১
তাক্বদীরঃ আল্লাহ্র এক গোপন রহস্য
লেখকঃ আব্দুল আলীম ইব্ন কাওসার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
ইরাদাহ কাউনিইয়াহ এবং ইরাদাহ শারঈয়াহ-এর মধ্যে পারস্পরিক সম্মিলন এবং বিচ্ছিন্নতার চারটি অবস্থা। যথাঃ
প্রথম অবস্থাঃ কিছু কিছু বিষয়ের সাথে উভয় প্রকার ইরাদাহ বিদ্যমান থাকে। আর মুমিন কর্তক সংঘটিত যাবতীয় সৎকর্ম এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। যেমনঃ আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) এবং সকল মুমিনের ঈমান ও সৎকর্ম। উদাহরণ স্বরূপ আরো বলা যেতে পারে, কোন নেককার বান্দা ছালাত আদায় করলে তার ছালাতে উভয় প্রকার ইরাদাহ্র সমন্বয় ঘটে। কারণ ছালাত আল্লাহ্র প্রিয়, তিনি তা কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ইরাদাহ শারইয়াহ। আর যেহেতু ঐ মুমিন ব্যক্তি ছালাত আদায় করে ফেলেছে, সেহেতু তা ইরাদাহ কাউনিইয়াহ। কারণ আল্লাহ্র ইরাদাহ কাউনিইয়াহ না থাকলে তা কখনই ঘটত না।
অনুরূপভাবে একজন মুমিনের ঈমানে দুই প্রকার ইরাদাহ্র সমন্বয় ঘটে। কেননা মহান আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবে যেমনি চেয়েছেন যে, সে অনুগত মুমিন হবে, তেমনি ধর্মীয়ভাবেও তার পক্ষ থেকে তিনি ঈমান কামনা করেছেন।
দ্বিতীয় অবস্থাঃ কিছু কিছু বিষয়ের সাথে শুধুমাত্র ইরাদাহ শারঈয়াহ বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ যেসব সৎকর্মের আদেশ করেছেন; কিন্তু কাফের এবং পাপী-তাপীরা আল্লাহ্র নির্দেশ লংঘন করে সেগুলি বাস্তবায়ন করে নি- এই ধরনের সৎকর্ম এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। যেমনঃ আবু জাহ্লসহ সকল কাফেরের ঈমান এবং সৎকর্ম। অনুরূপভাবে কোন কাফেরের ঈমানে এবং পাপীর আনুগত্যে শুধুমাত্র ইরাদাহ শারঈয়াহ পাওয়া যায়। কেননা এই ঈমান এবং আনুগত্য আল্লাহ্র পছন্দ। আর পছন্দ বলেই তাতে ইরাদাহ শারঈয়াহ আছে। কিন্তু আল্লাহ্র নির্দেশ সত্ত্বেও সে যেহেতু ঈমান না এনে কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, সেহেতু তাতে (অর্থাৎ তার ঈমান আনয়নে) ইরাদাহ কাউনিইয়াহ নেই। কারণ ইরাদাহ কাউনিইয়াহ থাকলে সে কাফের অবস্থায় মরত না; বরং অবশ্যই ঈমান আনত।
তৃতীয় অবস্থাঃ কোন কোন বিষয়ের সাথে শুধুমাত্র ইরাদাহ কাউনিইয়াহ বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন; কিন্তু আদেশ করেন নি- এমন সকল পাপ কাজ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যেমনঃ মানুষ কর্তৃক ঘটে যাওয়া সকল পাপকর্ম। কারণ আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবে না চাইলে সেগুলি ঘটত না। অনুরূপভাবে কোন কাফেরের কুফরীতে শুধুমাত্র ইরাদাহ কাউনিইয়াহ মওজূদ থাকে, ইরাদাহ শারঈয়াহ নয়। কেননা যেহেতু তার পক্ষ থেকে কুফরী ঘটে গেছে, সেহেতু তা ইরাদাহ কাউনিইয়াহ। কারণ ইরাদাহ কাউনিইয়াহ না থাকলে তা কখনই ঘটত না। আর যেহেতু আল্লাহ কুফরীকে পছন্দ করেন না, সেহেতু তা ইরাদাহ শারঈয়াহ নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَلَا يَرْضَىٰ لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ﴾ [ سورة الزمر : 7]
‘তিনি তাঁর বান্দাদের কাফের হয়ে যাওয়া পছন্দ করেন না’ (যুমার ৭)।
