১
ইসলামী মিডিয়ার উৎস, মূলনীতি ও ভিত্তিসমূহ
লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
দ্বিতীয়ত:সুন্নাহ
ইসলামী শরী‘আতের দ্বিতীয় উৎস হলো সুন্নাহ। আর তা হলো: রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ ও সমর্থনের সমষ্টি। এটি তিন ভাগে বিভক্ত।
ক. সুন্নাতে মুয়াক্কিদাহ: যা পবিত্র কুরআনে বিধৃত হয়েছে। আর রাসূলের সুন্নাতে সেটাকে তাকিদ দেওয়া হয়েছে।
খ. সুন্নাতে মুবাইয়্যেনাহ: যার কিছু অংশ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আবার কিছু অংশ নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং কিয়দাংশ মুতলাক। হাদীসে সেটাকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। কিংবা সেটার শর্তহীনতাকে শর্তযুক্ত করেছে। অথবা সেটার সাধারণ নির্দেশকে বিশেষায়িত করেছে।
গ. সুন্নাহ মুশাররি‘আহ: এমন সব বিধান যা শুধু হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে কুরআন নিরব। কিন্তু এতে কুরআনের সাথে কোনো বৈপরিত্য দেখা যায় না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দা‘ওয়াতী মিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট হল সুন্নাত। প্রত্যেক রাসূলের আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়বদ্ধতা রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَلَقَدۡ وَصَّلۡنَا لَهُمُ ٱلۡقَوۡلَ لَعَلَّهُمۡ يَتَذَكَّرُونَ ٥١ ﴾ [ القصص : ٥١ ]
“আর অবশ্যই আমরা তাদের জন্য বাণীকে বিস্তৃত বণনা করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।” [.সূরা আল্-কাসাস : ৫১।]
ফলে রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে, বান্দা ও আল্লাহর মাঝে দূত ছিলেন। মানুষের জন্য যা কল্যাণকর তার নির্দেশনা দান ও হেদায়াতের আলোকবর্তিকা দেখানো নবী-রাসূলের একমাত্র কাজ। আর এটি ইসলামী মিডিয়ারও অন্যতম কাজ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
রাসূলগণের এতদসংক্রান্ত কার্যাবলীকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করতে পারি।
প্রথমতঃ আল্লাহর বাণীর প্রচার করা ( إبلاغ كلمات الله )
দ্বিতীয়তঃ আল্লাহর বাণী বর্ণনা করা ( بيان كلمات الله )
উপর্যুক্ত প্রথমটি দ্বিতীয়টির সাথে সম্পৃক্ত। রাসূল ও মানুষের মাঝে যে যোগাযোগ রয়েছে, সেটি যার মাধ্যমে প্রভাবিত হয় তা শুধু প্রচার দ্বারাই সম্ভব নয়। বরং একে আরো সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করা অত্যন্ত জরুরী।
দীনের আলোচ্য বিষয় মানব জাতি। আর যোগাযোগ হল দীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী প্রাপ্ত হয়ে দীনের এ মহান কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতঃ তাদের হেদায়াত অন্বেষণ করতেন। মক্কার মুশরিকরা রাসূলের চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে তাঁকে এ কাজ হতে বাধা দিলেও তিনি দা‘ওয়াতের এ মিশন থেকে বিরত হন নি। [.মইন উদ্দিন রাকারী, ফুনুনু নাজরিয়াতুল ইসলামীয়াহ লিল ই‘লাম, মাজাল্লাতুল মুসলিম আল মু‘আছের, দশম খন্ড, পৃ. ৬২।]
ইসলামী মিডিয়ার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এক অনুপম আদর্শ। তিনি ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যমে অসংখ্য মুশরিককে ঈমানের ছায়াতলে নিয়ে এসেছিলেন। নবুওয়ত লাভের পর ইসলাম প্রচারে সকল উপকরণ কার্যত করার মাধ্যমে তিনি দীনের প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। বিভিন্ন সীরাত গ্রন্থ ও সুন্নাত কোষ অধ্যয়নের মাধ্যমে তার এমন চারিত্রিক গুণাবলী ফুটে উঠে, যা মূলতঃ ইসলামী দা‘ওয়াহ প্রচারকারী বা মিডিয়া ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি।
‘‘তিনি নম্র প্রকৃতির ছিলেন, উত্তম কথা বলতেন, বাজে কথা পরিহার করতেন। প্রত্যেক মানুষকে তাদের জ্ঞান অনুযায়ী সম্বোধন করতেন। তিনি পরিচিত সকল গোত্রের সাথে আলাপচারিতা করতেন। তিনি কঠোর ছিলেন না, মন্দের জবাবে ভাল ব্যবহার করতেন, অধিক দানশীল ছিলেন, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মানুষকে দেখতেন। আল্লাহকে সর্বাধিক ভালবাসতেন। সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করে কাজ করতেন। বিধবা ও মিসকীনদের প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে আসতেন, কষ্ট সহিষ্ণু ছিলেন। গরীব ও অভাবীদের সাথে নিয়ে পানাহার করতেন, বাজার থেকে নিজ হাতে দ্রব্যসামগ্রী বহন করে আনতেন।’’ [.ড. মুহাম্মদ কামালুদ্দীন ইমাম, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪৬।]
উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন ইসলামী মিডিয়া কর্মীর সৃষ্টিগত, চারিত্রিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিভিন্ন গুণাবলী নির্দিষ্ট করা হয়েছে। [.প্রাগুক্ত।]
ক. সুন্নাতে মুয়াক্কিদাহ: যা পবিত্র কুরআনে বিধৃত হয়েছে। আর রাসূলের সুন্নাতে সেটাকে তাকিদ দেওয়া হয়েছে।
খ. সুন্নাতে মুবাইয়্যেনাহ: যার কিছু অংশ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আবার কিছু অংশ নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং কিয়দাংশ মুতলাক। হাদীসে সেটাকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। কিংবা সেটার শর্তহীনতাকে শর্তযুক্ত করেছে। অথবা সেটার সাধারণ নির্দেশকে বিশেষায়িত করেছে।
গ. সুন্নাহ মুশাররি‘আহ: এমন সব বিধান যা শুধু হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে কুরআন নিরব। কিন্তু এতে কুরআনের সাথে কোনো বৈপরিত্য দেখা যায় না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দা‘ওয়াতী মিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট হল সুন্নাত। প্রত্যেক রাসূলের আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়বদ্ধতা রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَلَقَدۡ وَصَّلۡنَا لَهُمُ ٱلۡقَوۡلَ لَعَلَّهُمۡ يَتَذَكَّرُونَ ٥١ ﴾ [ القصص : ٥١ ]
“আর অবশ্যই আমরা তাদের জন্য বাণীকে বিস্তৃত বণনা করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।” [.সূরা আল্-কাসাস : ৫১।]
ফলে রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে, বান্দা ও আল্লাহর মাঝে দূত ছিলেন। মানুষের জন্য যা কল্যাণকর তার নির্দেশনা দান ও হেদায়াতের আলোকবর্তিকা দেখানো নবী-রাসূলের একমাত্র কাজ। আর এটি ইসলামী মিডিয়ারও অন্যতম কাজ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
রাসূলগণের এতদসংক্রান্ত কার্যাবলীকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করতে পারি।
প্রথমতঃ আল্লাহর বাণীর প্রচার করা ( إبلاغ كلمات الله )
দ্বিতীয়তঃ আল্লাহর বাণী বর্ণনা করা ( بيان كلمات الله )
উপর্যুক্ত প্রথমটি দ্বিতীয়টির সাথে সম্পৃক্ত। রাসূল ও মানুষের মাঝে যে যোগাযোগ রয়েছে, সেটি যার মাধ্যমে প্রভাবিত হয় তা শুধু প্রচার দ্বারাই সম্ভব নয়। বরং একে আরো সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করা অত্যন্ত জরুরী।
দীনের আলোচ্য বিষয় মানব জাতি। আর যোগাযোগ হল দীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী প্রাপ্ত হয়ে দীনের এ মহান কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতঃ তাদের হেদায়াত অন্বেষণ করতেন। মক্কার মুশরিকরা রাসূলের চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে তাঁকে এ কাজ হতে বাধা দিলেও তিনি দা‘ওয়াতের এ মিশন থেকে বিরত হন নি। [.মইন উদ্দিন রাকারী, ফুনুনু নাজরিয়াতুল ইসলামীয়াহ লিল ই‘লাম, মাজাল্লাতুল মুসলিম আল মু‘আছের, দশম খন্ড, পৃ. ৬২।]
ইসলামী মিডিয়ার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এক অনুপম আদর্শ। তিনি ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যমে অসংখ্য মুশরিককে ঈমানের ছায়াতলে নিয়ে এসেছিলেন। নবুওয়ত লাভের পর ইসলাম প্রচারে সকল উপকরণ কার্যত করার মাধ্যমে তিনি দীনের প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। বিভিন্ন সীরাত গ্রন্থ ও সুন্নাত কোষ অধ্যয়নের মাধ্যমে তার এমন চারিত্রিক গুণাবলী ফুটে উঠে, যা মূলতঃ ইসলামী দা‘ওয়াহ প্রচারকারী বা মিডিয়া ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি।
‘‘তিনি নম্র প্রকৃতির ছিলেন, উত্তম কথা বলতেন, বাজে কথা পরিহার করতেন। প্রত্যেক মানুষকে তাদের জ্ঞান অনুযায়ী সম্বোধন করতেন। তিনি পরিচিত সকল গোত্রের সাথে আলাপচারিতা করতেন। তিনি কঠোর ছিলেন না, মন্দের জবাবে ভাল ব্যবহার করতেন, অধিক দানশীল ছিলেন, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মানুষকে দেখতেন। আল্লাহকে সর্বাধিক ভালবাসতেন। সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করে কাজ করতেন। বিধবা ও মিসকীনদের প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে আসতেন, কষ্ট সহিষ্ণু ছিলেন। গরীব ও অভাবীদের সাথে নিয়ে পানাহার করতেন, বাজার থেকে নিজ হাতে দ্রব্যসামগ্রী বহন করে আনতেন।’’ [.ড. মুহাম্মদ কামালুদ্দীন ইমাম, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪৬।]
উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন ইসলামী মিডিয়া কর্মীর সৃষ্টিগত, চারিত্রিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিভিন্ন গুণাবলী নির্দিষ্ট করা হয়েছে। [.প্রাগুক্ত।]