hadith book logo

যিলহজ, ঈদ ও কোরবানি

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩২

(৩) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া

ঈদগাহে তাড়াতাড়ি যাওয়া উচিত। যাতে ইমাম সাহেবের নিকটবর্তী স্থানে বসা যায় ও ভাল কাজ অতি তাড়াতাড়ি করার সওয়াব অর্জন করা যায়, সাথে সাথে সালাতের অপেক্ষায় থাকার সওয়াব পাওয়া যাবে। ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া হল মোস্তাহাব। হাদিসে এসেছে—

عن علي- رضى الله عنه- قال : من السنة أن تخرج إلى العيد ماشيا . رواه الترمذي وحسنه وقال : والعمل على هذا عند أكثر أهل العلم : يستحبون أن يخرج الرجل إلى العيد ماشيا، وأن لا يركب إلا بعذر . ) رقم ৫৩৬ وحسنه الألباني في صحيح سنن الترمذي ৪৩৭)

আলী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : সুন্নত হল ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া।

ইমাম তিরমিজি হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন হাদিসটি হাসান। তিনি আরো বলেন : অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এ অনুযায়ী আমল করেন। এবং তাদের মত হল পুরুষ ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাবে, এটা মোস্তাহাব। আর গ্রহণযোগ্য কোন কারণ ছাড়া যানবাহনে আরোহণ করবে না। [তিরমিজিু- ৫৩৬, হাদিসটি হাসান]

আর একটি সুন্নত হল যে পথে ঈদগাহে যাবে সে পথে না ফিরে অন্য পথে ফিরে আসবে। যেমন হাদিসে এসেছে—

عن جابر- رضى الله عنه- قال : كان النبي إذا كان يوم العيد خالف الطريق . ) رواه البخاري ৯৮৬(

জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী কারীম স. ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন। [বোখারি -৯৮৭] অর্থাৎ যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে না এসে অন্য পথে আসতেন। তিনি এটা কেন করতেন—এর ব্যাখ্যায় অনেক উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন হিকমত বর্ণনা করেছেন। কেউ বলেছেন : যেন ঈদের দিনে উভয় পথের লোকদেরকে সালাম দেয়া ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায় এ কারণে তিনি দুটো পথ ব্যবহার করতেন।

আবার অনেকে বলেছেন ইসলাম ধর্মের শৌর্য-বীর্য প্রকাশ করার জন্য তিনি সকল পথে আসা-যাওয়া করতেন যেন সকল পথের অধিবাসীরা মুসলিমদের শান-শওকত প্রত্যক্ষ করতে পারে। আবার কেউ বলেছেন গাছ-পালা তরুলতাসহ মাটি যেন অধিক-হারে মুসলিমদের পক্ষে সাক্ষী হতে পারে সে জন্য তিনি একাধিক পথ ব্যবহার করতেন।

আসল কথা হল হিকমত ও উদ্দেশ্য যাই হোক, আর তা আমাদের বুঝে আসুক বা না আসুক আমাদের কর্তব্য হল আল্লাহর রাসূল স.-এর সুন্নত অনুসরণ করা। [যাদুল মাআদ : ইবনুল কায়্যিম]