hadith book logo

বিরুদ্ধবাদীদের সাথে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ

লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

(চ) যুদ্ধ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ

যুলুম নির্যাতন প্রতিরোধে সশস্ত্র পদক্ষেপের গুরুত্ব অত্যাধিক। ইসলামে চুড়ান্ত জিহাদ বা সশস্ত্র যুদ্ধকে যে ক’টি উদ্দেশ্যে অনুমোদন করেছে তাতে প্রাথমিক ও চুড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো, যুলুমের মূলোৎপাটন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ফেৎনা ফাসাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। [ ﴿ أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَٰتَلُونَ بِأَنَّهُمۡ ظُلِمُواْۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ نَصۡرِهِمۡ لَقَدِيرٌ ٣٩ ﴾ [ الحج : ٣٩ ] ‘‘যাদেরকে যুদ্ধ বাধ্য করা হচ্ছে, তাদেরকে যুদ্ধ করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে কারণ তারা নির্যাতিত আর আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।’’ আল-কুরআন, সূরা আল-হজ্জ্ব : ৩৯।] অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-‘‘ফেতনা ফাসাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাও।’’ [ ﴿ وَقَٰتِلُوهُمۡ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتۡنَةٞ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ لِلَّهِۖ فَإِنِ ٱنتَهَوۡاْ فَلَا عُدۡوَٰنَ إِلَّا عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ ١٩٣ ﴾ [ البقرة : ١٩٣ ] আল-কুরআন, সূরা আনফাল : ৩৯।] তবে এ পর্যায়ের যুদ্ধের জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেশ বা নেতৃত্বের ছায়ায় হতে হবে।

তাছাড়া ইসলামের বিরোধিতায় কাফের মুশরিকগণ যখন কথায় ও কাজে চরম বাড়াবাড়ি করছে, উম্মুক্ত তলোয়ার নিয়ে রাসূলের দা‘ওয়াত ও আন্দোলনকে নির্মূল করার চেষ্টা করেছে, ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে, তখনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিরক্ষামূলক বিভিন্ন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন এবং সশস্ত্র সংগ্রাম করেছেন।

সুতরাং দু’টি কারণে ইসলামে সশস্ত্র যুদ্ধ করা যায়, এক. প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। দুই. ইসলামী দা‘ওয়াতের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করার জন্য, দাওয়াতের পথে যারা বাধা হবে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য। তবে এখানেও মুসলিমদের ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনা করে এগুতে হবে।

বস্তুত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধনীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল সাধ্যমত জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটিয়ে নতুন নতুন কৌশল ও নৈতিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শত্রু শক্তি নিষ্ক্রিয় করে দেয়া। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশু ও নারী, ফলবান বৃক্ষ প্রভৃতিকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধের পূর্বে সাহাবীদের নির্দেশ দিতেন। মাত্র ২৩/২৪ জনের প্রাণ হানির মাধ্যমে তিনি মক্কা বিজয় করতে সক্ষম হন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩৩ টি যুদ্ধ ও ২৮ টি অভিযান প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর এ প্রতিরক্ষামূলক নীতির কারণে সেসব যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা হাজারের কোটাও স্পর্শ করে নি। পৃথিবীতে অন্যান্য যুদ্ধে হতাহতের তুলনায় যা ছিল একেবারে নগন্য। অথচ এক বিশাল ও সফল বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন তিনি। যুদ্ধের ময়দানে তিনি শত্রুপক্ষকে ক্ষমা করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।