hadith book logo

যিলহজ, ঈদ ও কোরবানি

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

অনুবাদকের কথা

জগৎ সমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার জন্য সকল প্রশংসা। তার রহমত ও আমাদের হৃদয়-নিংড়ানো সালাম সাইয়েদুল মুরসালিন ও তার সহচরগণের প্রতি সর্বদা নিবেদিত হোক।

আমাদের দেশের কোন ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলিমকে আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন ‘যিলহজ মাসের দশ তারিখে কোরবানি ঈদ। এর পূর্বের দিনগুলোর তাৎপর্য-ফজিলত, করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে আপনি কি জানেন ?’ সে উত্তরে বলবে—‘যারা কোরবানি করবে তারা এ দিনগুলোতে গরু-ছাগলের হাটে যাবে, কোরবানির জন্য পশু ক্রয় করবে।’ ব্যস ! এ ছাড়া আর কি করার আছে ?

হ্যাঁ যিলহজ মাসের প্রথম দশক ও এর করণীয় সম্পর্কে আমরা একেবারেই বে-খবর।

আর এ গাফিলতির নিদ্রা অবসানের লক্ষ্যে প্রখ্যাত গবেষক ফায়সাল বিন আলী বাদানি ও আবু আনাস খায়রুল্লাহর তত্ত্বাবধানে আরবী ভাষায় খুবই কার্যকরী একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ বাজারে আসে, বর্তমান সমাজ ও সামাজিক অবস্থার বিবেচনায় যা খুবই প্রয়োজনীয় বলে আমি মনে করি।

সাত বছর পূর্বে যখন কিতাবটি হাতে আসে তখন এর অনুবাদ করার প্রয়োজন অনুভব করি। আমাদের দেশে এ বিষয়ে লেখা কোন বই নেই—যতদূর আমি খোঁজ-খবর নিয়েছি—তেমনি এ বিষয়ে তেমন আলোচনাও চোখে পড়ে না। যখন হাটহাজারীর দারুল উলুমে দাওরায়ে হাদিস শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলাম, তখন দেখেছি আমাদের মুহসিন আসাতেজায়ে কেরাম যিলহজ মাস আসার পূর্বেই আশে-পাশের মহল্লার লোকজনকে ডেকে আলোচনা সভা করে এ বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিতেন। মনে করেছিলাম তাঁদের এ সুন্দর উদ্যোগ দেশের সর্বত্র প্রসারিত হবে, মানুষ এ বিষয়ে সচেতন হবে। কিন্তু তা আশানুরূপ হয়নি।

এ কিতাবে শুধু যিলহজ মাসের ফজিলত, কোরবানি ও ঈদ সম্পর্কে আলোচনা হয়নি। এ সকল বিষয়ের সাথে সাথে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন তওবা কবুলের শর্তাবলি, গাইরুল্লাহর নামে পশু জবেহ করার পরিণাম, গান-বাদ্যের হুকুম—ইত্যাদি বহু বিষয়, যা মুসলিম সমাজে প্রসার করা অতীব প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

আল্লাহর ফজলে বর্তমানে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মাঝে মূলের দিকে ফিরে যাওয়ার একটা চেতনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর প্রভাবে মুসলমানগণ সবকিছু কোরআন ও হাদিসের আশ্রয়ে জানতে ও বুঝতে চায়। এ এক বিরাট অগ্রগতি ও জাগরণের লক্ষণ—সন্দেহ নেই। সামাজিকভাবে এ পরিস্থিতির উদ্ভবের পূর্বের প্রেক্ষাপটে আমরা লক্ষ্য করি যে, মানুষের ইসলাম সম্পর্কে যখন কোন কিছু বুঝার দরকার হত তখন কোন আলেমের শরণাপন্ন হত। তিনি যা বলতেন তা মেনে নিত। কিন্তু বর্তমানে সে অবস্থা নেই। কোন কিছু বললে জানতে চাওয়া হয় এটা কোথায় আছে ? এর দলিল-প্রমাণ কি ?—ইত্যাদি। এ চাহিদার প্রতি খেয়াল রেখে সংকলকবৃন্দ সকল মাসআলার কোরআন-হাদিস ভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। তাই এ বই-এর মাধ্যমে আলেম-উলামা, দাওয়াত-কর্মী ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট যে কেউ উপকৃত হবেন বেশি। তাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। এমনিভাবে এর থেকে ইস্তেফাদা অব্যাহত থাকবে এবং এ প্রচেষ্টার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব লাভ করবেন আল্লাহর মেহেরবানিতে। এটাই আমাদের সকলের জন্য বিরাট অর্জন।

আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

২৯-১০-১৪২৮ হিজরি