hadith book logo

তাক্বদীরঃ আল্লাহ্‌র এক গোপন রহস্য

লেখকঃ আব্দুল আলীম ইব্‌ন কাওসার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

২. মুছীবত এলে ‘যদি’ শব্দ ব্যবহার করাঃ

সম্পদ নষ্ট, শস্য-ফসলের ক্ষতি, সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত হলে অথবা অন্য যে কোন বিপদাপদ এলে চিন্তিত, রাগান্বিত ও বিরক্ত হয়ে অনেকেই বলে, যদি আমি এমন করতাম, তাহলে এমনটি হত না অথবা, আমি যদি এমন করতাম, তাহলে এমন হত! আমি যদি সফর না করতাম, তাহলে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতাম!

এ ধরনের বাক্য ব্যবহার মারাত্মক ভুল এবং ব্যক্তির অজ্ঞতার পরিচায়ক। কারণ মুছীবতে বান্দাকে ধৈর্য্যধারণ এবং তওবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এসব ক্ষেত্রে ‘যদি’ শব্দটি ব্যবহার করলে বান্দার আফসোস এবং দুশ্চিন্তা বাড়া ছাড়া কমে না। তাছাড়া এতে তাক্বদীরের বিরোধিতার ভয়তো থেকেই যায়। [. সুলায়মান ইবনে আব্দুল্লাহ, তায়সীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ, তাহক্বীক্ব: উসামা উতায়বী, (রিয়ায: দারুছ ছুমায়ঈ, প্রথম প্রকাশ: ২০০৭ ইং), ২/১১৬০; আব্দুর রহমান ইবনে নাছের সা‘দী, আল-ক্বওলুস সাদীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ, তাহক্বীক্ব: ছবরী ইবনে সালামাহ, (রিয়ায: দারুছ ছাবাত, প্রথম প্রকাশ: ২০০৪ ইং), পৃ: ২৬৮-২৬৯।]

সেকারণেই আল্লাহ মুনাফিক্বদেরকে ভর্ৎসনা করে তাদের এ ধরণের বাক্য তুলে ধরে বলেন,

﴿لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَّا قُتِلْنَا هَاهُنَا﴾ [ سورة آل عمران : 154]

‘আমাদের যদি কিছু করার থাকত, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না’ (আলে ইমরান ১৫৪)।

﴿الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا﴾ [ سورة آل عمران : 168]

‘তারা হলো ঐসব লোক, যারা (যুদ্ধে না যেয়ে) বসে থাকে এবং তাদের ভাইদের সম্বদ্ধে বলে, যদি তারা আমাদের কথা শুনত, তবে নিহত হত না’ (আলে ইমরান ১৬৮)। আল্লাহ তাদের এ জাতীয় কথার জবাব দিয়েছেন এভাবে,

﴿قُلْ فَادْرَءُوا عَنْ أَنفُسِكُمُ الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ﴾ [ سورة آل عمران : 168]

‘তাদেরকে বলে দিন, এবার তোমরা তোমাদের নিজেদের উপর থেকে মৃত্যুকে সরিয়ে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক’ (আলে ইমরান ১৬৮)।

আমরা কোন কিছু অর্জনের যথারীতি প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও যদি তা অর্জন করতে না পারি, তাহলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রদর্শিত নীতিমালা মেনে চলতে হবে। তিনি বলেছেন, এমতাবস্থায় তোমাদের কেউ যেন না বলে, ‘আমি যদি এমন এমন করতাম’। বরং সে যেন বলে,

«فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ قَدَرُ اللهُِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ»

‘এটিই আল্লাহ নির্ধারিত তাক্বদীর এবং তিনি যা চেয়েছেন, তা-ই হয়েছে। কেননা ‘যদি’ শয়তানের কাজের পথ খুলে দেয়’। [. ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪, ‘তাক্বদীর’ অধ্যায়, ‘দৃঢ় হওয়া, অপারগতাকে বর্জন করা, আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থী হওয়া এবং তাক্বদীরের বিষয়টি আল্লাহ্‌র উপর ছেড়ে দেওয়া’ অনু্চ্ছেদ।]

হাদীছটিতে স্পষ্ট ঘোষণা করা হল যে, কোন কিছু ঘটে যাওয়ার পরে ‘যদি’ কোন ফায়দা দেয় না। সুতরাং তাক্বদীরের উপর খুশী থাকতে হবে এবং আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে এর প্রতিদানের প্রত্যাশী হতে হবে। সাথে সাথে ভবিষ্যতে আরো ভাল কিছু অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। [. মুহাম্মাদ ইবনে ছালেহ উছায়মীন, আল-ক্বওলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, (দাম্মাম: দারু ইবনিল জাওযী, তা. বি.), ২/৩৬১-৩৬২; আল-ঈমান বিল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার/১৫২-১৫৩]

তবে বিপদাপদ ছাড়াই কল্যাণকর কোন কিছুর আশা করে ‘যদি’ শব্দটি ব্যবহার করা যায়। যেমনঃ আল্লাহ যদি আমাকে ধন-সম্পদ দিতেন, তাহলে তাঁর পথে অনেক ব্যয় করতাম। গতকাল যদি আমি ক্লাসে যেতাম, তাহলে অনেক উপকৃত হতাম। [. আল-ক্বওলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, ২/৩৬২-৩৬৩।]