১
ইসলামী মিডিয়ার উৎস, মূলনীতি ও ভিত্তিসমূহ
লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
গ. চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত
ইসলাম আকীদাহ, শরী‘আত ও আখলাকের উপর প্রতিষ্ঠিত। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ মানুষের চরিত্র সংশোধনের নিমিত্তে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের চরিত্র সংশোধনের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق»
‘‘নিশ্চয় আমি তোমাদের চরিত্রকে পূর্ণতাদানকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। [বাইহাকী ফিল কুবরা, ১০/১৯১; নং ২০৫৭১।]’’
উপর্যুক্ত হাদীসটি দীনের অন্যতম মূলনীতি। ইসলামী রাষ্ট্র সর্বদা এ মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। চারিত্রিক গুণাবলী রক্ষা করতে গিয়ে একজন মুসলিম কখনো অপর মুসলিমের সম্মান, সম্পদ ও রক্তহানি ঘটাতে পারে না। এ দিকে লক্ষ্য করেই মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর সেনা নেতা ইয়াযিদ ইবন্ আবু সুফিয়ানকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন-
‘‘তাদের (সেনাদের) উপর গোয়েন্দাগিরি করবে না, তাহলে তারা তোমাকে লাঞ্ছিত করবে। তাদের গোপন বিষয় প্রকাশ করবে না, প্রকাশ্যে যা আছে তা যথেষ্ট মনে করবে।’’ [.ইবনুল আছীর, আল-কামিল ফিত্-তারিখ, বৈরুত: দারুল ‘ইলম লিল মালাইন, দ্বিতীয় খন্ড, তা.বি., পৃ. ৪০৫।]
এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হাদীসের বক্তব্যের অনুরূপ, তিনি বলেন:
«كل مسلم على المسلم حرام عرضه وماله ودمه»
“প্রতিটি মুসলিমের সম্মান, সম্পদ ও জান অপর মুসলিমের উপর হারাম” [অর্থাৎ যাতে তা লঙ্ঘন না করা হয়। হাদীসটি ইমাম তিরমিযী উদ্ধৃত করেছেন, নং ১৯২৭।]।
আলোচ্য হাদীসে যে নির্দেশনাগুলো পাই সেগুলো মিডিয়ার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী মিডিয়া সর্বদা এসব অনুসরণ করে পরিচালিত হবে। মুসলিমগণের দোষ-ত্রুটি ও গোপন বিষয় অনুসন্ধানের চেষ্টা করবে না। গোয়েন্দাগিরি করবে না, বিনা প্রয়োজনে মানুষের দোষ অন্বেষণ করবে না। গীবত, চোগলখুরী ও অপবাদ দেয়া হতে বিরত থাকবে। এ মর্মে কুরআনে এসেছে-
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱجۡتَنِبُواْ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمٞۖ وَ لَا تَجَسَّسُواْ وَلَا يَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمۡ أَن يَأۡكُلَ لَحۡمَ أَخِيهِ مَيۡتٗا فَكَرِهۡتُمُوهُۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٞ رَّحِيمٞ ١٢ ﴾ [ الحجرات : ١٢ ]
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে দূরে থাক; কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশ্ত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে কর। আর তোমরা আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ্ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।’’ [.সূরা হুজরাত : ১২।]
এছাড়াও কোনো সংবাদ প্রাপ্ত হলে তার সত্যতা যাচাই করা ব্যতীত প্রচার না করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন-
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِن جَآءَكُمۡ فَاسِقُۢ بِنَبَإٖ فَتَبَيَّنُوٓاْ أَن تُصِيبُواْ قَوۡمَۢا بِجَهَٰلَةٖ فَتُصۡبِحُواْ عَلَىٰ مَا فَعَلۡتُمۡ نَٰدِمِينَ ٦ ﴾ [ الحجرات : ٦ ]
‘‘হে ঈমানদারগণ! যদি কোন ফাসিক তোমাদের কাছে কোন বার্তা নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখ, এ আশঙ্কায় যে, অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হবে।’’ [.সূরা হুজরাত : ৬।]
উপরোক্ত আয়াত, হাদীস ও আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর অছিয়াত থেকে আমরা যা পাই তা ইসলামী মিডিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর এতে মানুষের গোপন বিষয় প্রকাশ না করা, গোয়েন্দাগিরি না করা, প্রয়োজন ব্যতীত প্রকাশমান বিষয়কে যথেষ্ট মনে করার দিকে আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত যেসব খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, বুকলেট আমরা পড়ি এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাহায্যে আমরা যা দেখি তা উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ শ্রেণী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এসব বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইসলাম মিডিয়াকে এসব খারাপ গুণাবলী পরিহার করে বড় মনের পরিচয় দিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানে ভূমিকা রাখতে নির্দেশ করে।
«إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق»
‘‘নিশ্চয় আমি তোমাদের চরিত্রকে পূর্ণতাদানকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। [বাইহাকী ফিল কুবরা, ১০/১৯১; নং ২০৫৭১।]’’
উপর্যুক্ত হাদীসটি দীনের অন্যতম মূলনীতি। ইসলামী রাষ্ট্র সর্বদা এ মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। চারিত্রিক গুণাবলী রক্ষা করতে গিয়ে একজন মুসলিম কখনো অপর মুসলিমের সম্মান, সম্পদ ও রক্তহানি ঘটাতে পারে না। এ দিকে লক্ষ্য করেই মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর সেনা নেতা ইয়াযিদ ইবন্ আবু সুফিয়ানকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন-
‘‘তাদের (সেনাদের) উপর গোয়েন্দাগিরি করবে না, তাহলে তারা তোমাকে লাঞ্ছিত করবে। তাদের গোপন বিষয় প্রকাশ করবে না, প্রকাশ্যে যা আছে তা যথেষ্ট মনে করবে।’’ [.ইবনুল আছীর, আল-কামিল ফিত্-তারিখ, বৈরুত: দারুল ‘ইলম লিল মালাইন, দ্বিতীয় খন্ড, তা.বি., পৃ. ৪০৫।]
এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হাদীসের বক্তব্যের অনুরূপ, তিনি বলেন:
«كل مسلم على المسلم حرام عرضه وماله ودمه»
“প্রতিটি মুসলিমের সম্মান, সম্পদ ও জান অপর মুসলিমের উপর হারাম” [অর্থাৎ যাতে তা লঙ্ঘন না করা হয়। হাদীসটি ইমাম তিরমিযী উদ্ধৃত করেছেন, নং ১৯২৭।]।
আলোচ্য হাদীসে যে নির্দেশনাগুলো পাই সেগুলো মিডিয়ার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী মিডিয়া সর্বদা এসব অনুসরণ করে পরিচালিত হবে। মুসলিমগণের দোষ-ত্রুটি ও গোপন বিষয় অনুসন্ধানের চেষ্টা করবে না। গোয়েন্দাগিরি করবে না, বিনা প্রয়োজনে মানুষের দোষ অন্বেষণ করবে না। গীবত, চোগলখুরী ও অপবাদ দেয়া হতে বিরত থাকবে। এ মর্মে কুরআনে এসেছে-
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱجۡتَنِبُواْ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمٞۖ وَ لَا تَجَسَّسُواْ وَلَا يَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمۡ أَن يَأۡكُلَ لَحۡمَ أَخِيهِ مَيۡتٗا فَكَرِهۡتُمُوهُۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٞ رَّحِيمٞ ١٢ ﴾ [ الحجرات : ١٢ ]
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে দূরে থাক; কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশ্ত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে কর। আর তোমরা আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ্ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।’’ [.সূরা হুজরাত : ১২।]
এছাড়াও কোনো সংবাদ প্রাপ্ত হলে তার সত্যতা যাচাই করা ব্যতীত প্রচার না করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন-
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِن جَآءَكُمۡ فَاسِقُۢ بِنَبَإٖ فَتَبَيَّنُوٓاْ أَن تُصِيبُواْ قَوۡمَۢا بِجَهَٰلَةٖ فَتُصۡبِحُواْ عَلَىٰ مَا فَعَلۡتُمۡ نَٰدِمِينَ ٦ ﴾ [ الحجرات : ٦ ]
‘‘হে ঈমানদারগণ! যদি কোন ফাসিক তোমাদের কাছে কোন বার্তা নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখ, এ আশঙ্কায় যে, অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হবে।’’ [.সূরা হুজরাত : ৬।]
উপরোক্ত আয়াত, হাদীস ও আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর অছিয়াত থেকে আমরা যা পাই তা ইসলামী মিডিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর এতে মানুষের গোপন বিষয় প্রকাশ না করা, গোয়েন্দাগিরি না করা, প্রয়োজন ব্যতীত প্রকাশমান বিষয়কে যথেষ্ট মনে করার দিকে আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত যেসব খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, বুকলেট আমরা পড়ি এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাহায্যে আমরা যা দেখি তা উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ শ্রেণী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এসব বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইসলাম মিডিয়াকে এসব খারাপ গুণাবলী পরিহার করে বড় মনের পরিচয় দিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানে ভূমিকা রাখতে নির্দেশ করে।