hadith book logo

পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ইসলাম

লেখকঃ মাওলাই মোস্তাফা বারজাওয়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

ফিকহী মূলনীতিসমূহ:

সমস্যা নিরসনে আলিম ও উসূলবিদগণ এমন সব মূলনীতি উদ্ভাবন করেছেন যা কেবল এই অধুনাকালে মানুষের সামনে আসছে। যেমন, পরিবেশ সংক্রান্ত মূলনীতিগুলো নিম্নরূপ: ‘যা ছাড়া ওয়াজিব সম্পন্ন হয় না, তাও ওয়াজিব’, ‘যা হারাম পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাও হারাম’, ‘ক্ষতিকে তার অনুরূপ বা ততোধিক বড় ক্ষতি দিয়ে ঠেকানো যায় না’ এবং ‘লাভ বয়ে আনার চেয়ে ক্ষতি ঠেকানো অগ্রগণ্য’ ইত্যাদি। [মুহাম্মদ মারছি, আল-ইসলাম ওয়াল বীআ’, প্রথম সংস্করণ, রিয়াদ, ১৯৯৯, পৃষ্ঠা: ৬২।]

লিখিত প্রচারমাধ্যমগুলো পরিবেশের জন্য সবচে ক্ষতিকর যার প্রচলন ঘটিয়েছে তা হলো, একটি রাষ্ট্র নিজের মাটিতে পারমানবিক আবর্জনা পুতে না ফেলে বরং অব্যাহতভাবে সাহায্য সরবরাহের মাধ্যমে ইহুদী অস্তিত্বের রাষ্ট্রকে স্বাভাবাকিকরণ করেছে। এই অশুভ শক্তি যা পৃথিবীর উর্বরতাকে বিনষ্ট করতে পারে। যা নানা মহামারী, হত্যা ও লড়াইয়ের কারণ। এটিকে প্রতিহত করা কি শত্রু রাষ্ট্রের জন্য ভিক্ষা করার চেয়ে অগ্রাধিকার পাবার দাবী রাখে না।? ‘ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নাই, ক্ষতি সাধন করাও নাই’। সাইয়েদ রশীদ রেযা রহ. সূরা আল-মায়েদাহ’র তাফসীরে এর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ ‘ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ক্ষতি দূর করা’।

এ সংক্রান্ত আরও কিছু চমৎকার মূলনীতির উল্লেখ করা যায়। যেমন, ‘অক্ষমতায় ওয়াজিব মাফ করা হয়’, ব্যক্তি স্বার্থের আগে গোষ্ঠী স্বার্থ’, ‘হিতকর বিষয়াদির ক্ষেত্রে অনুমতিই মূল আর অনিষ্টকর বিষয়ে নিষেধই মূল’, ‘অসুবিধা হেতু যা জায়েয, অসুবিধা দূর হলে তার অনুমতিও বাতিল হয়ে যায়’।

অথচ কিছু জাগতিক বিদ্যা অকল্যাণ ও অশুভ বিদ্যার রূপ পরিগ্রহ করেছে। মন্দকে চিনতে হয় তা থেকে বাঁচতে আর ভালোকে জানতে হয় তা আহরণে। উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহ আনহু যথার্থ বলেছেন। তিনি বলেন,

«يجب أن يُعْرَف الشَّر، كما يعرف الخير؛ فالذي لا يعرف الشَّرَّ أَحْرى أن يقعَ فيه» .

“মন্দকে চেনাও জরুরী, যেমন জানতে হয় ভালোকে। কারণ যে মন্দ সম্পর্কে জানে না, সে তো তার শিকার হওয়াই স্বাভাবিক।”