hadith book logo

যিলহজ, ঈদ ও কোরবানি

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪০

(৭) ঈদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি

ঈদের সালাত হল দু রাকাত। হাদিসে এসেছে—

قال عمر رضى الله عنه : صلاة الجمعة ركعتان وصلاة الفطر ركعتان وصلاة الأضحى ركعتان وصلاة السفر ركعتان . ( رواه النسائي وصححه الألباني )

উমর রা. বলেন : জুমআর সালাত দু রাকাত, ঈদুল ফিতরের সালাত দু রাকাত, ঈদুল আজহার সালাত দু রাকাত ও সফর অবস্থায় সালাত হল দু রাকাত। [নাসায়ি- ১৩৪৬, হাদিসটি সহিহ]

ঈদের সালাত শুরু হবে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে। তাকবীরে তাহরীমার পর সাতটি তাকবীর দেবে। কারো মতে প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমার পর ছয়টি তাকবীর দেবে। দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত পাঁচটি তাকবীর দেবে।

عن عائشة رضى الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كبر في الفطر سبعا وخمسا سوى تكبيرتي الركوع . ( رواه ابن ماجه وصححه الألباني )

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যে দুটো রুকুর তাকবীর বাদে নবী কারীম স. ঈদুল ফিতরের সালাতে সাতটি ও পাঁচটি তাকবীর দিতেন। এ অতিরিক্ত তাকবীরগুলো সুন্নত। এ গুলো পরিত্যাগ করলে সালাত বাতিল হয় না। আর প্রত্যেক তাকবীরে হাত উঠাতে হবে। (তবে হানাফী মাজহাব অনুসারীরা অতিরিক্ত ছয়টি তাকবীরের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর নিকট ঈদের সালাতের ছয়টি অতিরিক্ত তাকবীর ওয়াজিব)

তাকবীরসমূহ আদায় করার পর সুরা ফাতেহা পড়বে, তারপর প্রথম রাকাতে সূরা আলা পড়বে আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা গাসিয়াহ পড়বে। অথবা প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর সূরা কাফ পড়বে আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ক্কামার পড়বে। [মুসলিম- ৮৭৮]

সালাত শেষ হওয়ার পর ইমাম সাহেব খুতবা দেবেন। মনে রাখা দরকার ঈদের খুতবা হবে সালাত আদায়ের পর সালাত আদায়ের পূর্বে কোন খুতবা নেই। হাদিসে এসেছে—

عن أبي سعيد الخدري رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المصلى، فأول شيء يبدأ به الصلاة، ثم ينصرف فيقوم مقابل الناس والناس جلوس على صفوفهم، فيعظهم ويوصيهم ويأمرهم .( رواه البخاري ৯৫৬)

আবু সায়ীদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ স. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেন। ঈদগাহে প্রথম সালাত শুরু করতেন। সালাত শেষে মানুষের দিকে ফিরে খুতবা দিতেন, এ খুতবাতে তিনি তাদের ওয়াজ করতেন, উপদেশ দিতেন, বিভিন্ন নির্দেশ দিতেন। আর এ অবস্থায় মানুষেরা তাদের কাতারে বসে থাকত। [বোখারি-৯৫৬]

এ হাদিস দ্বারা যে কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হল তার মাঝে : ঈদের সালাতের পূর্বে কোন ওয়াজ-নসিহত বা খুতবা হবে না। ইমাম সাহেব ঈদগাহে এসেই সালাত শুরু করে দেবেন।