১
আল্লাহর পথে দাওয়াত
লেখকঃ ড. আ.ন.ম. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
ইলম বা জ্ঞান
দা‘ওয়াতের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রথম শর্ত হলো, ন্যায়-অন্যায়, তার পর্যায় এবং সেগুলোর প্রতিবাদ-প্রতিকারের ইসলামি পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান। আমি যে কাজ করার বা বর্জন করার দা‘ওয়াত দিচ্ছি তা সত্যিই ইসলামের নির্দেশ কিনা তা জানতে হবে। ভালোমন্দ অনেক ক্ষেত্রে সকল মানুষই বিবেক ও জ্ঞান দিয়ে বুঝতে পারেন। খুন, যুলুম, রাহাজানি, চুরি , ডাকাতি, মারামারি, নেশা-মাদকাশক্তি ইত্যাদি অগণিত অন্যায় কাজকে অন্যায় বলে জানতে বেশি জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। অনুরূপভাবে মানুষকে সাহায্য করা, সান্ত্বনা দেওয়া, সৃষ্টির কল্যাণে এগিয়ে আসা ইত্যাদি ভালো কাজ বলে সবাই বুঝি। কিন্তু ইসলামি কর্মকাণ্ড বা ধর্মীয় নির্দেশনা বিষয়ক অগণিত বিষয় রয়েছে যে সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান না থাকলে মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নিজেই অন্যায়ে লিপ্ত হবেন। অথবা সৎকাজে আদেশ দান করতে গিয়ে অসৎকাজে আদেশ করবেন। যেমন, এক ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ কাজ করছেন বা স্ত্রী-সন্তানদের প্রতিপালনের জন্য জরুরি কাজ করছেন। কাজটি তার জন্য ফরযে আইন। আপনি তাকে এই দুনিয়াবী কাজ বর্জন করে নফল বা ফরযে কিফায়া পর্যায়ের মাহফিল, মিছিল, মিটিং বা দা‘ওয়াতে অংশগ্রহণ করতে আহ্বান করলেন। অথবা এক ব্যক্তি ওজরের কারণে দাঁড়িয়ে পেশাব করছেন দেখে আপনি তাকে যাচ্ছেতাই গালি-গালাজ করলেন। উভয় ক্ষেত্রে আপনি ন্যায় করতে গিয়ে অন্যায়ে লিপ্ত হলেন। এরূপ অগণিত উদাহরণ আমরা দেখতে পাব। এজন্য ধর্মীয় বিধি-বিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির ক্ষেত্রে মুমিনের উচিৎ বিষয়টি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ বা অন্যায় তা স্পষ্টভাবে না জেনে হটকারিতায় লিপ্ত না হওয়া। দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে স্পষ্ট জ্ঞানের অত্যাবশ্যকতা বিষয়ে আল্লাহ বলেন,
﴿قُلۡ هَٰذِهِۦ سَبِيلِيٓ أَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا۠ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِي﴾ [ يوسف : ١٠٨ ]
“বল, এটিই আমার পথ। সুস্পষ্ট জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি আমি এবং আমার যারা অনুসারী।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮]
এ সুস্পষ্ট জ্ঞান হলো, ওহী নির্ভর জ্ঞান বা কুরআন ও হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশনা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿قُلۡ إِنَّمَآ أُنذِرُكُم بِٱلۡوَحۡيِۚ وَلَا يَسۡمَعُ ٱلصُّمُّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا مَا يُنذَرُونَ ٤٥﴾ [ الانبياء : ٤٥ ]
“বল আমি তো শুধু ওহীর ভিত্তিতেই তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করছি।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৪৫]
সূরা আহকাফের ৯ নম্বর আয়াত ও অন্যান্য স্থানে একই কথা বলা হয়েছে। এজন্য দা‘ওয়াতের দায়িত্ব পালনকারীকে কুরআন ও হাদীসের আলোকে স্পষ্টরূপে জানতে হবে, যে কাজ করতে বা বর্জন করতে তিনি দা‘ওয়াত দিচ্ছেন তার শর‘ঈ বিধান কি এবং তা পালন-বর্জনের দা‘ওয়াতের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিখানো পদ্ধতি কী? কাজটি সৎকর্ম হলে তা ফরয, ওয়াজিব, মুস্তাহাব ইত্যাদি কোন পর্যায়ের তা স্পষ্ট কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানতে হবে। ওহীর স্পষ্ট নির্দেশনা ব্যতীত সাধারণ ধারণা, আবেগ আন্দাজ ইত্যাদির ভিত্তিতে কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম বলতে কুরআনুল কারীমে নিষেধ করা হয়েছে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে:
﴿وَلَا تَقُولُواْ لِمَا تَصِفُ أَلۡسِنَتُكُمُ ٱلۡكَذِبَ هَٰذَا حَلَٰلٞ وَهَٰذَا حَرَامٞ لِّتَفۡتَرُواْ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَفۡتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَ لَا يُفۡلِحُونَ ١١٦﴾ [ النحل : ١١٦ ]
