১
ইসলামী দাওয়াহ প্রসারে গণমাধ্যমের অবদান
লেখকঃ ড. মো: আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
আট. বিভিন্ন স্থানে পত্র ও দূত প্রেরণ
হুদায়বিয়ার সন্ধির অব্যাহতির পরেই ইসলামের দা‘ওয়াতকে বহিঃর্বিশ্বে পৌঁছানোর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাষ্ট্রপ্রধানদের নিকট দূত মারফত চিঠি প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিলেন। সেলক্ষ্যে তিনি সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ করে আটজন সাহাবীকে দূত হিসেবে প্রেরণের জন্য মনোনীত করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে সেখানকার জনসাধারণের নিকট দা‘ওয়াত না দিয়ে শুধু রাষ্ট্র প্রধানদের নিকট দা‘ওয়াত পাঠিয়েছিলেন।
এখানে তাঁর দূরদর্শীতার প্রমাণ মিলে। কেননা কোন জাতির রাষ্ট্রপ্রধান যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে সে জাতির লোকজন তাড়াতাড়ি ইসলাম গ্রহণ করবে। সেজন্য তিনি প্রথমে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহের প্রধানদের কাছে ইসলামের দা‘ওয়াত প্রদান করেন। নিম্নে দূতগণ ও রাষ্ট্রপ্রধানের নাম প্রদত্ত হলো:
আমর ইবন উমাইয়্যা আদ্দামেরীকে আবিসিনিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান নেগাম এর কাছে।
‘আলা ইবন আল হাদরামীকে হিজরের রাজার নিকট।
হাতিব ইবন আবি বালতা‘আকে মিশরের রাজা মুকাওকিস-এর নিকট।
দিহইয়া ইবন খলীফা আল কালবীকে বাইজান্টাইনের শাসনকর্তা হিরাক্লিয়াসের কাছে।
আব্দুলাহ ইবন হুযায়ফা আল সামীকে ইরানের রাজা খসরু পারভেজ এর নিকট।
সূজা ইবন ওহাব কে গাসসানের রাজা হারিস-এর কাছে।
‘আমর ইবন আল ‘আসকে আম্মানের শাসক জেইফার নিকট।
সালিত ইবন আমরকে ইয়ামামার প্রধান হাওজা ইবন আলী এবং ছুমামা ইবন আছাল এর নিকট পাঠান। [.ইবন হিশাম, প্রাগুক্ত, অনু: ঢাকা: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ১৩ সংস্করণ, ২০০৭, পৃ. ৩৩৮।]
এসব পত্রে প্রায় একই ধরনের বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছিল। যেমন হিরাক্লিয়াসকে লক্ষ্য করে তিনি লিখেছেন,
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم - من مُحَمَّد رَسُول الله إِلَى هِرقل عَظِيم الرّوم سَلام على من اتبع الْهدى - أما بعد فَإِنِّي أَدْعُوك بِدِعَايَةِ الْإِسْلَام - أسلم تسلم - أسلم يؤتك الله أجرك مرَّتَيْنِ فَإِن توليت فَإِن عَلَيْك إِثْم الأريسين { يَا أهل الْكتاب تَعَالَوْا إِلَى كلمة سواءٍ بَيْننَا وَبَيْنكُم أَلا نعْبد إِلَّا الله وَلَا نشْرك بِهِ شَيْئا } إِلَى قَوْله { اشْهَدُوا بِأَنا مُسلمُونَ }
‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’’ আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে রোমের প্রধান হিরাক্লিয়াস সমীপে, হেদায়াত অনুসরণকারীদের প্রতি সালাম। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের দিকে আহবান করছি। ইসলাম গ্রহণ করুন। সকল প্রকার অকল্যাণ থেকে মুক্ত থাকুন। আল্লাহ্ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার প্রদান করবেন। (অর্থাৎ ঈসা ‘আলাইহিস সালাম ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমানের কারণে)। যদি আপনি এতে অসম্মত হন, তবে আপনার প্রজাদের পাপের জন্য আপনি দায়ী থাকবেন। হে আহলে কিতাব! এমন সত্যের দিকে আস যার সত্যতা আমাদের ও তোমাদের নিকট সমভাবে স্বীকৃত। তা হলো: আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবো না। তাঁর সাথে কাকেও শরীক করবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত আমাদের মধ্যে কোনো মানুষ অন্য মানুষকে প্রভূ বানিয়ে নিবে না। যদি তোমরা অমান্য কর, তবে সাক্ষী থাক আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি আমরা মুসলিম।’’ [.জালালউদ্দীন আস-সূয়ূতী, আবু আলী, আদ্-দুররুল মানসূর ফিত্ তাফসীর বিল মা’সূর, ২য় খন্ড, পৃ. ২৩৪।]
আলোচ্য চিঠিতে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটে উঠে:
এক. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র বিশ্বের নবী। তাঁর রিসালাত সার্বজনীন।
দুই. ইসলাম প্রচারের অন্যতম মাধ্যম পত্র প্রেরণ ও দূত পাঠানো।
তিন. চিঠিতে তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্রাটদের যথাযথ মর্যাদা রক্ষার প্রতি দৃষ্টি দেন এবং এর দ্বারা তারা ইসলাম গ্রহণ করলেও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব হারাবে না তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদেরকে তা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
চার. যেসব সম্রাট আহলে কিতাব তাদের সাথে ইসলামের তাওহীদের এক সুসম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর তাওহীদে অবিশ্বাসী হলে তাদেরকে আল্লাহ ব্যতীত সকল কিছুর ইবাদত পরিত্যাগ করার আহবান জানান।
