hadith book logo

উপদেশতত্ত্ব

লেখকঃ আকীল ইবন মুহাম্মাদ আল-মাকতিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

পদমর্যাদা বিবেচ্য বিষয় নয়:

হাফেয ইবন রজব ‘আল-ফারকু বাইনান নসিহাতে ওয়াত তা‘য়ীর’ নামক গ্রন্থের ৩৪ পৃষ্ঠায় বলেন, কোনো ব্যক্তির নসীহতের অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে শুধু সত্য প্রকাশ করা এবং কোনো ভুল বক্তব্যের মাধ্যমে যাতে জনগণ প্রতারিত না হয়, তবে সে তার সৎ উদ্দেশ্যের কারণে নিঃসন্দেহে সওয়াবের অধিকারী হবে এবং সে তার এই কাজ ও নিয়তের দ্বারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সমস্ত মুসলিমের কল্যাণকামী বলে বিবেচিত হবে। চাই সে ছোট অথবা বড় যে কোনো ধরণের ভুল করুক না কেন। তার জন্য আলিমদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আদর্শ হতে পারে, যিনি মুত‘আ বিবাহ, দুই ওমরার বিধান ইত্যাদি বিষয়ে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার একক মতামত বা বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং কোনো কোনো আলিম তার প্রতিবাদও করেছেন।

তার জন্য ঐ ব্যক্তিও আদর্শ হতে পারে, যিনি সা‘ঈদ ইবন মুসাইয়েবের শুধু আকদের দ্বারা তিন তালাকপ্রাপ্তা নারী হালাল হওয়া সংক্রান্ত স্পষ্ট সুন্নাত পরিপন্থী মতামতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যিনি হাসান বসরীর ‘স্বামী মারা যাওয়া স্ত্রীর ক্ষৌরকর্ম না করা’র মতামতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যিনি যৌনাঙ্গ ধার দেওয়ার বৈধতা সংক্রান্ত আতা’র মতামতের সমালোচনা করেছেন। আরও সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মাসআলার ক্ষেত্রে তাউস রহ. সহ অন্যান্যদের, যাদের হেদায়েত, প্রজ্ঞা, আন্তরিকতা ও প্রশংসায় মুসলিম সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ। এসব মাসাআলার বিরোধিতাকারীদের মধ্যে এমন একজনও পাওয়া যাবে না, যিনি ঐসব ইমামদেরকে অপবাদ দিয়েছেন বা কোনোরূপ দোষারোপ করেছেন। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মুসলিম ইমামগণের কিতাবসমূহ এসব মতামতের আলোচনা-সমালোচনায় ভরপুর হয়ে আছে। যেমন ইমাম শাফেঈ, ইসহাক, আবু উবাইদ, আবু সওরসহ তৎপরবর্তী হাদীস, ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের ইমামদের কিতাবসমূহ। তাদের কেউ কেউ এসব বক্তব্য ও মতামতের ব্যাপক আলোচনা করেছেন, এখানে তার হুবহু আলোচনা করলে বিষয়টি অনেক বিস্তারিত হয়ে যাবে।