চতুর্থ অবস্থাঃ কিছু কিছু বিষয়ের সাথে দুই প্রকার ইরাদাহ্র কোনটিরই সম্পর্ক থাকে না। যেমনঃ ঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কোন মুমিন ব্যক্তির কুফরীতে কোন প্রকার ইরাদাহ্র অস্তিত্ব থাকে না। কেননা আল্লাহ কুফরী পছন্দ করেন না। আর সেজন্যই তাতে ইরাদাহ শারঈয়াহ নেই। পক্ষান্তরে যেহেতু তা উক্ত মুমিন কর্তৃক সংঘটিত হয় নি, সেহেতু তাতে ইরাদাহ কাউনিইয়াহও নেই। কারণ তাতে ইরাদাহ কাউনিইয়াহ থাকলে সে মুমিন হয়ে মৃত্যুবরণ করত না; বরং কুফরী কর্ম নিয়েই দুনিয়া ছাড়ত। [. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিইয়াহ, ৮/১৮৯; তাযকিরাতুল মু’তাসী শারহু আক্বীদাতিল হাফেয আব্দিল গাণী আল-মাক্বদেসী/১৫৩; আল-ঈমানু বিল-ক্বাযা ওয়াল-ক্বাদার/৯৯।]
অনুরূপভাবে একজন মুমিনের ঈমানে দুই প্রকার ইরাদাহ্র সমন্বয় ঘটে। কেননা মহান আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবে যেমনি চেয়েছেন যে, সে অনুগত মুমিন হবে, তেমনি ধর্মীয়ভাবেও তার পক্ষ থেকে তিনি ঈমান কামনা করেছেন।
দ্বিতীয় অবস্থাঃ কিছু কিছু বিষয়ের সাথে শুধুমাত্র ইরাদাহ শারঈয়াহ বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ যেসব সৎকর্মের আদেশ করেছেন; কিন্তু কাফের এবং পাপী-তাপীরা আল্লাহ্র নির্দেশ লংঘন করে সেগুলি বাস্তবায়ন করে নি- এই ধরনের সৎকর্ম এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। যেমনঃ আবু জাহ্লসহ সকল কাফেরের ঈমান এবং সৎকর্ম। অনুরূপভাবে কোন কাফেরের ঈমানে এবং পাপীর আনুগত্যে শুধুমাত্র ইরাদাহ শারঈয়াহ পাওয়া যায়। কেননা এই ঈমান এবং আনুগত্য আল্লাহ্র পছন্দ। আর পছন্দ বলেই তাতে ইরাদাহ শারঈয়াহ আছে। কিন্তু আল্লাহ্র নির্দেশ সত্ত্বেও সে যেহেতু ঈমান না এনে কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, সেহেতু তাতে (অর্থাৎ তার ঈমান আনয়নে) ইরাদাহ কাউনিইয়াহ নেই। কারণ ইরাদাহ কাউনিইয়াহ থাকলে সে কাফের অবস্থায় মরত না; বরং অবশ্যই ঈমান আনত।
তৃতীয় অবস্থাঃ কোন কোন বিষয়ের সাথে শুধুমাত্র ইরাদাহ কাউনিইয়াহ বিদ্যমান থাকে। আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন; কিন্তু আদেশ করেন নি- এমন সকল পাপ কাজ এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যেমনঃ মানুষ কর্তৃক ঘটে যাওয়া সকল পাপকর্ম। কারণ আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবে না চাইলে সেগুলি ঘটত না। অনুরূপভাবে কোন কাফেরের কুফরীতে শুধুমাত্র ইরাদাহ কাউনিইয়াহ মওজূদ থাকে, ইরাদাহ শারঈয়াহ নয়। কেননা যেহেতু তার পক্ষ থেকে কুফরী ঘটে গেছে, সেহেতু তা ইরাদাহ কাউনিইয়াহ। কারণ ইরাদাহ কাউনিইয়াহ না থাকলে তা কখনই ঘটত না। আর যেহেতু আল্লাহ কুফরীকে পছন্দ করেন না, সেহেতু তা ইরাদাহ শারঈয়াহ নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَلَا يَرْضَىٰ لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ﴾ [ سورة الزمر : 7]
‘তিনি তাঁর বান্দাদের কাফের হয়ে যাওয়া পছন্দ করেন না’ (যুমার ৭)।
চতুর্থ অবস্থাঃ কিছু কিছু বিষয়ের সাথে দুই প্রকার ইরাদাহ্র কোনটিরই সম্পর্ক থাকে না। যেমনঃ ঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কোন মুমিন ব্যক্তির কুফরীতে কোন প্রকার ইরাদাহ্র অস্তিত্ব থাকে না। কেননা আল্লাহ কুফরী পছন্দ করেন না। আর সেজন্যই তাতে ইরাদাহ শারঈয়াহ নেই। পক্ষান্তরে যেহেতু তা উক্ত মুমিন কর্তৃক সংঘটিত হয় নি, সেহেতু তাতে ইরাদাহ কাউনিইয়াহও নেই। কারণ তাতে ইরাদাহ কাউনিইয়াহ থাকলে সে মুমিন হয়ে মৃত্যুবরণ করত না; বরং কুফরী কর্ম নিয়েই দুনিয়া ছাড়ত। [. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিইয়াহ, ৮/১৮৯; তাযকিরাতুল মু’তাসী শারহু আক্বীদাতিল হাফেয আব্দিল গাণী আল-মাক্বদেসী/১৫৩; আল-ঈমানু বিল-ক্বাযা ওয়াল-ক্বাদার/৯৯।]