১
পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ইসলাম
লেখকঃ মাওলাই মোস্তাফা বারজাওয়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
কুরআন ও সুন্নাহ এবং শরী‘আতের বিধি-বিধানের উদ্দেশ্যের আলোকে পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে লড়াই
পরিবেশের প্রতি তারাই প্রথম নজর দিয়েছেন ভেবে পশ্চিমা ও তাদের গুণমুগ্ধ মুসলিমরা গর্ব বোধ করেন। কিন্তু যিনি চিন্তা ও গবেষণার নির্মোহ দৃষ্টিতে আল্লাহর কিতাব এবং হাবীব মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি তাকাবেন, তিনি দেখবেন ইসলামই তার বিধানাবলির মাধ্যমে সর্বপ্রথম পরিবেশের খুঁটিনাটিসহ প্রতিটি বিষয়ে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছে। সকাল সন্ধ্যায় যার পতাকা উড়িয়ে যাচ্ছে পরিবেশবাদী নানা সংগঠন ও আন্তঃসরকারি সংস্থাগুলো। তিবলিস সম্মেলন, রিও ডি জেনেরো সম্মেলন এবং কিয়োটো ও জোহানসবার্গ সামিটসহ একের পর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ফলাফল যা ছিল তাই। আল্লাহ ঐ কবির প্রতি করুণা করুন যিনি বলেছেন,
أَعْمَى يَقُودُ بَصِيرًا لاَ أَبَا لَكُمُ
قَدْ ضَلَّ مَنْ كَانَتِ العُمْيَانُ تَهْدِيهِ
“অন্ধ নেতৃত্ব দিচ্ছ দৃষ্টিবানকে, তোমাদের তাকে কোনো ভ্রুক্ষেপই নাই,
সে তো পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে অন্ধরা যাকে পথ দেখায়।”
আমি নিজের বিস্ময় গোপন রাখতে পারছি না যে মুসলিমের সন্তানরাও এখন পরিবেশগত শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে। ইসলাম যার সূচনা করেছিল এবং তার সীমারেখা নির্ধারণ করেছিল। যাতে করে আমরা তা অতিক্রম করে বা মাড়িয়ে পরিবেশ বিপর্যয় না ঘটাই। কেননা ‘পরিবেশগত শিক্ষা’ এবং পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা কাজে আসবে না। সভা, সম্মেলন ও মানব রচিত আইনগুলোও ফল দেবে না। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও পারবে না পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে। যাবত না মানুষের মধ্যে আল্লাহর বড়ত্ব ও তাঁর ভয় সঞ্চারিত হয়। শুধু পরিবেশ দূষণ নয়; জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য।
ইবনুল জাওযী রহ. ‘ছিফাতুস সাফওয়া’ নামক গ্রন্থে একটি চমৎকার ঘটনা উল্লেখ করেছেন। (মানুষের আল্লাহভীতির গভীরতা সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন।) নাফে রহ. বলেন, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার সঙ্গে একবার মদীনার এক প্রান্তে গেলাম। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন সঙ্গী ছিল। তারা একটি দস্তরখান বিছালো। ইত্যবসরে সেদিক দিয়ে একজন রাখাল অতিক্রম করল। আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, এসো হে রাখাল, এ দস্তরখান থেকে আহার কর। সে বলল, আমি রোযাদার। আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, এমন তীব্র গরমের দিনে তুমি এই গিরিপথে ছাগলের পেছনে ছুটছ! পাহাড়ের পাদদেশে ছাগল চড়াচ্ছ অথচ তুমি সাওম পালনকারী?!
রাখাল বলল, আমার বিরাণ দিনগুলো আমি এভাবেই কাটাই। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এ কথা শুনে অভিভূত হয়ে গেলেন। তোমার মেষপাল থেকে কোনো ছাগল বিক্রি করার অনুমতি আছে কি? আমরা যা জবাই করব অতঃপর এর গোশত খাওয়াব তোমাকে। ফলে তুমি তা দিয়ে ইফতার করবে আর তোমাকে তার মূল্য দিয়ে দেব? সে বলল, এসব আমার নয়; আমার মুনিবের।
তিনি বললেন, তুমি যদি তোমার মুনিবের কাছে বল ছাগলটি নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে তাহলে সে তোমাকে কী বলবে বলে মনে কর? রাখাল তখন নড়ে উঠে আসমানের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলল, তাহলে আল্লাহ আর কৈ রইলেন?! বর্ণনাকারী বলেন, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন পুনঃপুনঃ বলতে লাগলেন, রাখল বলল তাহলে আল্লাহ কৈ রইলেন?
