১
মদিনা শরিফের ফজিলত জিয়ারত ও অবস্থানকালীন আদব
লেখকঃ আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল আববাদ আল বদর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
অনুবাদকের কথা
প্রত্যেক জাতির নির্দিষ্ট ইতিহাস রয়েছে, যা তার স্বভাব-প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করে। তদ্রূপ নির্দিষ্ট ইতিহাস রয়েছে পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান প্রতিটি শহরের। যা তার উত্থান-পতন ও অস্তিত্বের অক্ষয় বিবরণ সংরক্ষণ করে। তবে, পবিত্রতার সৌরভে আর মাধুর্যে সুরভিত-বিধৌত সোনার মদিনা আরো প্রাচুর্যপূর্ণ ও বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। কারণ, এর রয়েছে নিজস্ব ও ধর্মীয় উভয় প্রকার বর্ণাঢ্য ও সমৃদ্ধ ইতিহাস। যা সমানভাবে মদিনার স্বকীয়তা ও ধর্মীয় সংস্কৃতি-কালচারকে সযত্নে ধারণ করে। খুব সম্ভব, এ জন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিকির">দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ ! আমাদের কাছে মদিনাকে প্রিয় করে দিন।’ (বোখারি হা.১৮৮৯)
মদিনার ইতিহাস ইসলামের ইতিহাস। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। কাল আর ইতিহাসের সাক্ষী-স্তম্ভ হয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদে নববী, মসজিদে কুবা ও ওহুদ পাহাড়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ওহুদ পাহাড় আমাদের মহববত করে, আমরা তাকে মহববত করি।’ (বোখারি হা.৭৩৩৩) এখানে সংঘটিত হয়েছে বদর, ওহুদ ও খন্দকের মত মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্বের লড়াই। এখানে অঙ্কুরিত ইসলাম শাখা-প্রশাখা পত্র-পল্লবে শোভা-বিস্তৃতি লাভ করে, অদম্য উদ্দীপনা আর অপরাজেয় গতিতে বিশ্বের বুকে গতিশীল, জীবনমুখী ও যুগোপযোগী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। ইসলামের স্বর্ণযুগের আড়ম্বরপূর্ণ খেলাফতের আবির্ভাব ঘটে এ ভূমিতেই—এর ধূসর-রুক্ষ-ধূলিময় প্রান্তরে ইসলামের মহান ঝান্ডা উড়িয়ে। মর্যাদার সুমহান ও শোভাময় যে আসন লাভ করেছিল ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ, তার অবিস্মরণীয় স্মৃতির আধারও মদিনার এ পুণ্যভূমি। এখানে রয়েছে রওযাতুন মিন রিয়াযিল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগান। আবু বকর, ওমর ও উসমান সহ হাজারো সাহাবায়ে কেরামের সমাধি। তাই স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম জাতির নিকট মদীনা—গৌরবান্বিত, সমাদৃত ও সম্মানিত এক ভূমির নাম। মুসলমানগণ দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত হতে আবেগে-উচ্ছলতায় ও মহববতের আকর্ষণে মদিনাতে ছুটে আসেন।
তবে বাস্তব হলো, অনেকেই মদিনার ফজিলত, জিয়ারত ও অবস্থানকালীন আদব না জানার দরুন, বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্তির শিকার হয়ে বহু ফজিলত, প্রভূত কল্যাণ ও অশেষ নেকি হতে বঞ্চিত হয়। কুসংস্কার, বিদ্আত ও শিরকের মত কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। যার কারণে তার সব সাধনা বিফলে যায়। লাভবান হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই মদিনার ফজিলত, জিয়ারত ও সেখানে অবস্থানকালীন নিয়ম-কানুন ও আদব নিয়ে রচিত বাংলা বইয়ের অতীব প্রয়োজন অনুভূত হয়। বলাই বাহুল্য, এ বিষয়ে আমাদের দেশে দু’একটি বই যে নেই—তা নয়। তবে তার সিংহ ভাগেরই তথ্য অপ্রতুল, ধারণা নির্ভর, বানোয়াট ও কুসংস্কারাচ্ছন্নতায় পূর্ণ।
তাই কোরআন, নির্ভরযোগ্য সনদে প্রাপ্ত রাসূলের হাদিস, আদর্শ পূর্বসূরীগণের বাণী ও আমলের আলোকে, বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য আমাদের এ প্রয়াস—আল্লামা আব্দুল মুহ্সিন আল বদরের লিখিত فضل المدينة وآداب سكناها وزيارتها নামক বইটির অনুবাদ। বইটি স্বল্পপরিসরে, ক্ষুদ্র কলেবরে মদিনার ফজিলত, জিয়ারত ও অবস্থানকালীন আদব নিয়ে বিশুদ্ধ ও তথ্য নির্ভর প্রামাণ্য গ্রন্থনা।
