hadith book logo

ইবাদত-বন্দেগীতে মধ্যপন্থা অবলম্বন

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :

এক. যদি কেউ এমন মানত করে যা নিজের জীবন বা ধর্মের জন্য ক্ষতিকর তা আদায় করা যাবে না। যেমন আলোচ্য ব্যক্তি রোদে দাঁড়িয়ে থাকা, ছায়ায় না বসা, কথা না বলার মানত করেছিল। সাথে সাথে সে রোজা রাখার মানত করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শুধু রোজা রাখতে বললেন আর বাকীগুলো পালন করতে নিষেধ করলেন। এমনিভাবে মানত করার মাধ্যমে কোন বৈধ বিষয়কে নিজের জন্য অবৈধ করা যায় না। তিমনি অবৈধ কোন কিছুকে বৈধ করা যায় না। যেমন কেউ মানত করল আমি ইলেকশনে জিতে গেলে একটি গানের আসর করব। এ ধরনের মানত পালনযোগ্য নয়।

দুই. যা মানত করা হয় তা যদি সওয়াবের বিষয় হয় তবে তা আদায় করতে হবে। আর যদি অনর্থক কোন বিষয় হয় তবে তা আদায় করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

من نذر أنْ يطيع الله فليطعه ، ومن نذر أن يعصي الله فلا يعصه » .

যে আল্লাহ হুকুম মান্য করার মানত করেছে সে যেন তা করে। আর যে আল্লাহর নাফরমানীর মানত করেছে সে যেন তা না করে।

তিন. কোন বিষয়ে মানত করা উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে নিরুৎসাহিত করেছেন। কিন্তু মানত করলে তা পূরণ করতেই হবে। মানত পূরণ করতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন।

চার. ইবাদত বন্দেগী, মানতের নামে নিজের উপর কোন কঠোরতা আরোপ করা উচিত নয়। এটি একটি চরমপন্থা। ইসলামের মধ্যপন্থার পরিপন্থী। আবু ইসরাইল যে ছায়ায় না বসা, রোদে দাঁড়িয়ে থাকা আর কথা না বলার যে মানত করেছিল সেটা মধ্যপন্থার বিপরীত ছিল। তাই তা পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়া হল।

পাঁচ. খুতবার সময় দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নয়। তাই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দাড়িয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলেন।

ছয়. খুতবার সময় প্রয়োজনে খতীব কথা বলতে পারেন। কাউকে কোন কিছুর আদেশ বা কোন কাজ থেকে নিষেধ করতে পারেন।

বি:দ্র: - হাদীসগুলো ইমাম নববী রহ. কর্তৃক সংকলিত রিয়াদুস সালেহীন থেকে সংগৃহিত

সমাপ্ত