১
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার গুরুত্ব
লেখকঃ জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০
আত্মীয়-স্বজনকে চেনা-জানা:
আত্মীয়-স্বজনকে চেনা-জানা একজন মুমিনের অবশ্যই কর্তব্য। তা হলেই কেবল আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা কারোর পক্ষে সম্ভবপর হবে। নতুবা নয়।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
تَعَلَّمُوْا مِنْ أَنْسَابِكُمْ مَا تَصِلُوْنَ بِهِ أَرْحَامَكُمْ ؛ فَإِنَّ صِلَةَ الرَّحِمِ مَحَبَّةٌ فِيْ الْأَهْلِ ، مَثْرَاةٌ فِيْ الْمَالِ ، مَنْسَأَةٌ فِيْ الْأَثَر
“তোমরা নিজ বংশ সম্পর্কে ততটুকুই জানবে, যাতে তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারো। কারণ, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করলে আত্মীয়-স্বজনদের ভালোবাসা পাওয়া যায় এবং ধন-সম্পদ বেড়ে যায় আর পরবর্তী স্মৃতি বাকী রেখে দেয়”। [তিরমিযী, হাদীস: ১৯৭৯]
আত্মীয়-স্বজনদেরকে সদকা করলে দু’টি সাওয়াব পাওয়া যায়: একটি সদকার সাওয়াব এবং অপরটি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার।
একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকে সদকা করার উপদেশ দিলে নিজ স্বামীদেরকেও সদকা করা যাবে কি না সে ব্যাপারে দু’ জন মহিলা সাহাবী বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:
«لَهُمَا أَجْرَانِ : أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ »
[স্বামীদেরকে দিলেও চলবে] “বরং তাতে দু’টি সাওয়াব রয়েছে: একটি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার সাওয়াব এবং আরেকটি সদকার সাওয়াব”। [বুখারী, হাদীস: ১৪৬৬ মুসলিম, হাদীস: ১০০০]
একদা মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না জানিয়ে একটি বাঁদীকে স্বাধীন করে দিলেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে সম্পর্কে জানালে তিনি বলেন:
« أَمَا إِنَّكِ لَوْ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ »
“জেনে রাখো, তুমি যদি বান্দিটিকে তোমার মামাদেরকে দিয়ে দিতে, তা হলে তুমি আরও বেশি সাওয়াব পেতে”। [বুখারী, ২৫৯২, ২৫৯৪ মুসলিম, হাদীস: ৯৯৯ আবু দাউদ, হাদীস: ১৬৯০]
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার বিশেষ গুরুত্বের কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সাহাবিদেরকে মিসরে অবস্থানরত তাঁরই আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালো ব্যবহারের ওসিয়ত করেন।
আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُوْنَ مِصْرَ ، وَهِيَ أَرْضٌ يُسَمَّى فِيْهَا الْقِيْرَاطُ ، فَإِذَا فَتَحْتُمُوْهَا فَأَحْسِنُوْا إِلَى أَهْلِهَا ، فَإِنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا أَوْ قَالَ : ذِمَّةً وَصِهْرًا »
“তোমরা অচিরেই মিশর বিজয় করবে। যেখানে কিরাতের [দিরহাম ও দীনারের অংশ বিশেষ] প্রচলন রয়েছে। যখন তোমরা তা বিজয় করবে তখন সে এলাকার অধিবাসীদের প্রতি দয়া করবে। কারণ, তাদের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি ও আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে”। [মুসলিম, হাদীস: ২৫৪৩] [ইসমাঈল এর মা হাজেরা ‘আলাইহাস সালাম সেখানকার] অথবা হয়তো বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কারণ, তাদের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি ও আমার শ্বশুর পক্ষীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। [রাসূলের স্ত্রী মারিয়া রাদিয়াল্লাহু আন্হা সেখানকার]।
অন্তত পক্ষে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে হলেও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে হবে।
আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আন্হুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« بُلُّوْا أَرْحَامَكُمْ وَلَوْ بِالسَّلاَمِ»
