hadith book logo

পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ইসলাম

লেখকঃ মাওলাই মোস্তাফা বারজাওয়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

পরিবেশ দূষণ এবং অপচয় ও অপব্যয় রোধে কুরআনের অবিরাম বিস্ময়:

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ‘২০০৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্যারিস সম্মেলনে’ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা মিলিত হন। তারা তিনটি ফলাফলে উপনীত হন। যাতে বিশ্বের নানা দেশের পাঁচ শতাধিক বিজ্ঞানী একমত হন:

১. বর্তমানে দূষণের মাত্রা এমন হারে বেড়েছে মানব ইতিহাসে যার তুলনা মেলে না। এর ফলে জলে ও স্থলে পরিবেশ বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করছে। স্থলে যেমন, ভূমিতে পচন, ওজন স্তরে দূষণ ও গোলযোগ এবং উদ্ভিদ জগতে অনাচার। ফলে ধরিত্রীর ওপর উদ্ভিদ জগতের ভারসাম্য ব্যাহত হয়েছে। আর জলে যেমন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ওজন স্তর গলতে শুরু করেছে। এর ফলে সামুদ্রিক জগত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুতরাং সেখানেও পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞানী ড. জাফ্রি শ্যানটন বলেন, ‘বায়ুমণ্ডলে এমন হারে কার্বন বেড়ে গেছে যা আমাদের পৃথিবীর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ দেখুন কিভাবে এই বিজ্ঞানী পরিবেশ বিপর্যয়ের হুমকি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর তাপমাত্রা এই শতাব্দীতে তিন ডিগ্রি বৃদ্ধি পাবে। যদি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে তা নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন হারিকেন, মরুকরণ বৃদ্ধি ও অ্যাসিড বৃষ্টি ইত্যাদি ডেকে আনবে।

২. ৫০০ বিজ্ঞানীই একমত হয়েছেন যে পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য মানুষই দায়ী। তারা বলেন, মানুষের বাড়াবাড়ি এবং পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে তাদের বেপরোয়া মানসিকতার কারণে - যেমন পরিবেশ ও তার নিয়মের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে যুদ্ধ-বিগ্রহ করা, দূষণ ঘটানো ও প্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের বাড়াবাড়ি। এসবই বায়ুমণ্ডলে দ্রুত কার্বনের মাত্রা বৃদ্ধি করছে। যার ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং তথা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে।

৩. সভা শেষে বৈজ্ঞানিকরা বিশ্বের সকল দেশের উদ্দেশে একটি সতর্কবার্তা ও জরুরী আহ্বান জানান। জল, স্থল ও অন্তরীক্ষে ব্যাপক দূষণের ফলে সৃষ্ট ভবিষ্যৎ বিপদগুলো এড়াতে হলে দূষণ রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবার কথা বলেছেন তারা। [পরিবেশ দূষণ: একটি কুরআনী মু‘জিজা, সূত্র: মাওসূ‘আতুল ই‘জাযুল ইলমী ফিল-কুরআনী ও ওয়াস-সুন্নাহ।]