hadith book logo

পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ইসলাম

লেখকঃ মাওলাই মোস্তাফা বারজাওয়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

চিৎকার চেঁচামেচির মাধ্যমে মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া থেকে সতর্কীকরণ:

এর দ্বারা উদ্দেশ্য অপ্রিয় শব্দ যা মানুষের কষ্ট বা উদ্বেগের কারণ হয়। আর আওয়াজ বা শব্দ মানুষের অপ্রিয় হবার কারণ তার তীব্রতা ও উচ্চতা। শুনতে অভ্যস্ত এমন স্বাভাবিক ও চির-চেনা আওয়াজ না হলেই মানুষ এমন বোধ করে। [যাইনুল আবিদীন আল-‘আলওয়ানী: ‘আল-ইসলাম ওয়াল-বিআ’, মাজাল্লাতুত-তুরাছ আল-আরাবী, সংখ্যা: ১০১, ষষ্ঠদশ বর্ষ, ২০০৬।]

এটা কারো অজানা নয় যে চিৎকার ও শোরগোল চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে। মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। নিশ্চিন্ত, শান্তভাব ও সুচিন্তার নেয়ামতকে ধ্বংস করে। এবং মানুষের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কাজে বাধার সৃষ্টি করে। অতএব, শান্ত অবস্থা প্রিয়তা ইসলামী সভ্যতার একটি লক্ষণ এবং অন্যতম মূল্যবোধ। এ এমন মূল্যবোধ আমাদের সত্য ধর্ম যার প্রতি এবং যাতে আহ্বানের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। পবিত্র কুরআনে ও সুন্নতে নববীর অনেক স্থানে আমরা যার প্রমাণ দেখতে পাই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَٱقۡصِدۡ فِي مَشۡيِكَ وَٱغۡضُضۡ مِن صَوۡتِكَۚ إِنَّ أَنكَرَ ٱلۡأَصۡوَٰتِ لَصَوۡتُ ٱلۡحَمِيرِ ١٩﴾ [ لقمان : ١٩ ]

‘আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, তোমার আওয়াজ নিচু কর। নিশ্চয় সব চাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল গাধার আওয়াজ।” [সূরা লুকমান, আয়াত: ১৯]

একইভাবে মানুষের জন্য এমনভাবে গৃহ নির্মাণ জায়েয নয় যা অন্যের বসবাসের জন্য হুমকি হতে পারে। তেমনি টেলিভিশন, রেডিও ইত্যাদির অতিমাত্রায় আওয়াজ করাও বৈধ নয়। কারণ তা প্রতিবেশীর শান্তি বিনষ্ট করে কিংবা তাকে ঘাবড়ে দেয়। এবার আমাদের সেই বিয়ের অনুষ্ঠানাদির কথা চিন্তা করুন। বরং আরও বিপদ হলো মুসলিম দেশগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন উৎসবাদি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। যেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ অপচয় করা হয় এবং অসুস্থ লোক বরং সাধারণ লোকদের স্বস্তিও কেড়ে নেয়া হয়। এক আল্লাহ ছাড়া এসব অভিযোগ শোনার আর কেউ নেই।