১
প্রতিবেশীর হক
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
প্রতিবেশী কে?
প্রতিবেশী শব্দটি একটি ব্যাপক শব্দ। প্রতিবেশী বলতে মুসলিম, কাফের, নেক বান্দা, ফাসেক, বন্ধু, শত্রু, পরদেশী, স্বদেশী, উপকারী, ক্ষতি সাধনকারী, আত্মীয়, অনাত্মীয়, নিকটতম বা তুলনামূলক একটু দূরের প্রতিবেশী সবাই অন্তর্ভুক্ত। অনেকেই মনে করে প্রতিবেশী বলতে শুধু ঘরের পাশের প্রতিবেশী বুঝানো হয়ে থাকে। বিষয়টি এমন নয়, যে শুধুমাত্র ঘরের পাশের প্রতিবেশীকেই প্রতিবেশী বলা হবে আর কাউকে নয়। বরং প্রতিবেশী বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন-
কর্মক্ষেত্রে এক সাথে কাজ করলে সে আমার একজন প্রতিবেশী, ছাত্র জীবনে যাদের সাথে পড়া লেখা উঠাবসা করি সেও আমার প্রতিবেশী, আমার জমিনের সাথে যদি কারোও জমি থাকে সে আমার জমিনের প্রতিবেশী, পাশের দোকানদার সে আমার দোকানের প্রতিবেশী, এক সাথে বাজারে গেলে সে আমার বাজারের প্রতিবেশী, এমনকি যদি আমি কোনো গাড়ি বা বিমানে একজন ভাইয়ের সাথে একসাথে বসি সেও আমার কিছু সময়ের জন্য একজন প্রতিবেশী। এ বিষয়ে রয়েছে হাদিসে ব্যাপক দিক নির্দেশনা। যেমন,
جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «الْجِيرَانُ ثَلَاثَةٌ، جَارٌ لَهُ حَقٌ وَاحِدٌ، وَهُوَ أَدْنَى الجيران حقاً . جار لَهُ حَقَّانِ، وَجَارٌ لَهُ ثَلَاثَةُ حُقُوقٍ وَهُوَ أفضل الجيران حقاً، فأما الجار الَّذِي لَهُ حَقٌّ وَاحِدٌ فَجَارٌ مُشْرِكٌ لَا رحم له، له حق الجوار، وأما الجار الَّذِي لَهُ حَقَّانِ فَجَارٌ مُسْلِمٌ لَهُ حَقُّ الْإِسْلَامِ، وَحَقُّ الْجِوَارِ، وَأَمَّا الَّذِي لَهُ ثَلَاثَةُ حُقُوقٍ فَجَارٌ مُسْلِمٌ ذُو رَحِمٍ لَهُ حَقُّ الجوار، وحق الإسلام، وحق الرحم» .
“জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “প্রতিবেশী সাধারণত তিন শ্রেণীর হয়ে থাকে। ১. যার এক দিক থেকে হক। সে হকের দিক দিয়ে সর্ব কনিষ্ঠ। ২. যার দুই দিক থেকে হক হয়ে থাকে। ৩. যার তিন দিক থেকে হক হয়ে থাকে, এ হল, সর্বোত্তম প্রতিবেশী। যার এক দিক থেকে হক সে হল, অনাত্মীয় বিধর্মী প্রতিবেশী। এ ব্যক্তির হক শুধু প্রতিবেশী হওয়ার ভিত্তিতে আত্মীয়তার ভিত্তিতে নয়। আর যার হক দুই দিক দিয়ে, সে হল, মুসলিম প্রতিবেশী, যার সাথে আত্মীয়তার কোনও সম্পর্ক নেই। এ ব্যক্তির হক প্রতিবেশী এবং মুসলিম হওয়ার দিক থেকে। আর যার হক তিন দিক থেকে, সে হল, মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশী। এ ব্যক্তির হক প্রতিবেশী হিসেবে, মুসলিম হিসেবে এবং ও আত্মীয় হওয়ার দিক থেকে”। [তাফসীরে ইবনে কাসীর, সুরা নিসার ৩৬ নং আয়াতের তাফসীর দেখুন।]
সাধারণত পাশের ঘরের লোককে প্রতিবেশী বলা হয়ে থাকে। তবে পাশের ঘর বলতে কি বুঝায় এ বিষয়ে বিভিন্ন আলেমদের মধ্যে একাধিক ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে তোমার আওয়াজ শুনতে পায়, সে তোমার প্রতিবেশী। আবার কেউ কেউ বলেন, যে তোমার সাথে এক মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করে সে তোমার প্রতিবেশী। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রতিবেশীর ব্যাখ্যায় বলেন, “তোমার ঘরের চার পাশের ৪০টি ঘরের অধিবাসীরা তোমার প্রতিবেশী”। [দেখুন: উমদাতুল কারী, ওসিয়ত অধ্যায়.]
ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. মতে প্রতিবেশী হল, তোমার ঘরের চার পাশ থেকে চল্লিশটি ঘরের অধিবাসী।
আবার কেউ কেউ বলেন, প্রতিবেশীর নির্ধারিত কোনো সংজ্ঞা নাই। বিষয়টি সামাজিক ও পারিভাষিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। সমাজ যাদের প্রতিবেশী বলে তারাই প্রতিবেশী এবং পরিভাষায় যাদের প্রতিবেশী বলে তারাই প্রতিবেশী।
তবে প্রত্যেক শ্রেণীই যেহেতু প্রতিবেশী তাই প্রত্যেকের হকের প্রতি যত্নবান হওয়া তাদের গুরুত্ব দেওয়া খুবই জরুরি।
কর্মক্ষেত্রে এক সাথে কাজ করলে সে আমার একজন প্রতিবেশী, ছাত্র জীবনে যাদের সাথে পড়া লেখা উঠাবসা করি সেও আমার প্রতিবেশী, আমার জমিনের সাথে যদি কারোও জমি থাকে সে আমার জমিনের প্রতিবেশী, পাশের দোকানদার সে আমার দোকানের প্রতিবেশী, এক সাথে বাজারে গেলে সে আমার বাজারের প্রতিবেশী, এমনকি যদি আমি কোনো গাড়ি বা বিমানে একজন ভাইয়ের সাথে একসাথে বসি সেও আমার কিছু সময়ের জন্য একজন প্রতিবেশী। এ বিষয়ে রয়েছে হাদিসে ব্যাপক দিক নির্দেশনা। যেমন,
جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «الْجِيرَانُ ثَلَاثَةٌ، جَارٌ لَهُ حَقٌ وَاحِدٌ، وَهُوَ أَدْنَى الجيران حقاً . جار لَهُ حَقَّانِ، وَجَارٌ لَهُ ثَلَاثَةُ حُقُوقٍ وَهُوَ أفضل الجيران حقاً، فأما الجار الَّذِي لَهُ حَقٌّ وَاحِدٌ فَجَارٌ مُشْرِكٌ لَا رحم له، له حق الجوار، وأما الجار الَّذِي لَهُ حَقَّانِ فَجَارٌ مُسْلِمٌ لَهُ حَقُّ الْإِسْلَامِ، وَحَقُّ الْجِوَارِ، وَأَمَّا الَّذِي لَهُ ثَلَاثَةُ حُقُوقٍ فَجَارٌ مُسْلِمٌ ذُو رَحِمٍ لَهُ حَقُّ الجوار، وحق الإسلام، وحق الرحم» .
“জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “প্রতিবেশী সাধারণত তিন শ্রেণীর হয়ে থাকে। ১. যার এক দিক থেকে হক। সে হকের দিক দিয়ে সর্ব কনিষ্ঠ। ২. যার দুই দিক থেকে হক হয়ে থাকে। ৩. যার তিন দিক থেকে হক হয়ে থাকে, এ হল, সর্বোত্তম প্রতিবেশী। যার এক দিক থেকে হক সে হল, অনাত্মীয় বিধর্মী প্রতিবেশী। এ ব্যক্তির হক শুধু প্রতিবেশী হওয়ার ভিত্তিতে আত্মীয়তার ভিত্তিতে নয়। আর যার হক দুই দিক দিয়ে, সে হল, মুসলিম প্রতিবেশী, যার সাথে আত্মীয়তার কোনও সম্পর্ক নেই। এ ব্যক্তির হক প্রতিবেশী এবং মুসলিম হওয়ার দিক থেকে। আর যার হক তিন দিক থেকে, সে হল, মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশী। এ ব্যক্তির হক প্রতিবেশী হিসেবে, মুসলিম হিসেবে এবং ও আত্মীয় হওয়ার দিক থেকে”। [তাফসীরে ইবনে কাসীর, সুরা নিসার ৩৬ নং আয়াতের তাফসীর দেখুন।]
সাধারণত পাশের ঘরের লোককে প্রতিবেশী বলা হয়ে থাকে। তবে পাশের ঘর বলতে কি বুঝায় এ বিষয়ে বিভিন্ন আলেমদের মধ্যে একাধিক ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে তোমার আওয়াজ শুনতে পায়, সে তোমার প্রতিবেশী। আবার কেউ কেউ বলেন, যে তোমার সাথে এক মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করে সে তোমার প্রতিবেশী। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রতিবেশীর ব্যাখ্যায় বলেন, “তোমার ঘরের চার পাশের ৪০টি ঘরের অধিবাসীরা তোমার প্রতিবেশী”। [দেখুন: উমদাতুল কারী, ওসিয়ত অধ্যায়.]
ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. মতে প্রতিবেশী হল, তোমার ঘরের চার পাশ থেকে চল্লিশটি ঘরের অধিবাসী।
আবার কেউ কেউ বলেন, প্রতিবেশীর নির্ধারিত কোনো সংজ্ঞা নাই। বিষয়টি সামাজিক ও পারিভাষিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। সমাজ যাদের প্রতিবেশী বলে তারাই প্রতিবেশী এবং পরিভাষায় যাদের প্রতিবেশী বলে তারাই প্রতিবেশী।
তবে প্রত্যেক শ্রেণীই যেহেতু প্রতিবেশী তাই প্রত্যেকের হকের প্রতি যত্নবান হওয়া তাদের গুরুত্ব দেওয়া খুবই জরুরি।