hadith book logo

ইসলামী দাওয়াহ প্রসারে গণমাধ্যমের অবদান

লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

ছয়: খুৎবা বা ভাষণদান

ইসলামী দা‘ওয়াহ সম্প্রসারণে খুতবা একটি কার্যকরী মাধ্যম। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে ভাষণ দেয়ার জন্য দণ্ডায়মান হতেন। সর্ব সাধারণের নিকট ইসলামের বাণী প্রচারের এটি অন্যতম মাধ্যম। যেহেতু এ কাজটি সম্পন্ন করা অত্যাবশ্যক। সেহেতু নবী-রাসূলগণের অন্যতম দায়িত্ব ছিল দীনের প্রচার ও প্রসার। এ মর্মে কুরআনে এসেছে,

﴿ وَمَا عَلَيۡنَآ إِلَّا ٱلۡبَلَٰغُ ٱلۡمُبِينُ ١٧ ﴾ [ يس : ١٧ ]

‘‘আর স্পষ্টভাবে প্রচার করাই আমাদের দায়িত্ব।’’ [.সূরা ইয়াসিন : ১৭।]

ইসলামের প্রাথমিক যুগে খুতবার ভূমিকা অপরিসীম। প্রকাশ্যে দা‘ওয়াত শুরু হওয়ার পর থেকে নবী-করিম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন প্রতিনিধিদল, সৈন্যবাহিনী আগন্তুক, সকলের কাছে কল্যাণের দা‘ওয়াত, দীন গ্রহণের আহবান ও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের দা‘ওয়াত দেয়ার জন্য খুতবা দিতেন। এছাড়াও প্রত্যেক সপ্তাহে জুম‘আর দিন, দুই ঈদের দিন ও হজ্জের সময়কার তাঁর ভাষণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এসব খুতবায় দীনী বিষয়ের পাশাপাশি দুনিয়ায় মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ, সমস্যা সমাধান ও দীনের মূলনীতির আলোচনা স্থান পেত। [.মুহাম্মদ আল্-গাযালী, মা‘আল্লাহ (কায়রো: মাতবা‘আ হাসান, চতুর্থ সংস্করণ, ১৩৯৬ হি.) পৃ. ৩০৬।]

পরবর্তীতে আলিমগণ এসব খুতবাকে ওয়ায অর্থে বুঝিয়ে থাকেন। ইসলাম মানব জীবনের এক পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। সে লক্ষ্যে ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিভাগসহ মানুষের পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সকল বিষয়ের নির্দেশনা এসব খুতবার বিদ্যমান থাকে।

ড. আহমদ গালূশ বলেন, দাঈগণ আজকের দিনে ওয়ায করেন, দীনের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তৃতা দ্বারা মানুষকে সুসংবাদ দেন, চরিত্র সম্পর্কে বর্ণনা করেন অথবা ইবাদত ও শরী‘আতের মূলনীতি শিক্ষা দেন। বিচার-ফয়সালামূলক, রাজনৈতিক ও যুদ্ধ বিষয়ক বক্তব্য না দিয়ে তা আইনজীবি, নেতৃবৃন্দ ও সামরিক ব্যক্তিদের জন্য রেখে দেন। [.ড. আহমদ আহমদ গালূশ, কাওয়ায়েদুল খুতবাহ ওয়া ফিকহিল জুম‘আ ওয়াল ঈদাঈন (কায়রো: দারুল বায়ান, ১ম সংস্করণ ১৩৯৯) পৃ. ১৩।] এমনিভাবে হজ্জের সময় তিনি আবু কুবাইস পাহাড়ের উপর দাঁড়াতেন এবং ভাষণ দিতেন। এক্ষেত্রে বিদায় হজ্বের ভাষণটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।