১
আল্লাহর পথে দাওয়াত
লেখকঃ ড. আ.ন.ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
আযাব-গযব থেকে রক্ষা
দা‘ওয়াত ও আদেশ নিষেধের দায়িত্ব পলন করার অন্যতম পুরস্কার হলো জাগতিক গযব থেকে রক্ষা পাওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সুন্দর উদাহরণের মাধ্যমে তা বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন,
«مَثَلُ الْقَائِمِ عَلى حُدُودِ اللهِ وَالْمُدْهِنِ ( الواقع ) فِيْهَا كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلى سَفِيْنَةٍ فِي الْبَحْرِ فَأصَابَ بَعْضُهُمْ أعْلاهَا وَأصَابَ بَعْضُهُمْ أسْفَلَهَا فَكَانَ الذيْنَ في أسْفَلِهَا يَصْعَدُونَ فَيَسْتَقُونَ الْمَاءَ فَيَصُبُّونَ عَلى الذينَ فِي أعْلاهَا فَقَالَ الذينَ فِي أعْلاهَا لا نَدَعُكُمْ تَصْعَدُونَ فَتُؤذُوننَا» فَقَالَ الذينَ فِي أسْفَلِهَا فَإنَّا ننْقُبُهَا مِنْ أسْفَلِهَا ( في نصيبنا ) فَنَسْتَقِي ( ولم نُؤذ مَنْ فَوقَنَا ) فَإنْ أخَذُوا عَلى أيْدِيهِمْ فَمَنَعُوهُمْ نَجَوا جَمِيعًا وَإنْ تَرَكُوهُمْ غَرِقُوا جَمِيعًا»
“যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধিবিধান সংরক্ষণের জন্য সচেষ্ট এবং যে লঙ্ঘন করছে উভয়ের উদাহরণ হলো একদল মানুষের মতো। তারা সমুদ্রে একটি জাহাজ বা বজরা ভাড়া করে। লটারির মাধ্যমে কেউ উপরে এবং কেউ নিচের তলায় স্থান পায়। যারা নিচে অবস্থান গ্রহণ করল তাদের পানির জন্য উপরে আসতে হয়। এতে উপরের মানুষদের গায়ে পানি পড়তে লাগল। তখন উপরের মানুষেরা বলল, আমাদেরকে এভাবে কষ্ট দিয়ে তোমাদেরকে উপরে উঠতে দিব না। তখন নিচের মানুষেরা বলল, আমরা আমাদের অংশে বা জাহাজের নিচে একটি গর্ত করি, তাহলে আমরা সহজে পানি নিতে পারব এবং উপরের মানুষদের কষ্ট দিতে হবে না। এই অবস্থায় যদি উপরের মানুষেরা তাদের এ কাজে বাধা দেয় এবং নিষেধ করে তাহলে তারা সকলেই বেঁচে যাবে। আর যদি তারা তাদেরকে এ কাজ করতে সুযোগ দেয় তাহল তারা সকলেই ডুবে মরবে।” [সহীহ বুখারী ও তিরমিযী।]
নবুওয়াতের নূর থেকে উৎসারিত এ উদাহরণটি ভালো করে চিন্তা করুন। সমাজের অনেক ক্ষমতাধর বা প্রভাবশালী মানুষ অনেক প্রকারের অন্যায় বা গর্হিত কাজ দেখেও প্রতিবাদ করেন না। তারা জানেন যে, তারা প্রতিবাদ করলে তা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তারা নীরবতা বা তাৎক্ষণিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেন। তারা ভাবেন, এতে আমার তো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। কষ্ট করছে অন্য মানুষেরা। নষ্ট হচ্ছে অন্য মানুষের সন্তানেরা। তাদের বুঝা উচিৎ যে, সমাজের এ অবক্ষয় কোনো না কোনোভাবে তাদের ও তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে স্পর্শ করবেই। এ জন্য আমাদের সকলকেই আদেশ-নিষেধের এ দায়িত্ব পালনে সজাগ থাকতে হবে।
«مَثَلُ الْقَائِمِ عَلى حُدُودِ اللهِ وَالْمُدْهِنِ ( الواقع ) فِيْهَا كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلى سَفِيْنَةٍ فِي الْبَحْرِ فَأصَابَ بَعْضُهُمْ أعْلاهَا وَأصَابَ بَعْضُهُمْ أسْفَلَهَا فَكَانَ الذيْنَ في أسْفَلِهَا يَصْعَدُونَ فَيَسْتَقُونَ الْمَاءَ فَيَصُبُّونَ عَلى الذينَ فِي أعْلاهَا فَقَالَ الذينَ فِي أعْلاهَا لا نَدَعُكُمْ تَصْعَدُونَ فَتُؤذُوننَا» فَقَالَ الذينَ فِي أسْفَلِهَا فَإنَّا ننْقُبُهَا مِنْ أسْفَلِهَا ( في نصيبنا ) فَنَسْتَقِي ( ولم نُؤذ مَنْ فَوقَنَا ) فَإنْ أخَذُوا عَلى أيْدِيهِمْ فَمَنَعُوهُمْ نَجَوا جَمِيعًا وَإنْ تَرَكُوهُمْ غَرِقُوا جَمِيعًا»
“যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধিবিধান সংরক্ষণের জন্য সচেষ্ট এবং যে লঙ্ঘন করছে উভয়ের উদাহরণ হলো একদল মানুষের মতো। তারা সমুদ্রে একটি জাহাজ বা বজরা ভাড়া করে। লটারির মাধ্যমে কেউ উপরে এবং কেউ নিচের তলায় স্থান পায়। যারা নিচে অবস্থান গ্রহণ করল তাদের পানির জন্য উপরে আসতে হয়। এতে উপরের মানুষদের গায়ে পানি পড়তে লাগল। তখন উপরের মানুষেরা বলল, আমাদেরকে এভাবে কষ্ট দিয়ে তোমাদেরকে উপরে উঠতে দিব না। তখন নিচের মানুষেরা বলল, আমরা আমাদের অংশে বা জাহাজের নিচে একটি গর্ত করি, তাহলে আমরা সহজে পানি নিতে পারব এবং উপরের মানুষদের কষ্ট দিতে হবে না। এই অবস্থায় যদি উপরের মানুষেরা তাদের এ কাজে বাধা দেয় এবং নিষেধ করে তাহলে তারা সকলেই বেঁচে যাবে। আর যদি তারা তাদেরকে এ কাজ করতে সুযোগ দেয় তাহল তারা সকলেই ডুবে মরবে।” [সহীহ বুখারী ও তিরমিযী।]
নবুওয়াতের নূর থেকে উৎসারিত এ উদাহরণটি ভালো করে চিন্তা করুন। সমাজের অনেক ক্ষমতাধর বা প্রভাবশালী মানুষ অনেক প্রকারের অন্যায় বা গর্হিত কাজ দেখেও প্রতিবাদ করেন না। তারা জানেন যে, তারা প্রতিবাদ করলে তা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তারা নীরবতা বা তাৎক্ষণিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেন। তারা ভাবেন, এতে আমার তো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। কষ্ট করছে অন্য মানুষেরা। নষ্ট হচ্ছে অন্য মানুষের সন্তানেরা। তাদের বুঝা উচিৎ যে, সমাজের এ অবক্ষয় কোনো না কোনোভাবে তাদের ও তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে স্পর্শ করবেই। এ জন্য আমাদের সকলকেই আদেশ-নিষেধের এ দায়িত্ব পালনে সজাগ থাকতে হবে।