hadith book logo

যিলহজ, ঈদ ও কোরবানি

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৮

(৩) ঈদের দিনে কবর জিয়ারত

কবর জিয়ারত করা শরিয়ত সমর্থিত একটি নেক আমল। যেমন হাদিসে এসেছে—

عن أنس رضى الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : كنت نهيتكم عن زيارة القبور، ألا فزورها فإنها ترق القلب وتدمع العين وتذكر الآخرة، ولا تقولوا هجراً . ) صحيح الجامع رقم ৪৫৮৪(

আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে রাসূলে কারীম স. বলেছেন : আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, হা, এখন তোমরা কবর জিয়ারত করবে। কারণ কবর জিয়ারত হৃদয়কে কোমল করে, নয়নকে অশ্রুসিক্ত করে ও পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে তোমরা শোক ও বেদনা প্রকাশ করতে কিছু বলো না। [সহিহ আল-জামে হাদিস নং ৪৫৮৪]

কিন্তু ঈদের দিনে কবর জিয়ারতকে অভ্যাসে পরিণত করা বা একটা প্রথা বানিয়ে নেয়া শরিয়তসম্মত নয়। রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন :—

لا تجعلوا قبري عيداً ... ) رواه أبو داود و ২০৪২ صححه الألباني (

তোমরা আমার কবরে ঈদ উদযাপন করবে না বা ঈদের স্থান বানাবে না...। [আবু দাউদ-২০৪২, হাদিসটি সহিহ]

যদি ঈদের দিনে কবর জিয়ারত করা হয় তবে কবরে ঈদ উদযাপন বলে গণ্য হয়। মনে রাখা প্রয়োজন যে ‘ঈদ’ মানে যা বার বার আসে। প্রতি বছর অথবা প্রতি মাসে বা প্রতি বছরে।

যদি বছরের কোন একটি দিনকে কবর জেয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়া হয় আর তা প্রতি বছরে করা হয় তা হলে এর নামই হল কবরে ঈদ উদযাপন। আর সেটা যদি সত্যিকার ঈদের দিনে হয় তবে তা আরো মারাত্মক বলে ধরে নেয়া যায়।

যখন আল্লাহ তাআলার রাসূলের কবরে ঈদ পালন নিষিদ্ধ তখন অন্যের কবরে ঈদ উদযাপন করার হুকুম কতখানি নিষিদ্ধের পর্যায়ে পড়ে তা একটু অনুমান করা যেতে পারে।