১
ইসলামী দাওয়াহ প্রসারে গণমাধ্যমের অবদান
লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪
খ. নাসারাদের সাথে ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্ক
নাসারাদের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদীদের তুলনায় স্বল্প পরিামাণ ধর্মীয় বিতর্ক করেছেন। কারণ তারা মূলতঃ মদীনা থেকে দূরে অবস্থান করত। ফলে মুসলিমদের সাথে তাদের খুব কম সাক্ষাত হতো। তারপরও যখনি কোন প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করত তখনি তারা ধর্মীয় বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হত। এক্ষেত্রে হাবশা ও নাজরানের নাসারাদের দৃষ্টান্ত উল্লখ করা যেতে পারে।
সীরাতে ইবন্ হিশামে এ জাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সংলাপ এসেছে। যার বিষয়বস্তু হলোঃ নাসারাগণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে ঈসা ইবন্ মারইয়াম সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করল। তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈসা আলাইহিসসালামের পিতা সম্পর্কে প্রশ্ন করল এবং তারা আল্লাহ্ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার অপবাদ ও মিথ্যা বলে বেড়াতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লম তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ ‘তোমরা জান যে, যত সন্তানই আছে তারা তাদের পিতার সদৃশ হয়? তারা বললঃ অবশ্যই । তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, আমাদের প্রভুর চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই? অথচ ঈসার অস্তিত্ব বিলীন হবে? তখন তারা বললঃ অবশ্যই। তিনি আরো বললেনঃ আমাদের রব সবকিছুর ধারক-বাহক, তিনি সবকিছুর সংরক্ষণ করেন ও রিযক দিয়ে থাকেন? তারা বললঃ নিশ্চয়ই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে ঈসা ইবন্ মারঈয়াম কি এগুলোর কোন কিছু করতে সক্ষম? তখন তারা বললঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, আসমান ও যমীনের কোন সৃষ্টিই তাঁর কাছে গোপন নেই? তারা বললঃ নিশ্চয়ই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার প্রভু ঈসাকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে রেহেমের মধ্যে আকৃতি দান করেছেন। তিনি আরো বললেনঃ আর আমার প্রতিপালক খানা-পিনা করেন না এবং কোন অপবিত্র কাজও ঘটান না? তখন তারা বললঃ নিশ্চয়ই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, অন্যান্য মহিলাদের মত ঈসাও মায়ের গর্ভে লালিত-পালিত হয়েছেন? তারপর অন্যান্য মহিলারা যেভাবে বাচ্ছা প্রসব করে তার মাও তাকে সেভাবে প্রসব করেছেন এবং অন্যান্য বাচ্ছাদের মত তাকেও খাওয়ানো হয়েছে। তারপর তিনি খাবারও খেয়েছেন, পানও করেছেন এবং অপবিত্রও হয়েছেন? তারা বললঃ অবশ্যই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তোমরা যা ধারনা করছ তা কিভাবে সম্ভব হতে পারে? এরপর তাদের সবাই চুপ হয়ে গেল। এ পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথম থেকে আশির অধিক আয়াত নাযিল হয়। [.ওয়াহেদী, আবুল হাসান আলী, আসবাবু নুযুলিল কুরআন, (সৌদী আরব, দারুল কিবলাহ, ১৪০৪ হি.) পৃ.৯০-৯১।]
সীরাতে ইবন্ হিশামে এ জাতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সংলাপ এসেছে। যার বিষয়বস্তু হলোঃ নাসারাগণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে ঈসা ইবন্ মারইয়াম সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করল। তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈসা আলাইহিসসালামের পিতা সম্পর্কে প্রশ্ন করল এবং তারা আল্লাহ্ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার অপবাদ ও মিথ্যা বলে বেড়াতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লম তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ ‘তোমরা জান যে, যত সন্তানই আছে তারা তাদের পিতার সদৃশ হয়? তারা বললঃ অবশ্যই । তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, আমাদের প্রভুর চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই? অথচ ঈসার অস্তিত্ব বিলীন হবে? তখন তারা বললঃ অবশ্যই। তিনি আরো বললেনঃ আমাদের রব সবকিছুর ধারক-বাহক, তিনি সবকিছুর সংরক্ষণ করেন ও রিযক দিয়ে থাকেন? তারা বললঃ নিশ্চয়ই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে ঈসা ইবন্ মারঈয়াম কি এগুলোর কোন কিছু করতে সক্ষম? তখন তারা বললঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, আসমান ও যমীনের কোন সৃষ্টিই তাঁর কাছে গোপন নেই? তারা বললঃ নিশ্চয়ই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার প্রভু ঈসাকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে রেহেমের মধ্যে আকৃতি দান করেছেন। তিনি আরো বললেনঃ আর আমার প্রতিপালক খানা-পিনা করেন না এবং কোন অপবিত্র কাজও ঘটান না? তখন তারা বললঃ নিশ্চয়ই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জান না যে, অন্যান্য মহিলাদের মত ঈসাও মায়ের গর্ভে লালিত-পালিত হয়েছেন? তারপর অন্যান্য মহিলারা যেভাবে বাচ্ছা প্রসব করে তার মাও তাকে সেভাবে প্রসব করেছেন এবং অন্যান্য বাচ্ছাদের মত তাকেও খাওয়ানো হয়েছে। তারপর তিনি খাবারও খেয়েছেন, পানও করেছেন এবং অপবিত্রও হয়েছেন? তারা বললঃ অবশ্যই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তোমরা যা ধারনা করছ তা কিভাবে সম্ভব হতে পারে? এরপর তাদের সবাই চুপ হয়ে গেল। এ পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথম থেকে আশির অধিক আয়াত নাযিল হয়। [.ওয়াহেদী, আবুল হাসান আলী, আসবাবু নুযুলিল কুরআন, (সৌদী আরব, দারুল কিবলাহ, ১৪০৪ হি.) পৃ.৯০-৯১।]