তাঁকে এ বাক্য এতটা মুগ্ধ করল যে তিনি মদীনায় গিয়ে রাখালের মুনিবের কাছে লোক পাঠালেন। মালিকের কাছ থেকে রাখাল ও তার ছাগল কিনে নিলেন। অতঃপর তাকে মুক্ত করে দিলেন আর ছাগলটি তাকে দান করে দিলেন। [ছিফাতুস সাফওয়া: ২/১৮৮।] গল্পটি আল্লাহ তা‘আলার প্রকৃষ্ট দাসত্বের এক অনুপম দৃষ্টান্ত।
যাহোক পরিবেশ বলতে কী বুঝায়? প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা বা পরিবেশ দূষণ দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এর ধরণগুলো কী কী? আর এর পরিবেশের ওপর খামখেয়ালির রাশ টানতে এবং তা বিস্তারের সীমা সংকুচিত করতে ইসলামের প্রবর্তিত গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী মূলনীতিগুলো কী?
أَعْمَى يَقُودُ بَصِيرًا لاَ أَبَا لَكُمُ
قَدْ ضَلَّ مَنْ كَانَتِ العُمْيَانُ تَهْدِيهِ
“অন্ধ নেতৃত্ব দিচ্ছ দৃষ্টিবানকে, তোমাদের তাকে কোনো ভ্রুক্ষেপই নাই,
সে তো পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে অন্ধরা যাকে পথ দেখায়।”
আমি নিজের বিস্ময় গোপন রাখতে পারছি না যে মুসলিমের সন্তানরাও এখন পরিবেশগত শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে। ইসলাম যার সূচনা করেছিল এবং তার সীমারেখা নির্ধারণ করেছিল। যাতে করে আমরা তা অতিক্রম করে বা মাড়িয়ে পরিবেশ বিপর্যয় না ঘটাই। কেননা ‘পরিবেশগত শিক্ষা’ এবং পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা কাজে আসবে না। সভা, সম্মেলন ও মানব রচিত আইনগুলোও ফল দেবে না। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও পারবে না পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে। যাবত না মানুষের মধ্যে আল্লাহর বড়ত্ব ও তাঁর ভয় সঞ্চারিত হয়। শুধু পরিবেশ দূষণ নয়; জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য।
ইবনুল জাওযী রহ. ‘ছিফাতুস সাফওয়া’ নামক গ্রন্থে একটি চমৎকার ঘটনা উল্লেখ করেছেন। (মানুষের আল্লাহভীতির গভীরতা সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন।) নাফে রহ. বলেন, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার সঙ্গে একবার মদীনার এক প্রান্তে গেলাম। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন সঙ্গী ছিল। তারা একটি দস্তরখান বিছালো। ইত্যবসরে সেদিক দিয়ে একজন রাখাল অতিক্রম করল। আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, এসো হে রাখাল, এ দস্তরখান থেকে আহার কর। সে বলল, আমি রোযাদার। আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, এমন তীব্র গরমের দিনে তুমি এই গিরিপথে ছাগলের পেছনে ছুটছ! পাহাড়ের পাদদেশে ছাগল চড়াচ্ছ অথচ তুমি সাওম পালনকারী?!
রাখাল বলল, আমার বিরাণ দিনগুলো আমি এভাবেই কাটাই। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এ কথা শুনে অভিভূত হয়ে গেলেন। তোমার মেষপাল থেকে কোনো ছাগল বিক্রি করার অনুমতি আছে কি? আমরা যা জবাই করব অতঃপর এর গোশত খাওয়াব তোমাকে। ফলে তুমি তা দিয়ে ইফতার করবে আর তোমাকে তার মূল্য দিয়ে দেব? সে বলল, এসব আমার নয়; আমার মুনিবের।
তিনি বললেন, তুমি যদি তোমার মুনিবের কাছে বল ছাগলটি নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে তাহলে সে তোমাকে কী বলবে বলে মনে কর? রাখাল তখন নড়ে উঠে আসমানের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলল, তাহলে আল্লাহ আর কৈ রইলেন?! বর্ণনাকারী বলেন, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন পুনঃপুনঃ বলতে লাগলেন, রাখল বলল তাহলে আল্লাহ কৈ রইলেন?
তাঁকে এ বাক্য এতটা মুগ্ধ করল যে তিনি মদীনায় গিয়ে রাখালের মুনিবের কাছে লোক পাঠালেন। মালিকের কাছ থেকে রাখাল ও তার ছাগল কিনে নিলেন। অতঃপর তাকে মুক্ত করে দিলেন আর ছাগলটি তাকে দান করে দিলেন। [ছিফাতুস সাফওয়া: ২/১৮৮।] গল্পটি আল্লাহ তা‘আলার প্রকৃষ্ট দাসত্বের এক অনুপম দৃষ্টান্ত।
যাহোক পরিবেশ বলতে কী বুঝায়? প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা বা পরিবেশ দূষণ দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এর ধরণগুলো কী কী? আর এর পরিবেশের ওপর খামখেয়ালির রাশ টানতে এবং তা বিস্তারের সীমা সংকুচিত করতে ইসলামের প্রবর্তিত গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী মূলনীতিগুলো কী?