hadith book logo

ইবাদত-বন্দেগীতে মধ্যপন্থা অবলম্বন

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :

এক. যে সকল মুসলমান নিজ মাতৃভূমি মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় গিয়েছিলেন তাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একেক জনকে স্থানীয় একজনের সাথে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন। এ ধারাবাহিকতায় সালমান ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সম্পর্ক করে দেয়া হয়েছে। নিজেদের দু:খ-দুর্দশা পরস্পরের মধ্যে ভাগাভাগি করার এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

দুই. আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু ইবাদত-বন্দেগীর প্রতি এত মনোযোগী ছিলেন যে, নিজের শরীর-স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিজনের প্রতি যথাযথ যত্ন নিতে পারতেন না। তার এ অবস্থাটা ইসলামী আদর্শের অনুকূল ছিল না। তাই সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এটির সংশোধনের চেষ্টা করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর আলোকে। এটি হল একে অপরকে হকের দিকে আহবান করার একটি ইসলামী চরিত্র। প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব হল, সে তার ভাইকে ইসলামের আলোকে সংশোধন করার আদর্শ লালন করবে।

তিন. সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার অধিকার (পাওনা) , নিজের অধিকার, নিজের স্ত্রী-সন্তানদের অধিকারগুলো আদায় করা ইসলামেরই নির্দেশ।

চার. সকলের পাওনা বা অধিকারগুলো আদায় করে ইবাদত-বন্দেগীর দায়িত্ব পালন করে জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা কর্তব্য। এর নাম হল ধর্মে মধ্যপন্থা অবলম্বন।

পাঁচ. প্রয়োজনে অপরিচিত বা অনাত্মীয়া নারীর সাথে কথা বলা যায়। এমনিভাবে নারী, ভিন পুরুষের সাথে কথা বলতে পারে।

ছয়. যদি দেখা যায় কোন ব্যক্তির কষ্ট হচ্ছে তাহলে মুস্তাহাব আমল থেকে তাকে বিরত রাখা যায়।

সাত. শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের ফজিলত প্রমাণিত। সাহাবায়ে কেরামও নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন।