১
উপদেশতত্ত্ব
লেখকঃ আকীল ইবন মুহাম্মাদ আল-মাকতিরী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
নসীহত প্রসঙ্গে বর্ণিত আয়াতসমূহ
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী নূহ ‘আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি তাঁর জাতির উদ্দেশ্যে বলেন,
﴿أُبَلِّغُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَأَنصَحُ لَكُمۡ وَأَعۡلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ ٦٢﴾ [ الاعراف : ٦٢ ]
“আমার রবের বাণী আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাচ্ছি ও তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিচ্ছি। আর তোমরা যা জান না, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৬২]
আর হুদ ‘আলাইহিস সালাম জাতির উদ্দেশ্যে বলেন,
﴿أُبَلِّغُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَأَنَا۠ لَكُمۡ نَاصِحٌ أَمِينٌ ٦٨﴾ [ الاعراف : ٦٨ ]
“আমার রবের বাণী আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাচ্ছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৬৮]
সালেহ ‘আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী বর্ণনায় আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَتَوَلَّىٰ عَنۡهُمۡ وَقَالَ يَٰقَوۡمِ لَقَدۡ أَبۡلَغۡتُكُمۡ رِسَالَةَ رَبِّي وَنَصَحۡتُ لَكُمۡ وَلَٰكِن لَّا تُحِبُّونَ ٱلنَّٰصِحِينَ ٧٩﴾ [ الاعراف : ٧٩ ]
“অতঃপর সে তাদের নিকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার রবের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছায়েছিলাম এবং তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তোমারা তো হিতোপদেশ দানকারীদেরকে পছন্দ কর না।”—[সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৭৯]
শু‘আইব ‘আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী বর্ণনায় আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَتَوَلَّىٰ عَنۡهُمۡ وَقَالَ يَٰقَوۡمِ لَقَدۡ أَبۡلَغۡتُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَنَصَحۡتُ لَكُمۡۖ فَكَيۡفَ ءَاسَىٰ عَلَىٰ قَوۡمٖ كَٰفِرِينَ ٩٣﴾ [ الاعراف : ٩٣ ]
“অতঃপর সে তাদের নিকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার রবের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছি এবং তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিয়েছি। সুতরাং আমি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য কি করে আক্ষেপ করি।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৯৩]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿لَّيۡسَ عَلَى ٱلضُّعَفَآءِ وَلَا عَلَى ٱلۡمَرۡضَىٰ وَلَا عَلَى ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُواْ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ﴾ [ التوبة : ٩١ ]
“যারা দুর্বল, যারা অসুস্থ এবং যারা অর্থ সাহায্যে অসমর্থ, তাদের কোনো অপরাধ নেই, যদি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি তাদের অবিমিশ্র অনুরাগ থাকে।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৯১]
হাফেয ইবন রজব (জামি‘উল ‘উলুম ওয়াল হিকাম গ্রন্থে/পৃ. ৭৪) বলেন, যে ব্যক্তি ওযরের কারণে জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে পিছিয়ে থাকে এবং এ পিছিয়ে থাকাটা যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অনুরাগ ও আন্তরিকতাসহ হয়ে থাকে, তবে তা তার জন্য দোষণীয় হবে না। কারণ, মুনাফিকরা মিথ্যা ওজর-আপত্তি প্রকাশ করত এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ছাড়াই জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে পিছিয়ে থাকত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দীন হচ্ছে (জনগণের) কল্যাণ কামনা করা।” এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে, নসীহত এমন বিষয়, যা হাদীসে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম-এর মধ্যে আলোচিত ইসলাম, ঈমান ও ইহসানের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এগুলোকেই দীন হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ, আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা থাকলেই তাঁর অর্পিত ওয়াজিব দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে আদায় করার দাবি রাখে। আর এটাই হচ্ছে ইহসানের স্তর। সুতরাং ইহসান ব্যতীত আল্লাহ প্রেমের পরিপূর্ণতা হবে না। আর পরিপূর্ণ মহব্বত ব্যতীত এটাও (ইহসানও) সহজ হবে না। তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য ইহসানের ভিত্তিতে যাবতীয় নফল আনুগত্য তথা ইবাদত করা এবং হারাম ও মাকরূহ কাজ-কর্ম পরিত্যাগ করার জন্য চেষ্টা-সাধনা করা একান্ত জরুরি।
﴿أُبَلِّغُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَأَنصَحُ لَكُمۡ وَأَعۡلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ ٦٢﴾ [ الاعراف : ٦٢ ]
“আমার রবের বাণী আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাচ্ছি ও তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিচ্ছি। আর তোমরা যা জান না, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৬২]
আর হুদ ‘আলাইহিস সালাম জাতির উদ্দেশ্যে বলেন,
﴿أُبَلِّغُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَأَنَا۠ لَكُمۡ نَاصِحٌ أَمِينٌ ٦٨﴾ [ الاعراف : ٦٨ ]
“আমার রবের বাণী আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাচ্ছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৬৮]
সালেহ ‘আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী বর্ণনায় আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَتَوَلَّىٰ عَنۡهُمۡ وَقَالَ يَٰقَوۡمِ لَقَدۡ أَبۡلَغۡتُكُمۡ رِسَالَةَ رَبِّي وَنَصَحۡتُ لَكُمۡ وَلَٰكِن لَّا تُحِبُّونَ ٱلنَّٰصِحِينَ ٧٩﴾ [ الاعراف : ٧٩ ]
“অতঃপর সে তাদের নিকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার রবের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছায়েছিলাম এবং তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তোমারা তো হিতোপদেশ দানকারীদেরকে পছন্দ কর না।”—[সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৭৯]
শু‘আইব ‘আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী বর্ণনায় আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَتَوَلَّىٰ عَنۡهُمۡ وَقَالَ يَٰقَوۡمِ لَقَدۡ أَبۡلَغۡتُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَنَصَحۡتُ لَكُمۡۖ فَكَيۡفَ ءَاسَىٰ عَلَىٰ قَوۡمٖ كَٰفِرِينَ ٩٣﴾ [ الاعراف : ٩٣ ]
“অতঃপর সে তাদের নিকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার রবের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছি এবং তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিয়েছি। সুতরাং আমি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য কি করে আক্ষেপ করি।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৯৩]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿لَّيۡسَ عَلَى ٱلضُّعَفَآءِ وَلَا عَلَى ٱلۡمَرۡضَىٰ وَلَا عَلَى ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُواْ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ﴾ [ التوبة : ٩١ ]
“যারা দুর্বল, যারা অসুস্থ এবং যারা অর্থ সাহায্যে অসমর্থ, তাদের কোনো অপরাধ নেই, যদি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি তাদের অবিমিশ্র অনুরাগ থাকে।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৯১]
হাফেয ইবন রজব (জামি‘উল ‘উলুম ওয়াল হিকাম গ্রন্থে/পৃ. ৭৪) বলেন, যে ব্যক্তি ওযরের কারণে জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে পিছিয়ে থাকে এবং এ পিছিয়ে থাকাটা যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অনুরাগ ও আন্তরিকতাসহ হয়ে থাকে, তবে তা তার জন্য দোষণীয় হবে না। কারণ, মুনাফিকরা মিথ্যা ওজর-আপত্তি প্রকাশ করত এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ছাড়াই জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে পিছিয়ে থাকত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দীন হচ্ছে (জনগণের) কল্যাণ কামনা করা।” এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে, নসীহত এমন বিষয়, যা হাদীসে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম-এর মধ্যে আলোচিত ইসলাম, ঈমান ও ইহসানের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এগুলোকেই দীন হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ, আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা থাকলেই তাঁর অর্পিত ওয়াজিব দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে আদায় করার দাবি রাখে। আর এটাই হচ্ছে ইহসানের স্তর। সুতরাং ইহসান ব্যতীত আল্লাহ প্রেমের পরিপূর্ণতা হবে না। আর পরিপূর্ণ মহব্বত ব্যতীত এটাও (ইহসানও) সহজ হবে না। তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য ইহসানের ভিত্তিতে যাবতীয় নফল আনুগত্য তথা ইবাদত করা এবং হারাম ও মাকরূহ কাজ-কর্ম পরিত্যাগ করার জন্য চেষ্টা-সাধনা করা একান্ত জরুরি।