, ফলে দা‘ওয়াহ’র লক্ষ্য ব্যাহত হয়। মন্দের প্রতিশোধ নিয়ে মানুষের বাহ্য সমর্থন নেয়া যায়, অন্তর জয় করা যায় না। একমাত্র ভাল আচরণের মাধ্যমেই মানুষের অন্তরে স্থান করে নেয়া সম্ভব। এজন্যে যথাসম্ভব মন্দ আচরণকারীকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে সংশোধনের চেষ্টা অব্যাহত রাখলে আল্লাহ তা‘আলা খুশী হন। তিনি দা‘ঈকে এর উত্তম প্রতিফল দান করেন। [ইরশাদ হয়েছে ﴿وَجَزَٰٓؤُاْ سَيِّئَةٖ سَيِّئَةٞ مِّثۡلُهَاۖ فَمَنۡ عَفَا وَأَصۡلَحَ فَأَجۡرُهُۥ عَلَى ٱللَّهِۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلظَّٰلِمِينَ ٤٠﴾ [ الشورى : ٤٠ ] ‘‘আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোস করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না।’’ আল-কুরআন, সূরা আশ্ শূরা : ৪০।] এ ছাড়াও মহান আল্লাহ সেসব মু‘মিনদের দ্বিগুণ সওয়াব ঘোষণা করেছেন, যারা অহেতুক ও বাজে বিতর্ক থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে দা‘ওয়াতের মহান কাজ আঞ্জাম দেয়। ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু দা‘ঈর গুণাবলী বর্ণনায় সূরা আল-কাসাসে বলা হয়েছেঃ
﴿ أُوْلَٰٓئِكَ يُؤۡتَوۡنَ أَجۡرَهُم مَّرَّتَيۡنِ بِمَا صَبَرُواْ وَيَدۡرَءُونَ بِٱلۡحَسَنَةِ ٱلسَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡ يُنفِقُونَ ٥٤ وَإِذَا سَمِعُواْ ٱللَّغۡوَ أَعۡرَضُواْ عَنۡهُ وَقَالُواْ لَنَآ أَعۡمَٰلُنَا وَلَكُمۡ أَعۡمَٰلُكُمۡ سَلَٰمٌ عَلَيۡكُمۡ لَا نَبۡتَغِي ٱلۡجَٰهِلِينَ ٥٥ ﴾ [ القصص : ٥٤، ٥٥ ]
‘‘তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দের জবাবে ভাল করে এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথা-বার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্য আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস : ৫৪-৫৫।]
﴿ وَلَا تَسۡتَوِي ٱلۡحَسَنَةُ وَلَا ٱلسَّيِّئَةُۚ ٱدۡفَعۡ بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ فَإِذَا ٱلَّذِي بَيۡنَكَ وَبَيۡنَهُۥ عَدَٰوَةٞ كَأَنَّهُۥ وَلِيٌّ حَمِيمٞ ٣٤ ﴾ [ فصلت : ٣٤ ]
‘‘ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দের ব্যাপারে যা উৎকৃষ্ট তাই বলুন, তখন দেখবেন আপনার সাথে যে ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।’’ [আল-কুরআন, সূরা ফুচ্ছিলাত : ৩৪।]
দা‘ঈর পক্ষ থেকে মন্দ আচরণ মাদ‘উ ও দা‘ঈর মাঝে দুরত্ব বাড়িয়ে দেয়, ফলে দা‘ওয়াহ’র লক্ষ্য ব্যাহত হয়। মন্দের প্রতিশোধ নিয়ে মানুষের বাহ্য সমর্থন নেয়া যায়, অন্তর জয় করা যায় না। একমাত্র ভাল আচরণের মাধ্যমেই মানুষের অন্তরে স্থান করে নেয়া সম্ভব। এজন্যে যথাসম্ভব মন্দ আচরণকারীকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে সংশোধনের চেষ্টা অব্যাহত রাখলে আল্লাহ তা‘আলা খুশী হন। তিনি দা‘ঈকে এর উত্তম প্রতিফল দান করেন। [ইরশাদ হয়েছে ﴿وَجَزَٰٓؤُاْ سَيِّئَةٖ سَيِّئَةٞ مِّثۡلُهَاۖ فَمَنۡ عَفَا وَأَصۡلَحَ فَأَجۡرُهُۥ عَلَى ٱللَّهِۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلظَّٰلِمِينَ ٤٠﴾ [ الشورى : ٤٠ ] ‘‘আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোস করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না।’’ আল-কুরআন, সূরা আশ্ শূরা : ৪০।] এ ছাড়াও মহান আল্লাহ সেসব মু‘মিনদের দ্বিগুণ সওয়াব ঘোষণা করেছেন, যারা অহেতুক ও বাজে বিতর্ক থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে দা‘ওয়াতের মহান কাজ আঞ্জাম দেয়। ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু দা‘ঈর গুণাবলী বর্ণনায় সূরা আল-কাসাসে বলা হয়েছেঃ
﴿ أُوْلَٰٓئِكَ يُؤۡتَوۡنَ أَجۡرَهُم مَّرَّتَيۡنِ بِمَا صَبَرُواْ وَيَدۡرَءُونَ بِٱلۡحَسَنَةِ ٱلسَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡ يُنفِقُونَ ٥٤ وَإِذَا سَمِعُواْ ٱللَّغۡوَ أَعۡرَضُواْ عَنۡهُ وَقَالُواْ لَنَآ أَعۡمَٰلُنَا وَلَكُمۡ أَعۡمَٰلُكُمۡ سَلَٰمٌ عَلَيۡكُمۡ لَا نَبۡتَغِي ٱلۡجَٰهِلِينَ ٥٥ ﴾ [ القصص : ٥٤، ٥٥ ]
‘‘তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে। তারা মন্দের জবাবে ভাল করে এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথা-বার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্য আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস : ৫৪-৫৫।]