hadith book logo

ইসলামি অর্থনীতি শান্তি ও সমৃদ্ধির অব্যর্থ ব্যবস্থা

লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

ষষ্ঠত : দুনিয়া উদ্দেশ্য নয় বিধেয় :

দুনিয়া কিংবা দুনিয়ার নেয়ামত-সম্পদ মানুষের আসল উদ্দেশ্য নয়; আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক মাত্র। আসল লক্ষ্য, ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে আখিরাতের জন্য প্রস্ত্তত করা। অতএব দুনিয়ার উপকরণ ও সম্পদ লাভ হলে যেন আমরা আসল উদ্দেশ্য বিস্মৃত না হই। দুনিয়া বা তার কোনো বস্ত্তকেই নিজের লক্ষ্য বানিয়ে না নিই। কারণ জুতোর রাখার উদ্দেশ্য তার মধ্যে মানুষের পা রাখা। সওয়ারি প্রাণী পোষার উদ্দেশ্য মানুষ তার পিঠে চড়বে আর সে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। তাই ফিকহে ইসলামি বা সুস্থ জ্ঞান- কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই মূল লক্ষ্য শুধুই জুতো সংগ্রহ কিংবা উদ্দেশ্যহীন নিছক ঘোড়া ক্রয় হতে পারে না। তেমনিভাবে একজন মুসলমানও পার্থিব উপকরণ ও সম্পদ উপার্জন-আহরণ করে কেবল মাধ্যম হিসেবে। যা তার সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য পূরণ সহজ করে। আর এ সব উপকরণ অচিরেই তার হাতছাড়া হয়ে যাবে। বাকি থাকবে শুধু তাই, যা সে আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে ব্যয় করেছে। ইসলাম যেভাবে চায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সেভাবে পরিচালনা করতে চাইলে এই চেতনার বিকাশ ও তা সদা সমুন্নত রাখার কোনো বিকল্প নেই। কারণ মানুষের কর্মকান্ডের অনুঘটক বা আসল চালিকাশক্তি তাই যা তাকে ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়ন্ত্রণ করে তার ইচ্ছা ও অভিপ্রায়কে এবং দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবণতাকে। আন্তর নিয়ন্ত্রণ যখন সহজ হয়ে যায় বাহ্য নিয়ন্ত্রণ তখন নস্যি। এই বিমূর্ত কথাই কুরআনে উলেখ হয়েছে বারবার। (ক) আর তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তা দুনিয়ার জীবনের ভোগ ও সৌন্দর্য মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তাই উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বুঝবে না। [. কাসাস : ৬০] (খ) নিশ্চয় যমীনের উপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম। [. কাহ্ফ : ০৭] (গ) সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভা। আর স্থায়ী সৎকাজ তোমার রবের নিকট প্রতিদানে উত্তম এবং প্রত্যাশাতেও উত্তম। [. কাহ্ফ : ৪৬]