hadith book logo

ইসলামি অর্থনীতি শান্তি ও সমৃদ্ধির অব্যর্থ ব্যবস্থা

লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

দ্বিতীয়ত : চারিত্রিক মূল্যবোধের প্রতি লক্ষ্য রাখা :

ইসলামি অর্থনীতি মানুষের চারিত্রিক মূল্যবোধের প্রতিও খেয়াল রাখে। এ জন্য এমনভাবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত করার অনুমতি কারো নেই যা চারিত্রিক মূল্যবোধ বিরোধী কিংবা এর সীমা অতিক্রমকারী। কারণ ইসলামি সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তিই হলো পরস্পর সৌহার্দ্য-ভালোবাসা এবং কল্যাণ পথে সাহায্য-সহযোগিতা। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। [. মায়েদা : ০২] অতএব ইসলামি অর্থনীতিতে কোনো হিংসা-দ্বেষ কিংবা ঝগড়া-কলহ সৃষ্টির অবকাশ নেই। এতে প্রশ্রয় নেই মিথ্যা-প্রতারণা অথবা ধোঁকা-বিশ্বাস ঘাতকতার। মানুষের হাতে যখন কোনো সম্পদ থাকবে তা সে মন্দ ও অশীলতার পথে কিংবা অবৈধ দেহ ভোগে ব্যয় করবে সে সুযোগও নেই এখানে। বরং সে তা খরচ করতে বাধ্য বৈধ খাতসমূহে। ব্যয় করবে বিপন্ন ও অভাবগ্রস্ত লোকের প্রতি। ব্যয় করবে নেকি ও পুণ্যের কাজে। তেমনি সে নিজ সম্পদের প্রবৃদ্ধি ঘটাতে চাইলে এমনভাবে তা করতে পারবে না যাতে মানুষের চরিত্র ধ্বংস হয় কিংবা সমাজের লোকদের পারস্পরিক বন্ধন ছিন্ন হয়। যেমন- মদ্যশালা বা পতিতালয় খোলা, নাইটক্লাব বা সুদি কারবারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা।

ইসলামি অর্থনীতি চারিত্রিক মূল্যবোধের প্রতি লক্ষ্য রাখে দুইভাবে। (ক) ইমান ও নৈতিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে। যেমন- সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। (খ) রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও আইনের শাসনের মাধ্যমে। যেমন- রাষ্ট্র কর্তৃক সুদি কারবার, নাইটক্লাব ও মদ্যশালা প্রতিষ্ঠা প্রতিরোধ করা ইত্যাদি।