শ্রদ্ধেয় বড় ভাই শামসুল হক সিদ্দিক সাহেব ১৪২৭ হি. সনে হজের প্রায় এক মাস আগে অনুবাদের জন্য বইটি আমার হাতে তুলে দেন, আমি আগ্রহ ভরে গ্রহণ করি। সর্ব সাধারণের প্রতি লক্ষ্য রেখে অনুবাদ সহজ ভাষায় করার চেষ্টা করেছি। হে আল্লাহ ! আমাদের শ্রম কবুল করুন। আমিন।
বিনীত
সানাউল্লাহ্ নজির আহমদ
মদিনার ইতিহাস ইসলামের ইতিহাস। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। কাল আর ইতিহাসের সাক্ষী-স্তম্ভ হয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদে নববী, মসজিদে কুবা ও ওহুদ পাহাড়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ওহুদ পাহাড় আমাদের মহববত করে, আমরা তাকে মহববত করি।’ (বোখারি হা.৭৩৩৩) এখানে সংঘটিত হয়েছে বদর, ওহুদ ও খন্দকের মত মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্বের লড়াই। এখানে অঙ্কুরিত ইসলাম শাখা-প্রশাখা পত্র-পল্লবে শোভা-বিস্তৃতি লাভ করে, অদম্য উদ্দীপনা আর অপরাজেয় গতিতে বিশ্বের বুকে গতিশীল, জীবনমুখী ও যুগোপযোগী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। ইসলামের স্বর্ণযুগের আড়ম্বরপূর্ণ খেলাফতের আবির্ভাব ঘটে এ ভূমিতেই—এর ধূসর-রুক্ষ-ধূলিময় প্রান্তরে ইসলামের মহান ঝান্ডা উড়িয়ে। মর্যাদার সুমহান ও শোভাময় যে আসন লাভ করেছিল ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ, তার অবিস্মরণীয় স্মৃতির আধারও মদিনার এ পুণ্যভূমি। এখানে রয়েছে রওযাতুন মিন রিয়াযিল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগান। আবু বকর, ওমর ও উসমান সহ হাজারো সাহাবায়ে কেরামের সমাধি। তাই স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম জাতির নিকট মদীনা—গৌরবান্বিত, সমাদৃত ও সম্মানিত এক ভূমির নাম। মুসলমানগণ দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত হতে আবেগে-উচ্ছলতায় ও মহববতের আকর্ষণে মদিনাতে ছুটে আসেন।
তবে বাস্তব হলো, অনেকেই মদিনার ফজিলত, জিয়ারত ও অবস্থানকালীন আদব না জানার দরুন, বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্তির শিকার হয়ে বহু ফজিলত, প্রভূত কল্যাণ ও অশেষ নেকি হতে বঞ্চিত হয়। কুসংস্কার, বিদ্আত ও শিরকের মত কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। যার কারণে তার সব সাধনা বিফলে যায়। লাভবান হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই মদিনার ফজিলত, জিয়ারত ও সেখানে অবস্থানকালীন নিয়ম-কানুন ও আদব নিয়ে রচিত বাংলা বইয়ের অতীব প্রয়োজন অনুভূত হয়। বলাই বাহুল্য, এ বিষয়ে আমাদের দেশে দু’একটি বই যে নেই—তা নয়। তবে তার সিংহ ভাগেরই তথ্য অপ্রতুল, ধারণা নির্ভর, বানোয়াট ও কুসংস্কারাচ্ছন্নতায় পূর্ণ।
তাই কোরআন, নির্ভরযোগ্য সনদে প্রাপ্ত রাসূলের হাদিস, আদর্শ পূর্বসূরীগণের বাণী ও আমলের আলোকে, বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য আমাদের এ প্রয়াস—আল্লামা আব্দুল মুহ্সিন আল বদরের লিখিত فضل المدينة وآداب سكناها وزيارتها নামক বইটির অনুবাদ। বইটি স্বল্পপরিসরে, ক্ষুদ্র কলেবরে মদিনার ফজিলত, জিয়ারত ও অবস্থানকালীন আদব নিয়ে বিশুদ্ধ ও তথ্য নির্ভর প্রামাণ্য গ্রন্থনা।
শ্রদ্ধেয় বড় ভাই শামসুল হক সিদ্দিক সাহেব ১৪২৭ হি. সনে হজের প্রায় এক মাস আগে অনুবাদের জন্য বইটি আমার হাতে তুলে দেন, আমি আগ্রহ ভরে গ্রহণ করি। সর্ব সাধারণের প্রতি লক্ষ্য রেখে অনুবাদ সহজ ভাষায় করার চেষ্টা করেছি। হে আল্লাহ ! আমাদের শ্রম কবুল করুন। আমিন।
বিনীত
সানাউল্লাহ্ নজির আহমদ