hadith book logo

ইবাদত-বন্দেগীতে মধ্যপন্থা অবলম্বন

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :

এক. সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত-বন্দেগীর ধরণ, পদ্ধতি ও পরিমাণ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিলেন। আমাদেরও জানার জন্য চেষ্টা করা উচিত। তাদের জানার উদ্দেশ্য ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ।

দুই. ইসলামে কোন ধরনের বৈরাগ্যবাদের স্থান নেই। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম-নিদ্রা, বিয়ে-শাদী, পরিবার পরিজন ইত্যাদি সবকিছু নিয়েই ইসলামী জীবন। এগুলো বাদ দিয়ে বা এগুলোকে অবজ্ঞা করে যদি কেউ শুধু ইবাদত-বন্দেগী করে ইসলাম পালন করতে চায় সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতভুক্ত বলে গণ্য হবে না।

তিন. দুনিয়ার সকল কাজ-কর্ম, অন্যের অধিকার আদায় করার সাথে সাথে সাধ্য সামর্থানুযায়ী ইবাদত-বন্দেগী সম্পাদন করার নাম হল মধ্যপন্থা অবলম্বন। এটাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ। তাই দুনিয়াদারী ছেড়ে ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত হওয়া বা ইবাদত-বন্দেগী বাদ দিয়ে দুনিয়ারীতে লিপ্ত হয়ে যাওয়া কখনো মধ্যপন্থা বলে গণ্য হবে না। দু’টোই চরমপন্থা।

চার. নিজেদের প্রতি বাড়াবড়ি করার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝাই বাড়িয়েছে। যেমন দেখুন, আল কুরআনে সূরা বাকারার ৬৭ আয়াত থেকে ৭১ আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাইলের একটি বাড়াবাড়ির বিষয় আলোচনা করেছেন। তাদের বলা হল একটি গাভী জবেহ করতে। কিন্তু তারা প্রশ্ন করতে থাকল, গাভীটি কি ধরনের হবে ? তার রং কি রকম হবে? তার বয়স কত হবে ইত্যাদি। পরিণামে তাদের এ বাড়াবাড়ির ফলটা তাদেরই ভোগ করতে হল কঠিন ভাবে।