“তোমাদের জিহ্বা দ্বারা মিথ্যা আরোপ করে (মনগড়াভাবে) বলবে না যে, এটি হালাল ও এটি হারাম। এভাবে আল্লাহর নামে মিথ্যা উদ্ভাবন করা হবে। যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা সফল হয় না।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১১৬]
দা‘ঈ ও মুবাল্লিগকে অবশ্যই সর্বদা বেশি বেশি কুরআন ও হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, ও অন্যান্য ইসলামি গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে হবে। কুরআন-হাদীস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আলিমদের রচিত গ্রন্থাদি পড়ে দীনকে জানার চেষ্টা করা কঠিন অন্যায় এবং কুরআন হাদীসের প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন। মহান আল্লাহ কুরআনকে সকল মানুষের হিদায়াতরূপে প্রেরণ করেছেন। তিনি তা বুঝা সহজ করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের জন্য তাঁর মহান সুন্নাত ও হাদীস রেখে গেছেন। এগুলোর সার্বক্ষণিক অধ্যায়ন মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত, শ্রেষ্ঠতম যিকির ও দা‘ওয়াতের প্রধান হাতিয়ার।
﴿قُلۡ هَٰذِهِۦ سَبِيلِيٓ أَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا۠ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِي﴾ [ يوسف : ١٠٨ ]
“বল, এটিই আমার পথ। সুস্পষ্ট জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি আমি এবং আমার যারা অনুসারী।” [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮]
এ সুস্পষ্ট জ্ঞান হলো, ওহী নির্ভর জ্ঞান বা কুরআন ও হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশনা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿قُلۡ إِنَّمَآ أُنذِرُكُم بِٱلۡوَحۡيِۚ وَلَا يَسۡمَعُ ٱلصُّمُّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا مَا يُنذَرُونَ ٤٥﴾ [ الانبياء : ٤٥ ]
“বল আমি তো শুধু ওহীর ভিত্তিতেই তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করছি।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৪৫]
সূরা আহকাফের ৯ নম্বর আয়াত ও অন্যান্য স্থানে একই কথা বলা হয়েছে। এজন্য দা‘ওয়াতের দায়িত্ব পালনকারীকে কুরআন ও হাদীসের আলোকে স্পষ্টরূপে জানতে হবে, যে কাজ করতে বা বর্জন করতে তিনি দা‘ওয়াত দিচ্ছেন তার শর‘ঈ বিধান কি এবং তা পালন-বর্জনের দা‘ওয়াতের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিখানো পদ্ধতি কী? কাজটি সৎকর্ম হলে তা ফরয, ওয়াজিব, মুস্তাহাব ইত্যাদি কোন পর্যায়ের তা স্পষ্ট কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানতে হবে। ওহীর স্পষ্ট নির্দেশনা ব্যতীত সাধারণ ধারণা, আবেগ আন্দাজ ইত্যাদির ভিত্তিতে কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম বলতে কুরআনুল কারীমে নিষেধ করা হয়েছে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে:
﴿وَلَا تَقُولُواْ لِمَا تَصِفُ أَلۡسِنَتُكُمُ ٱلۡكَذِبَ هَٰذَا حَلَٰلٞ وَهَٰذَا حَرَامٞ لِّتَفۡتَرُواْ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَفۡتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَ لَا يُفۡلِحُونَ ١١٦﴾ [ النحل : ١١٦ ]
“তোমাদের জিহ্বা দ্বারা মিথ্যা আরোপ করে (মনগড়াভাবে) বলবে না যে, এটি হালাল ও এটি হারাম। এভাবে আল্লাহর নামে মিথ্যা উদ্ভাবন করা হবে। যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা সফল হয় না।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১১৬]
দা‘ঈ ও মুবাল্লিগকে অবশ্যই সর্বদা বেশি বেশি কুরআন ও হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, ও অন্যান্য ইসলামি গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে হবে। কুরআন-হাদীস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আলিমদের রচিত গ্রন্থাদি পড়ে দীনকে জানার চেষ্টা করা কঠিন অন্যায় এবং কুরআন হাদীসের প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন। মহান আল্লাহ কুরআনকে সকল মানুষের হিদায়াতরূপে প্রেরণ করেছেন। তিনি তা বুঝা সহজ করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের জন্য তাঁর মহান সুন্নাত ও হাদীস রেখে গেছেন। এগুলোর সার্বক্ষণিক অধ্যায়ন মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত, শ্রেষ্ঠতম যিকির ও দা‘ওয়াতের প্রধান হাতিয়ার।