১
আল্লাহর পথে দাওয়াত
লেখকঃ ড. আ.ন.ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা
আদেশ-নিষেধ, নসীহত, বা আল্লাহর পথে আহ্বান করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয় হলো, যাকে আদেশ করছি বা আহ্বান করছি তার প্রতি হৃদয়ের ভালোবাসা ও আন্তরিক মঙ্গল কামনা। এ জন্যই দা‘ওয়াতের এ কর্মকে কুরআন ও হাদীসে নসীহত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা দেখছি যে, নসীহতের মূল অর্থ “আন্তরিক ভালোবাসা ও মঙ্গল কামনা”। আল্লাহর পথে আহ্বানকারী বা আদেশ নিষেধকারী কারো ভুল ধরে দেওয়া, নিজের জ্ঞান প্রদর্শন বা নিজের মাতব্বরি প্রতিষ্ঠার জন্য এই কাজ করবেন না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি হৃদয়ের ভালোবাসার টানেই এ দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যায়ে লিপ্ত বা বিভ্রান্ত যে ব্যক্তিকে তিনি দা‘ওয়াত দিচ্ছেন তার প্রতি তার হৃদয়ের অনুভূতি হবে বিপদগ্রস্ত আপনজনের মতো। যার বিপদে তিনি ব্যাথা অনুভব করছেন এবং যাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য হৃদয়ের আকুতি অনুভব করছেন। তাকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিলে যদি সে তা না মানে বা বিরোধিতা করে তবে আহ্বানকারী মুমিনের হৃদয়ে ক্রোধ বা প্রতিহিংসা জাগ্রত হবে না, বরং বেদনা ও দুশ্চিন্তা তার হৃদয়কে আচ্ছন্ন করবে। বেদনায় তার হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই অবস্থার কথা আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেছেন:
﴿فَلَعَلَّكَ بَٰخِعٞ نَّفۡسَكَ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمۡ إِن لَّمۡ يُؤۡمِنُواْ بِهَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ أَسَفًا ٦﴾ [ الكهف : ٦ ]
“তারা এই বাণীতে ঈমান না আনলে সম্ভবত আপনি তাদের পিছনে ঘুরে দুঃখ-বেদনায় নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবেন।” [সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ১]
সূরা আশ-শু‘আরা-এর ৩ নং আয়াতেও অনুরূপ বলা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনে এই ভালোবাসা ও প্রেমের অগণিত উদাহরণ আমরা দেখতে পাই। যে কাফিরগণ তাঁর দেহকে রক্তরঞ্জিত করছে তাদেরই জন্য তিনি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও করুণা প্রার্থনা করছেন। তিনি তাঁর কপালের রক্ত মুছছেন আর বলছেন,
«رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإنَّهُمْ لا يَعْلَمُونَ»
“হে আমার রব, আমার জাতিকে ক্ষমা করে দিন, কারণ তারা জানে না।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম, ফতহুল বারী।]
মক্কাবাসীদের অত্যাচারে জর্জরিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফে গিয়ে পেলেন নির্মমতম অত্যাচার। সে সময়ে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম পাহাড়ের ফিরিশতাকে নিয়ে তাঁর নিকট আগমন করে বললেন, আপনার অনুমতি হলে পাহাড় উঠিয়ে এ জনপদকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কঠিনতম কষ্টের সে মুহূর্তেও তিনি বললেন:
«بَلْ أرْجُو أنْ يُخْرِجَ اللهُ مِنْ أصْلابِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ وَحْدَهُ لا يُشْرِكُ بِهِ شَيئًا»
“না বরং আমি আশা করি যে, আল্লাহ হয়ত এদের ঔরস থেকে এমন মানুষের জন্ম দেবেন যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কিছু শরিক করবে না।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম।]
সুবহানাল্লাহ! কত বড় ধৈর্য! কত মহান ভালোবাসা!! আমরা যারা সামান্য বিরোধিতায় উত্তেজিত হয়ে গালাগালি করি ও প্রতিশোধের পরিকল্পনায় বিভোর হই তাদের একটু চিন্তা করা দরকার!
অন্যায়ে লিপ্ত বা বিভ্রান্ত যে ব্যক্তিকে তিনি দা‘ওয়াত দিচ্ছেন তার প্রতি তার হৃদয়ের অনুভূতি হবে বিপদগ্রস্ত আপনজনের মতো। যার বিপদে তিনি ব্যাথা অনুভব করছেন এবং যাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য হৃদয়ের আকুতি অনুভব করছেন। তাকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিলে যদি সে তা না মানে বা বিরোধিতা করে তবে আহ্বানকারী মুমিনের হৃদয়ে ক্রোধ বা প্রতিহিংসা জাগ্রত হবে না, বরং বেদনা ও দুশ্চিন্তা তার হৃদয়কে আচ্ছন্ন করবে। বেদনায় তার হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই অবস্থার কথা আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেছেন:
﴿فَلَعَلَّكَ بَٰخِعٞ نَّفۡسَكَ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمۡ إِن لَّمۡ يُؤۡمِنُواْ بِهَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ أَسَفًا ٦﴾ [ الكهف : ٦ ]
“তারা এই বাণীতে ঈমান না আনলে সম্ভবত আপনি তাদের পিছনে ঘুরে দুঃখ-বেদনায় নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবেন।” [সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ১]
সূরা আশ-শু‘আরা-এর ৩ নং আয়াতেও অনুরূপ বলা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনে এই ভালোবাসা ও প্রেমের অগণিত উদাহরণ আমরা দেখতে পাই। যে কাফিরগণ তাঁর দেহকে রক্তরঞ্জিত করছে তাদেরই জন্য তিনি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও করুণা প্রার্থনা করছেন। তিনি তাঁর কপালের রক্ত মুছছেন আর বলছেন,
«رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإنَّهُمْ لا يَعْلَمُونَ»
“হে আমার রব, আমার জাতিকে ক্ষমা করে দিন, কারণ তারা জানে না।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম, ফতহুল বারী।]
মক্কাবাসীদের অত্যাচারে জর্জরিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফে গিয়ে পেলেন নির্মমতম অত্যাচার। সে সময়ে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম পাহাড়ের ফিরিশতাকে নিয়ে তাঁর নিকট আগমন করে বললেন, আপনার অনুমতি হলে পাহাড় উঠিয়ে এ জনপদকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কঠিনতম কষ্টের সে মুহূর্তেও তিনি বললেন:
«بَلْ أرْجُو أنْ يُخْرِجَ اللهُ مِنْ أصْلابِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ وَحْدَهُ لا يُشْرِكُ بِهِ شَيئًا»
“না বরং আমি আশা করি যে, আল্লাহ হয়ত এদের ঔরস থেকে এমন মানুষের জন্ম দেবেন যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কিছু শরিক করবে না।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম।]
সুবহানাল্লাহ! কত বড় ধৈর্য! কত মহান ভালোবাসা!! আমরা যারা সামান্য বিরোধিতায় উত্তেজিত হয়ে গালাগালি করি ও প্রতিশোধের পরিকল্পনায় বিভোর হই তাদের একটু চিন্তা করা দরকার!