hadith book logo

পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ইসলাম

লেখকঃ মাওলাই মোস্তাফা বারজাওয়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

ভূমি দূষণ থেকে সতর্কীকরণ:

আসমানী সতর্কীকরণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে জমির উর্বরতা ও তার ফসল দান ক্ষমতা বিনাশকারী প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে সতর্ক করা থেকে। জমির উর্বর শক্তি বৃদ্ধির জন্য মহান এই ধর্ম মানুষকে যেসব কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করে তার অন্যতম হলো কৃষি কাজ। যা পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার মৌলিক উৎস। ইসলাম একে স্বতন্ত্র গুরুত্ব দিয়েছে এবং একে ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সাগ্রহে কৃষি কাজ ও বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। যাতে উদ্ভিদ সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থ পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক হয়। যেমন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا أَوْ يَزْرَعُ زَرْعًا فَيَأْكُلُ مِنْهُ طَيْرٌ أَوْ إِنْسَانٌ أَوْ بَهِيمَةٌ إِلاَّ كَانَ لَهُ بِهِ صَدَقَةٌ» .

“যদি কোনো মুসলিম কোনো গাছ রোপণ করে অথবা ক্ষেতে ফসল বোনে আর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ প্রাণী খায়, তবে তা তার জন্য সদাকা হিসেবে গণ্য হবে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪০৫৫।] ইমাম বুখারী তদীয় সহীহ গ্রন্থের ‘ক্ষেত ও চাষাবাদ’ অধ্যায়ের ‘রোপিত গাছ বা ক্ষেত থেকে খেলে তার ফযীলত’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে হাদীসটি সংকলন করেছেন।

অপর হাদীসে রয়েছে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِىَ لَهُ» .

“যে ব্যক্তি কোনো মৃত (অনাবাদী) ভূমিকে জীবিত (চাষযোগ্য) করবে, সেই তা তারই জন্য।” [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৩০৭৫; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৪৩১০।]

অপরদিকে অপ্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন করা থেকে কঠোরভাবে বারণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন হুবশী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ قَطَعَ سِدْرَةً صَوَّبَ اللَّهُ رَأْسَهُ فِى النَّارِ» .

“যে ব্যক্তি (বিনা প্রয়োজনে) গাছ কাটবে আল্লাহ তার মাথাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবেন।” [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ৫২৪১।]

তবে যদি গাছটি হয় এমন স্থানে যা মানুষের প্রয়োজনে কাটার প্রয়োজন হয় তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নাই। যেমন, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لَقَدْ رَأَيْتُ رَجُلاً يَتَقَلَّبُ فِى الْجَنَّةِ فِى شَجَرَةٍ قَطَعَهَا مِنْ ظَهْرِ الطَّرِيقِ كَانَتْ تُؤْذِى النَّاسَ» .

‘আমি এক ব্যক্তিকে দেখেছি জান্নাতে সে ওই গাছের (আশ্রয়ে) চলাচল করছে যা সে রাস্তার মোড় থেকে কেটেছিল যা মানুষকে কষ্ট দিত।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৮৩৭।]

আবার ফসল ও ফল রক্ষায় তিনি কাজে লাগানোর মতো না হবার আগে ফসল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। যাতে সে ফসল বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যেমন ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«أَنَّ رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلاَحُهَا نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُبْتَاعَ»

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপযুক্ত হবার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই তিনি বারণ করেছেন।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৯৩।]

অপর বর্ণনায় রয়েছে আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ وَعَنِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِىَ .

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন যাবত না তার ফল প্রকাশিত হয়, মুকুল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন যাবত না তার সাদা দানা বের হয় এবং তা নষ্ট হবার সম্ভাবনা দূর হয়। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই তিনি বারণ করেছেন।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৯৪৩।]

ইসলাম গবাদি পশুর নাগাল থেকে শস্য ও ফল-ফলাদি রক্ষায় প্রয়োজনীয় শর্তাদিও প্রবর্তন করেছে। [ড. মুস্তাফা ‘আলওয়ানী: ‘আল-ইসলাম ওয়াল বিআ’, মাজাল্লাতুত-তুরাছিল আরাবী, সংখ্যা: ১০১, ষষ্ঠদশ বর্ষ, ২০০৬।]