১
ইসলামী মিডিয়ার উৎস, মূলনীতি ও ভিত্তিসমূহ
লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
ইসলামী দা‘ওয়াহ ও মিডিয়ার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা নিম্নরূপ:
এক. বক্তৃতা
খুতবা বা ভাষণ মিডিয়ার অন্যতম মাধ্যম। বক্তৃতার মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানের পাশাপাশি প্রভাব সৃষ্টি করাও সম্ভব হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অনেক বড় খতীব। যুগে যুগে তাঁর খুতবার প্রভাবে মানব সমাজে যথেষ্ট পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে দীনের দা‘ওয়াত দিতে খুতবাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। রাসূলের জুমআর খুতবা, বিদায় হজ্বের ভাষণ সর্বস্তরের মানুষের জন্য এক নির্দেশনা।
দুই. পত্র প্রেরণ
পত্র প্রেরণের মাধ্যমে যোগাযোগ প্রক্রিয়া সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দা‘ওয়াতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পত্র প্রেরণ করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের কাছে ইসলামের দা‘ওয়াত দিয়ে পত্র প্রেরণ করতেন। তন্মধ্যে রোমের বাদশাহ হিরাক্লিয়াস ও পারস্যের বাদশাহ কায়সারের কাছে প্রেরিত পত্র উল্লেখযোগ্য। হিরাক্লিয়াসকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন,
«بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ : سَلاَمٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الهُدَى أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الإِسْلاَمِ أَسْلِمْ تَسْلَمْ يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الأَرِيسِيِّينَ " وَ ﴿يَا أَهْلَ الكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَنْ لاَ نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلاَ نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلاَ يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ﴾»
‘‘পরম করুণাময় আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হতে রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। সৎ পথ প্রাপ্তের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তৎপর, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করছি। ইসলাম গ্রহণ কর, নিরাপত্তা পাবে। আল্লাহ তোমাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দিবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও; তবে নিশ্চয় অধীনস্থদের অপরাধও তোমার উপর বর্তাবে। আর (আল্লাহ বলেন) ‘আপনি বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এস সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যেন আমরা একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া কারো ইবাদাত না করি, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করি এবং আমাদের কেউ আল্লাহ্ ছাড়া একে অন্যকে রব হিসেবে গ্রহণ না করি।’ তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা বল, তোমরা সাক্ষী থাক যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম’ [বুখারী, হাদীস নং ৭; মুসলিম, হাদীস নং ১৭৭৩। আর আয়াতটি সূরা আলে ইমরানের ৬৪ নং আয়াত।]।’’
তিন. সংলাপ
সংলাপ যোগাযোগ প্রক্রিয়া হিসেবে খুব প্রাচীন। আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন; যা সংলাপের একমাত্র উপাদান। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিক, ইয়াহূদী, নাসারা সকলের সাথে সংলাপ করেছেন। তারা তাঁকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতেন এবং তিনি তাদের সেসব প্রশ্নের জবাব দিতেন। ইসলামী মিডিয়ায় সংলাপকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামী সভ্যতার প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। ফলে অনেক আলিম, শিক্ষাবিদ, পন্ডিত, আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপের আয়োজন করেছেন। সকল নবী রাসূলের প্রাথমিক উপাদান ছিল সংলাপ। তাঁরা অমুসলিমদের সাথে ডায়ালগ আদান-প্রদান করেই তাদেরকে ইসলামের আদর্শে অনুপ্রাণিত করেছেন।
খুতবা বা ভাষণ মিডিয়ার অন্যতম মাধ্যম। বক্তৃতার মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানের পাশাপাশি প্রভাব সৃষ্টি করাও সম্ভব হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অনেক বড় খতীব। যুগে যুগে তাঁর খুতবার প্রভাবে মানব সমাজে যথেষ্ট পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে দীনের দা‘ওয়াত দিতে খুতবাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। রাসূলের জুমআর খুতবা, বিদায় হজ্বের ভাষণ সর্বস্তরের মানুষের জন্য এক নির্দেশনা।
দুই. পত্র প্রেরণ
পত্র প্রেরণের মাধ্যমে যোগাযোগ প্রক্রিয়া সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দা‘ওয়াতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পত্র প্রেরণ করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের কাছে ইসলামের দা‘ওয়াত দিয়ে পত্র প্রেরণ করতেন। তন্মধ্যে রোমের বাদশাহ হিরাক্লিয়াস ও পারস্যের বাদশাহ কায়সারের কাছে প্রেরিত পত্র উল্লেখযোগ্য। হিরাক্লিয়াসকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন,
«بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ : سَلاَمٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الهُدَى أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الإِسْلاَمِ أَسْلِمْ تَسْلَمْ يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الأَرِيسِيِّينَ " وَ ﴿يَا أَهْلَ الكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَنْ لاَ نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلاَ نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلاَ يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ﴾»
‘‘পরম করুণাময় আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হতে রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। সৎ পথ প্রাপ্তের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তৎপর, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করছি। ইসলাম গ্রহণ কর, নিরাপত্তা পাবে। আল্লাহ তোমাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দিবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও; তবে নিশ্চয় অধীনস্থদের অপরাধও তোমার উপর বর্তাবে। আর (আল্লাহ বলেন) ‘আপনি বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এস সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যেন আমরা একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া কারো ইবাদাত না করি, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করি এবং আমাদের কেউ আল্লাহ্ ছাড়া একে অন্যকে রব হিসেবে গ্রহণ না করি।’ তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা বল, তোমরা সাক্ষী থাক যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম’ [বুখারী, হাদীস নং ৭; মুসলিম, হাদীস নং ১৭৭৩। আর আয়াতটি সূরা আলে ইমরানের ৬৪ নং আয়াত।]।’’
তিন. সংলাপ
সংলাপ যোগাযোগ প্রক্রিয়া হিসেবে খুব প্রাচীন। আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন; যা সংলাপের একমাত্র উপাদান। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিক, ইয়াহূদী, নাসারা সকলের সাথে সংলাপ করেছেন। তারা তাঁকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতেন এবং তিনি তাদের সেসব প্রশ্নের জবাব দিতেন। ইসলামী মিডিয়ায় সংলাপকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামী সভ্যতার প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। ফলে অনেক আলিম, শিক্ষাবিদ, পন্ডিত, আহলে কিতাবদের সাথে সংলাপের আয়োজন করেছেন। সকল নবী রাসূলের প্রাথমিক উপাদান ছিল সংলাপ। তাঁরা অমুসলিমদের সাথে ডায়ালগ আদান-প্রদান করেই তাদেরকে ইসলামের আদর্শে অনুপ্রাণিত করেছেন।