১
ফজরের সালাত ও কিয়ামুল লাইলের জন্য সহায়ক উপকরণ
লেখকঃ ড. রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মদ আল-মাহারিব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
ভূমিকা
নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, আমরা তার প্রশংসা করি, তার নিকট সাহায্য চাই, তার নিকট ইস্তেগফার করি এবং তার নিকট হিদায়েত তলব করি। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের পাপ কর্ম ও নফসের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়েত দান করেন তার কোন গোমরাহকারী নেই, এবং তিনি যাকে গোমরাহ করেন তার কোন হিদায়েতকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক-তার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, মুহাম্মদ তার বান্দা ও রাসূল। [ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত “খুতবাতুল হাজাহ”র অনুবাদ।]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٠٢ ﴾ [ ال عمران : 102]
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলমান হওয়া ছাড়া মারা যেও না”। [সূরা আলে-ইমরান: (১০২)]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالٗا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا ١ ﴾ [ النساء : ١ ]
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক”। [সূরা নিসা: (১)]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا ٧٠ يُصۡلِحۡ لَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيمًا ٧١ ﴾ [ الاحزاب : ٧٠، ٧١ ]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল”। [সূরা আহযাব: (৭০-৭১)]
অতঃপর, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে রয়েছে ফেতনার আধিক্য ও পাপের ছড়াছড়ি। অধিকাংশ মানুষ নিজের দীনকে এড়িয়ে চলছে। দীনকে আঁকড়ে ধরা তাদের জন্য আগুনের কয়লা আঁকড়ে ধরার ন্যায় কঠিন, অথচ দীন থেকে দূরে থাকা তাদের অনিষ্ট ও ধ্বংসের কারণ। আর দীনকে আঁকড়ে ধরে ইবাদাত ও নেক আমল আঞ্জাম দেয়া তাদের সফলতা ও মুক্তির একমাত্র উপায়। এ কথা সত্য যে, আমাদের ইবাদাতের ফলে আল্লাহর রাজত্বে সামান্য বৃদ্ধি হবে না, বরং আমরাই উপকৃত হব ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাব। ইরশাদ হচ্ছে:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَأَهۡلِيكُمۡ نَارٗا وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلۡحِجَارَةُ عَلَيۡهَا مَلَٰٓئِكَةٌ غِلَاظٞ شِدَادٞ لَّا يَعۡصُونَ ٱللَّهَ مَآ أَمَرَهُمۡ وَيَفۡعَلُونَ مَا يُؤۡمَرُونَ ٦ ﴾ [ التحريم : ٦ ]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন হতে বাঁচাও যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতাকুল, আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে ব্যাপারে তার অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে যা তাদেরকে আদেশ করা হয়”। [সূরা তাহরীম:(৬)]
আল্লাহর হিকমতের দাবি তিনি জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন উভয়ের জন্য নির্দিষ্ট মখলুক। যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে তারা জান্নাতি, যারা কুফরি করে ও পাপাচারে লিপ্ত হয় তারা জাহান্নামি। এটাই আল্লাহর চূড়ান্ত ইনসাফ। আল্লাহ কখনো মুমিনদের ঈমান বিনষ্ট করেন না, যেমন তিনি কাফেরদের শাস্তি ব্যতীত ছেড়ে দেন না।
আল্লাহ জান্নাত সৃষ্টি করে তার জন্য কিছু আমল দিয়েছেন, যা খুব সহজ ও কষ্টহীন। যাকে তিনি তাওফিক দেন, যে তার উপকরণ গ্রহণ করে, সে অনায়াসে তা সম্পাদনে সক্ষম হয়। আর যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, শয়তানের তাবেদারি করে অথচ আল্লাহর কাছে পার পাওয়ার তামান্না রাখে, তার জন্য তা কঠিন ও কষ্টকর। যদি সে তওবা করে ও শয়তানের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়, তাহলে তার জন্যও সহজ।
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٠٢ ﴾ [ ال عمران : 102]
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলমান হওয়া ছাড়া মারা যেও না”। [সূরা আলে-ইমরান: (১০২)]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالٗا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا ١ ﴾ [ النساء : ١ ]
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে। আর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাক। আর ভয় কর রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক”। [সূরা নিসা: (১)]
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا ٧٠ يُصۡلِحۡ لَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيمًا ٧١ ﴾ [ الاحزاب : ٧٠، ٧١ ]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল”। [সূরা আহযাব: (৭০-৭১)]
অতঃপর, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে রয়েছে ফেতনার আধিক্য ও পাপের ছড়াছড়ি। অধিকাংশ মানুষ নিজের দীনকে এড়িয়ে চলছে। দীনকে আঁকড়ে ধরা তাদের জন্য আগুনের কয়লা আঁকড়ে ধরার ন্যায় কঠিন, অথচ দীন থেকে দূরে থাকা তাদের অনিষ্ট ও ধ্বংসের কারণ। আর দীনকে আঁকড়ে ধরে ইবাদাত ও নেক আমল আঞ্জাম দেয়া তাদের সফলতা ও মুক্তির একমাত্র উপায়। এ কথা সত্য যে, আমাদের ইবাদাতের ফলে আল্লাহর রাজত্বে সামান্য বৃদ্ধি হবে না, বরং আমরাই উপকৃত হব ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাব। ইরশাদ হচ্ছে:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَأَهۡلِيكُمۡ نَارٗا وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلۡحِجَارَةُ عَلَيۡهَا مَلَٰٓئِكَةٌ غِلَاظٞ شِدَادٞ لَّا يَعۡصُونَ ٱللَّهَ مَآ أَمَرَهُمۡ وَيَفۡعَلُونَ مَا يُؤۡمَرُونَ ٦ ﴾ [ التحريم : ٦ ]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন হতে বাঁচাও যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতাকুল, আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে ব্যাপারে তার অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে যা তাদেরকে আদেশ করা হয়”। [সূরা তাহরীম:(৬)]
আল্লাহর হিকমতের দাবি তিনি জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন উভয়ের জন্য নির্দিষ্ট মখলুক। যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে তারা জান্নাতি, যারা কুফরি করে ও পাপাচারে লিপ্ত হয় তারা জাহান্নামি। এটাই আল্লাহর চূড়ান্ত ইনসাফ। আল্লাহ কখনো মুমিনদের ঈমান বিনষ্ট করেন না, যেমন তিনি কাফেরদের শাস্তি ব্যতীত ছেড়ে দেন না।
আল্লাহ জান্নাত সৃষ্টি করে তার জন্য কিছু আমল দিয়েছেন, যা খুব সহজ ও কষ্টহীন। যাকে তিনি তাওফিক দেন, যে তার উপকরণ গ্রহণ করে, সে অনায়াসে তা সম্পাদনে সক্ষম হয়। আর যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, শয়তানের তাবেদারি করে অথচ আল্লাহর কাছে পার পাওয়ার তামান্না রাখে, তার জন্য তা কঠিন ও কষ্টকর। যদি সে তওবা করে ও শয়তানের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়, তাহলে তার জন্যও সহজ।