পাঁচ. পত্রের মাধ্যমে প্রজাদের দীন গ্রহণে অনগ্রসরতার অপরাধে রাজাদের অপরাধী হওয়ার বিষয়ে তাদের সচেতন করেন।
সবশেষে চিঠি প্রেরণ ইসলামী দা‘ওয়াতের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। চিঠি ছাড়াও আজকাল অনেক যোগাযোগের মাধ্যম আবিস্কৃত হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ইসলামী দা‘ওয়াত সম্প্রসারণ করা অতীব সহজ।
এখানে তাঁর দূরদর্শীতার প্রমাণ মিলে। কেননা কোন জাতির রাষ্ট্রপ্রধান যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে সে জাতির লোকজন তাড়াতাড়ি ইসলাম গ্রহণ করবে। সেজন্য তিনি প্রথমে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহের প্রধানদের কাছে ইসলামের দা‘ওয়াত প্রদান করেন। নিম্নে দূতগণ ও রাষ্ট্রপ্রধানের নাম প্রদত্ত হলো:
আমর ইবন উমাইয়্যা আদ্দামেরীকে আবিসিনিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান নেগাম এর কাছে।
‘আলা ইবন আল হাদরামীকে হিজরের রাজার নিকট।
হাতিব ইবন আবি বালতা‘আকে মিশরের রাজা মুকাওকিস-এর নিকট।
দিহইয়া ইবন খলীফা আল কালবীকে বাইজান্টাইনের শাসনকর্তা হিরাক্লিয়াসের কাছে।
আব্দুলাহ ইবন হুযায়ফা আল সামীকে ইরানের রাজা খসরু পারভেজ এর নিকট।
সূজা ইবন ওহাব কে গাসসানের রাজা হারিস-এর কাছে।
‘আমর ইবন আল ‘আসকে আম্মানের শাসক জেইফার নিকট।
সালিত ইবন আমরকে ইয়ামামার প্রধান হাওজা ইবন আলী এবং ছুমামা ইবন আছাল এর নিকট পাঠান। [.ইবন হিশাম, প্রাগুক্ত, অনু: ঢাকা: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ১৩ সংস্করণ, ২০০৭, পৃ. ৩৩৮।]
এসব পত্রে প্রায় একই ধরনের বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছিল। যেমন হিরাক্লিয়াসকে লক্ষ্য করে তিনি লিখেছেন,
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم - من مُحَمَّد رَسُول الله إِلَى هِرقل عَظِيم الرّوم سَلام على من اتبع الْهدى - أما بعد فَإِنِّي أَدْعُوك بِدِعَايَةِ الْإِسْلَام - أسلم تسلم - أسلم يؤتك الله أجرك مرَّتَيْنِ فَإِن توليت فَإِن عَلَيْك إِثْم الأريسين { يَا أهل الْكتاب تَعَالَوْا إِلَى كلمة سواءٍ بَيْننَا وَبَيْنكُم أَلا نعْبد إِلَّا الله وَلَا نشْرك بِهِ شَيْئا } إِلَى قَوْله { اشْهَدُوا بِأَنا مُسلمُونَ }
‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’’ আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে রোমের প্রধান হিরাক্লিয়াস সমীপে, হেদায়াত অনুসরণকারীদের প্রতি সালাম। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের দিকে আহবান করছি। ইসলাম গ্রহণ করুন। সকল প্রকার অকল্যাণ থেকে মুক্ত থাকুন। আল্লাহ্ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার প্রদান করবেন। (অর্থাৎ ঈসা ‘আলাইহিস সালাম ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমানের কারণে)। যদি আপনি এতে অসম্মত হন, তবে আপনার প্রজাদের পাপের জন্য আপনি দায়ী থাকবেন। হে আহলে কিতাব! এমন সত্যের দিকে আস যার সত্যতা আমাদের ও তোমাদের নিকট সমভাবে স্বীকৃত। তা হলো: আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবো না। তাঁর সাথে কাকেও শরীক করবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত আমাদের মধ্যে কোনো মানুষ অন্য মানুষকে প্রভূ বানিয়ে নিবে না। যদি তোমরা অমান্য কর, তবে সাক্ষী থাক আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি আমরা মুসলিম।’’ [.জালালউদ্দীন আস-সূয়ূতী, আবু আলী, আদ্-দুররুল মানসূর ফিত্ তাফসীর বিল মা’সূর, ২য় খন্ড, পৃ. ২৩৪।]
আলোচ্য চিঠিতে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটে উঠে:
এক. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র বিশ্বের নবী। তাঁর রিসালাত সার্বজনীন।
দুই. ইসলাম প্রচারের অন্যতম মাধ্যম পত্র প্রেরণ ও দূত পাঠানো।
তিন. চিঠিতে তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্রাটদের যথাযথ মর্যাদা রক্ষার প্রতি দৃষ্টি দেন এবং এর দ্বারা তারা ইসলাম গ্রহণ করলেও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব হারাবে না তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদেরকে তা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
চার. যেসব সম্রাট আহলে কিতাব তাদের সাথে ইসলামের তাওহীদের এক সুসম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর তাওহীদে অবিশ্বাসী হলে তাদেরকে আল্লাহ ব্যতীত সকল কিছুর ইবাদত পরিত্যাগ করার আহবান জানান।
পাঁচ. পত্রের মাধ্যমে প্রজাদের দীন গ্রহণে অনগ্রসরতার অপরাধে রাজাদের অপরাধী হওয়ার বিষয়ে তাদের সচেতন করেন।
সবশেষে চিঠি প্রেরণ ইসলামী দা‘ওয়াতের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। চিঠি ছাড়াও আজকাল অনেক যোগাযোগের মাধ্যম আবিস্কৃত হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ইসলামী দা‘ওয়াত সম্প্রসারণ করা অতীব সহজ।