hadith book logo

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবদান

লেখকঃ ড. মোঃ আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

বিবাহ ও পরিবার গঠনের অধিকার

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবন দর্শনে সমাজে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি ব্যক্তিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অধিকার প্রদান করা হয়েছে। ইসলামে বিবাহ সমভাবে একটি অধিকার ও ধর্মীয় দায়িত্ব। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিবাহ আমার পন্থা, যে আমার পন্থার প্রতি অনাসক্ত হয় সে আমার আদর্শভূক্ত নয়।" [.আল্-হাদীস, উদ্ধৃতি : মুহাম্মদ শফিক আহমদ ও মুহাম্মদ রুহুল আমীন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৭৩।] কৌমার্যব্রতকে প্রত্যাখান করে তিনি বলেছেন: "ইসলামে সন্ন্যাসব্রত বা বৈরাগ্যপ্রথার অনুমোদন নেই।" [.প্রাগুক্ত, পৃ. ১৭৩।] প্রকৃতপক্ষে ইসলামে 'বিবাহ' কেবলমাত্র জৈবিক চাহিদা পূরণের পন্থাই নয়, বরং পারস্পারিক ভালবাসা, সমঝোতা, সমবেদনা ও নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবর্তিত বিবাহ ব্যবস্থা এমন একটি সামাজিক চুক্তি যাতে নারী ও পুরুষ উভয়ের সম্মত বা অসম্মত হবার সমান অধিকার স্বীকৃত। তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারেও ইসলামে নারী ও পুরুষকে সমান অধিকার প্রদান করা হয়েছে।

বিবাহের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনকে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। 'যেহেতু স্বামী-স্ত্রীই হল পরিবারের মূল ভিত্তি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের উপরই প্রাথমিকভাবে পারিবারিক জীবনের শান্তি ও সুখ নির্ভর করে তাই পারিবারিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হবে এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে: "তাঁরা (স্ত্রীগণ) হবে তোমাদের (স্বামীদের) ভূষণ আর তোমারা (স্বামীগণ) তাদের (স্ত্রীদের) ভূষণ" (সূরা বাকারাহ : ১৮৭)। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে এই পারিবারিক জীবনে মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাসহ শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কতখানি সতর্ক ছিলেন তা তাঁর নিম্নোক্ত হাদীস দু'টিতে প্রস্ফুটিত হয়। তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই (সে সত্যানুসারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়)। তিনি আরো বলেছেন, "সকল মানুষ আল্লাহর পৌষ্য (পরিবারের সদস্যের ন্যায়), সে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় যে তাঁর পৌষ্য (মানুষের প্রতি) সর্বাধিক সদ্ব্যবহার করে। [.উদ্ধৃত, ড. আ. ন. ম. রইছ উদ্দিন; বিভিন্ন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারের শিক্ষা ও মূল্যবোধ : ইসলাম ধর্ম, আদর্শ পরিবার, উন্নত সমাজ, কারিতাস উন্নয়ন শিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিমাসিক মুখপাত্র, সংখ্যা ৪১, ১৪ বর্ষ, ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪, পৃ. ৬২।] মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিজের পারিবারিক জীবনে এসব আদর্শের বাস্তন প্রতিফলন দেখিয়েছেন অত্যন্ত সফলভাবে। [.বিস্তারিত দেখুন, কুরআন হাদীসের আলোকে পারিবারিক জীবন, মূল : মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (র.) অনুবাদ : মাওলানা আবু তাহের রাহমানী, বাগদাদ লাইব্রেরী, ঢাকা, ১৯৯৯।]