hadith book logo

ইসলামী দাওয়াহ প্রসারে গণমাধ্যমের অবদান

লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

সাত. হজ্জের মৌসূম

হজ্জ বিশ্ব মুসলিমের এক মহা সম্মিলন। এতে অসংখ্য লোক একটি নির্দিষ্ট সময়ে কা‘বা সম্মুখে, হারাম এলাকা ও মক্কার বিভিন্ন স্থানে একত্রিত হয়। যুগ যুগ ধরে মানুষ মক্কার কা‘বা ঘরকে সম্মান করতো। ইব্রাহিম ‘আলাইহিস সালাম ও ইসমাঈল ‘আলাইহিস সালামের ধর্মের অনুসারী হিসেবে এ ঘরের তাওয়াফ করার জন্য জমায়েত হতো। মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামী দা‘ওয়াহ প্রচারের জন্য এ সময়কে সর্বোচ্চ সুযোগ হিসেবে বেছে নিতেন। প্রত্যেক বছর তিনি আলাদাভাবে হজ্জের সময় আগত লোকদের তাঁবু পরিদর্শন করতেন। তিনি তাদের নিকট আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতেন। এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনা, আকাবা ও মক্কার সকল স্থানে সমাগত লোকদের মাঝে গমন করতেন। তখন অধিকাংশ সময় দেখা যেত যে, তার কোনো সাহায্যকারী নেই, না আছে তার কোনো দা‘ওয়াত গ্রহণকারী। হজ্বের মওসুমে কখনও কখনও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আবু বকর (রা.), আলী (রা.) ও তাঁর চাচা আব্বাস (রা.) উপস্থিত থাকতেন। তারা সমাগত লোকদের নিকট পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দা‘ওয়াতের সময় তারা বিভিন্ন বংশের লোকদের সাথে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দা‘ওয়াতের পাশাপাশি মক্কার যুবকগণ সমাগত গোত্রসমূহের নিকট গিয়ে রাসূলের কথা শুনতে বারণ করত। তারা বলতো: মুহাম্মদ আমাদের পিতৃপুরুষদের ইলাহের বিরোধিতা করছে। সে আসলে একজন গণক। তার কাজ আমাদের মধ্যে পিতা-পুত্রে বিরোধ ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করা। [.ইবন্ কাছির, আল্-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪০৫ হি.) ১ম খন্ড, পৃ. ১৪৬।]

হজ্বের মৌসুমে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ দশ বছর যাবৎ আরবের বিভিন্ন গোত্রের নিকট ইসলামের দা‘ওয়াত দিয়েছেন। যেসব গোত্রগুলো আরবের সর্বত্র বিদ্যমান ছিল। যেমন: নাজদ, হিযায, ওয়াদিউল কুরা, তায়েফ, আল-ইয়ামামাহ্, হাদরামাউত। তেমনি সিরিয়া, ইরাক ও মিসর থেকে আগত লোকদের নিকটও দা‘ওয়াত পৌঁছে যায়। যেসব গোত্রের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দা‘ওয়াত দেন সেসব গোত্র হলো:

বনু আমের, বনু খছফা, কুদ্বা‘আ, গাচ্ছান, মারাহ, হানীফা, সালিম, আব্বাস, বনু নসর প্রমুখ। এভাবে তিনি মোট ১৭ গোত্রের নিকট দা‘ওয়াত পৌঁছিয়েছেন। [.ইবন্ হিশাম, সীরাত, (কায়রো: মাকতাবাতু কুল্লিয়াতুল আযহারীয়্যাহ), তা. বি. পৃ. ৩৭।]

হজ্বের মৌসুমে দা‘ওয়াতের কারণে মদিনার আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয় ‘আকাবা নামক স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বাই‘আত গ্রহণ করে। প্রথম বাইয়াতের বিষয়বস্তু ছিল: ইসলামের প্রাথমিক ইবাদতসমূহ নিয়মিত আদায় করা, দ্বিতীয় বাই‘আত ছিল, যারা দীন প্রচারের পথে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে এবং সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিজরত ও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত ছিল। [.ড. মো. আবুল কালাম পাটওয়ারী, রাসূল (সা.)-এর দাওয়াতের পদ্ধতি ও মাধ্যম, কুষ্টিয়া: আব্দুল্লাহ সায়েম, প্রথম প্রকাশ ২০০২, পৃ. ৩৮।]