“অন্ততপক্ষে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে হলেও তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন সিক্ত করো”। [বায্যার, হাদীস: ১৮৭৭, ইবনু হিব্বান: ৭৫/১, আল-আহাদিস আস-সহীহা: ১৭৭৭]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
تَعَلَّمُوْا مِنْ أَنْسَابِكُمْ مَا تَصِلُوْنَ بِهِ أَرْحَامَكُمْ ؛ فَإِنَّ صِلَةَ الرَّحِمِ مَحَبَّةٌ فِيْ الْأَهْلِ ، مَثْرَاةٌ فِيْ الْمَالِ ، مَنْسَأَةٌ فِيْ الْأَثَر
“তোমরা নিজ বংশ সম্পর্কে ততটুকুই জানবে, যাতে তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারো। কারণ, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করলে আত্মীয়-স্বজনদের ভালোবাসা পাওয়া যায় এবং ধন-সম্পদ বেড়ে যায় আর পরবর্তী স্মৃতি বাকী রেখে দেয়”। [তিরমিযী, হাদীস: ১৯৭৯]
আত্মীয়-স্বজনদেরকে সদকা করলে দু’টি সাওয়াব পাওয়া যায়: একটি সদকার সাওয়াব এবং অপরটি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার।
একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকে সদকা করার উপদেশ দিলে নিজ স্বামীদেরকেও সদকা করা যাবে কি না সে ব্যাপারে দু’ জন মহিলা সাহাবী বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:
«لَهُمَا أَجْرَانِ : أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ »
[স্বামীদেরকে দিলেও চলবে] “বরং তাতে দু’টি সাওয়াব রয়েছে: একটি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার সাওয়াব এবং আরেকটি সদকার সাওয়াব”। [বুখারী, হাদীস: ১৪৬৬ মুসলিম, হাদীস: ১০০০]
একদা মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না জানিয়ে একটি বাঁদীকে স্বাধীন করে দিলেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে সম্পর্কে জানালে তিনি বলেন:
« أَمَا إِنَّكِ لَوْ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ »
“জেনে রাখো, তুমি যদি বান্দিটিকে তোমার মামাদেরকে দিয়ে দিতে, তা হলে তুমি আরও বেশি সাওয়াব পেতে”। [বুখারী, ২৫৯২, ২৫৯৪ মুসলিম, হাদীস: ৯৯৯ আবু দাউদ, হাদীস: ১৬৯০]
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার বিশেষ গুরুত্বের কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সাহাবিদেরকে মিসরে অবস্থানরত তাঁরই আত্মীয়-স্বজনের প্রতি ভালো ব্যবহারের ওসিয়ত করেন।
আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«إِنَّكُمْ سَتَفْتَحُوْنَ مِصْرَ ، وَهِيَ أَرْضٌ يُسَمَّى فِيْهَا الْقِيْرَاطُ ، فَإِذَا فَتَحْتُمُوْهَا فَأَحْسِنُوْا إِلَى أَهْلِهَا ، فَإِنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا أَوْ قَالَ : ذِمَّةً وَصِهْرًا »
“তোমরা অচিরেই মিশর বিজয় করবে। যেখানে কিরাতের [দিরহাম ও দীনারের অংশ বিশেষ] প্রচলন রয়েছে। যখন তোমরা তা বিজয় করবে তখন সে এলাকার অধিবাসীদের প্রতি দয়া করবে। কারণ, তাদের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি ও আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে”। [মুসলিম, হাদীস: ২৫৪৩] [ইসমাঈল এর মা হাজেরা ‘আলাইহাস সালাম সেখানকার] অথবা হয়তো বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কারণ, তাদের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি ও আমার শ্বশুর পক্ষীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। [রাসূলের স্ত্রী মারিয়া রাদিয়াল্লাহু আন্হা সেখানকার]।
অন্তত পক্ষে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে হলেও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে হবে।
আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আন্হুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
« بُلُّوْا أَرْحَامَكُمْ وَلَوْ بِالسَّلاَمِ»
“অন্ততপক্ষে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে হলেও তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন সিক্ত করো”। [বায্যার, হাদীস: ১৮৭৭, ইবনু হিব্বান: ৭৫/১, আল-আহাদিস আস-সহীহা: ১৭৭৭]