hadith book logo

যিলহজ, ঈদ ও কোরবানি

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪

আইয়ামুত তাশরীক এর ফজিলত

এ দিনগুলোর ফজিলত সম্পর্কে যে সকল বিষয় এসেছে তা নীচে আলোচনা করা হল :—

(১) এ দিনগুলো এবাদত-বন্দেগি, আল্লাহ রাববুল আলামিনের জিকির ও তার শুকরিয়া আদায়ের দিন। আল্লাহ তাআলা বলেন :—

وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ ( البقرة : 203)

‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে।’ [সূরা বাকারা : ২০৩]

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বোখারি রহ. বলেন :—

قال البخاري : عن أبن عباس رضى الله عنهما ... الأيام المعدودات : أيام التشريق . ) البخاري، كتاب العيدين (

ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন—‘নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে আইয়ামুত-তাশরীককে বুঝানো হয়েছে।’ [ফতহুল বারী, ঈদ অধ্যায়]

ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন : ইবনে আববাসের এ ব্যাখ্যা গ্রহণে কারো কোন দ্বি-মত নেই। [তাফসীর কুরতুবী] আর মূলত এ দিনগুলো হজের মওসুমে মিনাতে অবস্থানের দিন। কেননা হাদিসে এসেছে—

... أيام منى ثلاثة : فمن تعجل في يومين فلا إثم عليه ومن تأخر فلا إثم عليه ). رواه أبو داود ১৯৪৯ وصححه الألباني (

মিনায় অবস্থানের দিন হল তিন দিন। যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দু দিনে চলে আসে তবে তার কোন পাপ নেই। আর যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোন পাপ নেই। [আবু দাউদ- ১৯৪৯, হাদিসটি সহিহ] হাদিসে এসেছে—

عن نبيشة الهذلي أن رسول الله- صلى الله عليه وسلم- قال : أيام التشريق أيام أكل وشرب وذكر الله . ) رواه مسلم ১১৪১(

নাবীশা হাজালী থেকে বর্ণিত যে রাসূলে কারীম স. বলেছেন : ‘আইয়ামুত-তাশরীক হল খাওয়া-দাওয়া ও আল্লাহ রাববুল আলামিনের জিকিরের দিন।’ [মুসলিম- ১১৪১]

ইমাম ইবনে রজব রহ. এ হাদিসের ব্যাখ্যায় চমৎকার কথা বলেছেন। তিনি বলেন : আইয়ামুত-তাশরীক এমন কতগুলো দিন যাতে ঈমানদারদের দেহের নেয়ামত ও স্বাচ্ছন্দ্য এবং মনের নেয়ামত তথা স্বাচ্ছন্দ্য একত্র করা হয়েছে। খাওয়া- দাওয়া হল দেহের খোরাক আর আল্লাহর জিকির ও শুকরিয়া হল হৃদয়ের খোরাক। আর এভাবেই নেয়ামতের পূর্ণতা লাভ করল এ দিনসমূহে। [লাতায়েফুল মাআরেফ : ইবনে রজব র. পৃ-৫০৪]

(২) আইয়ামুত-তাশরীকের দিনগুলো ঈদের দিন হিসেবে গণ্য। যেমন হাদিসে এসেছে—

عن عقبة بن عامر- رضى الله عنه- أن النبي صلى الله عليه وسلم قال : يوم عرفة، ويوم النحر، وأيام منى عيدنا أهل الإسلام، وهي أيام أكل وشرب . ) رواه أبو داود ২৪১৩ وصححه الألباني (

‘সাহাবি উকবাহ ইবনে আমের রা. থেকে বর্ণিত যে রাসূলে কারীম স. বলেছেন: আরাফাহ দিবস, কোরবানির দিন ও মিনার দিন সমূহ (কোরবানি পরবর্তী তিন দিন) আমাদের ইসলাম অনুসারীদের ঈদের দিন।’ [আবু দাউদ-২৪১৩, হাদিসটি সহিহ]

(৩) এ দিনসমূহ যিলহজ মাসের প্রথম দশকের সাথে লাগানো। যে দশক খুবই ফজিলতপূর্ণ। তাই এ কারণেও এর যথেষ্ট মর্যাদা রয়েছে।

(৪) এ দিনগুলোতে হজের কতিপয় আমল সম্পাদন করা হয়ে থাকে। এ কারণেও এ দিনগুলো ফজিলতের অধিকারী।