hadith book logo

পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ইসলাম

লেখকঃ মাওলাই মোস্তাফা বারজাওয়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

পরিবেশের প্রতি মমতা ও ভালোবাসা আবেগ:

ইসলামের সৌন্দর্যের আরেকটি দিক হলো তা মানুষের মধ্যে তার চারপাশের জীব ও জড়জগতের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের আবেগ সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যেমন কুরআনে কারীমে এসেছে:

﴿وَمَا مِن دَآبَّةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا طَٰٓئِرٖ يَطِيرُ بِجَنَاحَيۡهِ إِلَّآ أُمَمٌ أَمۡثَالُكُمۚ ﴾ [ الانعام : ٣٨ ]

“আর যমীনে বিচরণশীল প্রতিটি প্রাণী এবং দু’ডানা দিয়ে উড়ে এমন প্রতিটি পাখি, তোমাদের মতো এক একটি জাতি।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৩৮]

তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এমন সৃষ্টিজীব ও জগতের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ও অকৃত্রিম মমতা প্রকাশ করেছেন। গাযওয়ায়ে তাবূক থেকে মদীনায় ফেরার পথে যখন তিনি মদীনার নিকটবর্তী হন এবং জাবালে উহুদ যখন তাঁর সামনে উদ্ভাসিত হয় তিনি কী দরদ মাখা ভাষায়ই না তাঁর আবেগ প্রকাশ করেন! তিনি তখন বলেন,

«هَذِهِ طَابَةُ وَهَذَا أُحُدٌ جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ» .

“এটি হলো ‘তাবা’। এটি হলো উহুদ। এমন পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৪২২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪৩৭।] (মদীনার নামগুলোর একটি ‘তাবা’)

শুধু তাই নয়; সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমও দেখিয়েছেন পরিবেশের প্রতি দরদ ও মমতা। যেমন আমরা দেখতে পাই মক্কা এবং এর উপত্যকা, ঝর্ণাধারা, পাহাড়-পর্বত ও বৃক্ষ-লতার প্রতি বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভালোবাসা। প্রকৃতির মায়ায় জড়িয়ে তিনি আবৃতি করেন,

أَلاَ لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلُ

وَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مَجَنَّةٍ وَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُ .

“হায় আমি এমন তৃণভূমিতে রাত কাটাতাম, আমার পাশে থাকত ইযখির ও জলীল ঘাস।

আমি যদি কোনোদিন মাজিন্না কূপের কাছে অবতরণ করতাম, আমি কি শামা ও তাফিল কূপ দেখতে পাব?” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৯২৬।]

বরং স্থান পরিবেশও যেমন দয়ার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন- কাউকে শরীক না করে কেবল আল্লাহর জন্য সাজদাকারী বান্দার বিচ্ছেদে সে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। সাঈদ ইবন মুসায়্যিব রহ. থেকে বর্ণিত, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

«إِذَا مَاتَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ ، بَكَى عَلَيْهِ مُصَلاَّهُ مِنَ الأَرْضِ ، وَمَصْعَدُ عَمَلِهِ مِنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ ، ثُمَّ قَرَأَ : { فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ وَمَا كَانُوا مُنْظَرِينَ» .

“যখন নেককার বান্দা মারা যায়, তার জন্য তার সাজদার মাটি এবং আসমান ও যমীনে তার আমল ওঠার স্থান ক্রন্দন করে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন, ‘অতঃপর আসমান ও যমীন তাঁদের জন্য কাঁদে নি এবং তারা অবকাশপ্রাপ্ত ছিল না”। [সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ২৯; কানযুল উম্মাল: ৪২৯৬৬; মুসনাদ ইবনুল জা‘দ: ২৩০৫।]